ইসলামের হক حق المسلم


ইসলামের হক    حق المسلم
عن أبي هريرة- رَضِيَ اللهُ عَنْهُ – قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ- صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ- حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ، قِيْلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ إذَا لَقِيْتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَ إذَا دَعَاكَ فَأجِبْهُ، وَ إذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَ إذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمِّتْهُ، وَ إذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَ إذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ(৪০২৩)
আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন যে রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন, একজন মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। প্রশ্ন করা হল, হে আল¬াহর রাসূল ! সেগুলো কি কি ? বললেন, (এক) সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা, (দুই) আমন্ত্রণ করলে গ্রহণ করা, (তিন) উপদেশ চাইলে উপদেশ দেওয়া, (চার) হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল¬াহ বললে উত্তরে ইয়ারহামুকাল¬াহ বলা, (পাঁচ) অসুস্থ হলে সাক্ষাত করে খোঁজ খবর নেয়া (ছয়) মৃত্যুবরণ করলে জানাজায় উপস্থিত থাকা।
আভিধানিক ব্যাখ্যা
حَقُّ : হক বলতে ঐ সব কাজ বুঝানো হয়, যা পালন করা অপরিহার্য। যথা ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে মোয়াক্কাদা—ইত্যাদি।
سِتٌّ : এ হাদিসে মুসলমানের ছয়টি হকের কথা বলা হয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে মুসলমানের হক ছয়টির মাঝেই সীমাবদ্ধ। বরং উদ্দেশ্য হল, মুসলমানের হকসমূহের অন্যতম ছয়টি এই…। অন্যথায় বিশুদ্ধ হাদিসে আলোচিত হক ছাড়াও অন্য হকের কথা বলা হয়েছে।
إذَا لَقِيْتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ: যদি মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ হয়, অথবা তার ঘরে প্রবেশের প্রয়োজন হয়। তাহলে তাকে বল—السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
و السلام: এটা আল¬াহর গুণবাচক নাম। অর্থাৎ, হে মোমিন তুমি আল¬াহর আশ্রয়ে থাক। কোন কোন আলেম বলেছেন, السلام অর্থাৎ নিরাপত্তা। তখন পূর্ণ অর্থ হবে—হে মোমিন ! তোমার জন্য আল¬াহর নিরাপত্তা অনিবার্য হোক।
وَ إذَا دَعَاكَ অর্থাৎ শরিয়ত সম্মত কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে তা গ্রহণ কর। যেমন অলিমা বা বউভাত—ইত্যাদি।
وَ إذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ : অর্থাৎ যদি কেউ উপদেশ চায় তাহলে উপদেশ দাও। হাদিসের বাহ্যিক অর্থে প্রতীয়মান হয় যে, উপদেশপ্রার্থীকে উপদেশ প্রদান করা ফরজ। আর যে প্রার্থী নয়, তাকে উপদেশ প্রদান মানদুব তথা নফল। যেহেতু তা ভাল কাজের পথ প্রদর্শনের অন্তর্গত।
فَشَمِّتْهُ কোন কোন বর্ণনায় الشين এর স্থলে السين দ্বারা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাঁচি দেয়া ব্যক্তির জন্য আল¬াহর নিকট দোয়া করা।
فَعُدْهُ অর্থাৎ অসুস্থ মুসলমানের সাথে সাক্ষাত করে খোঁজ খবর গ্রহণ কর।
وَ إذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ মুসলমানের মৃত্যুর সংবাদ পেলে তার নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ কর। এখানে আল¬াহর রাসূল উম্মতকে নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

Continue reading

“কালেমা” মেনে চলার শর্তাবলী


এক : কালেমা তাইয়েবার অর্থ জানা। অর্থাৎ এ কালেমার দুটো অংশ রয়েছে তা পরিপূর্ণভাবে জানা।

সে দুটো অংশ হলো:

১.    কোন হক মা’বুদ নেই

২.    আল্লাহ ছাড়া (অর্থাৎ তিনিই শুধু মা’বুদ)

দুই : কালেমা তাইয়েবার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

অর্থাৎ সর্ব-প্রকার সন্দেহ ও সংশয়মুক্ত পরিপূর্ণ বিশ্বাস থাকা।

তিন : কালেমার উপর এমন একাগ্রতা ও নিষ্ঠা রাখা, যা সর্বপ্রকার শিরকের পরিপন্থী।

চার : কালেমাকে মনে প্রাণে সত্য বলে জানা, যাতে কোন প্রকার মিথ্যা বা কপটতা না থাকে।

পাঁচ : এ কালেমার প্রতি ভালবাসা পোষণ এবং কালেমার অর্থকে মনে প্রাণে মেনে নেয়া ও তাতে খুশী হওয়া।

ছয় : এই কালেমার অর্পিত দায়িত্ব সমূহ মেনে নেয়া অর্থাৎ এই কালেমা কর্তৃক আরোপিত ওয়াজিব কাজসমূহ শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য এবং তাঁরই সন্তুষ্টির নিমিত্তে সমাধা করা।

সাত :মনে-প্রাণে এই কালেমাকে গ্রহণ করা যাতে কখনো বিরোধিতা করা না হয়।

Continue reading

মৃত ব্যক্তির নিকট সওয়াব পৌঁছান


প্রশ্ন :

সূরা ইখলাস পাঠ করে কেউ যদি মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, তাহলে মৃত ব্যক্তি কি উপকৃত হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কবরের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় কি করতেন, কবরবাসীর জন্য তিনি কি তিলাওয়াত করতেন, না শুধু দোয়া করতেন?

উত্তর :
প্রথমত : কেউ যদি কুরআন তিলাওয়াত করে মৃত ব্যক্তিকে ঈসালে সাওয়াব করে, আলেমদের বিশুদ্ধ মতানুযায়ী এ সাওয়াব মৃত ব্যক্তির নিকট পৌঁছায় না, কারণ এটা মৃত ব্যক্তির আমল নয়। আল্লাহ তাআলা বলছেনে :
{আর এই যে, মানুষ যা চেষ্টা করে, তাই সে পায়।} {সূরা নাজম: ৩৯}

এ তিলাওয়াত জীবীত ব্যক্তির চেষ্টা বা আমল, এর সাওয়াব সে নিজেই পাবে, অন্য কাউকে সে ঈসালে সাওয়াব করার অধিকার রাখে না। এ সংক্রান্ত সৌদি আরবরে “ইলমি গবষেণা ও ফতোয়ার স্থায়ী ওলামা পরষিদ” এর একটি বিস্তারিত ফতোয়া রয়েছে নিচে তা উল্লেখ করা হলো :

Continue reading

ঈদের পর করণীয়


প্রিয় পাঠক, আমরা রমজানের সমাপ্তি নিয়ে কয়েকটি ধাপে একটু চিন্তা করি, হয়তো আল্লাহ তাআলা আমাদের এর থেকে উপকৃত হওয়ার তওফিক দান করবেন।

প্রথম ধাপ : আমরা রমজান থেকে কী উপার্জন করলাম?

আমরা কি রমজানের সুশোভিত দিন ও আনন্দ মুখর রাতগুলো বিদায় জানাচ্ছি?! আমরা কি কুরআনের মাস, তাকওয়ার মাস, ধৈর্যের মাস, জিহাদ, রহমত, মাগফেরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির মাস বিদায় জানাচ্ছি?!

এখানে আমাদের একটি বিষয় খুব ভাল করে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, এগুলো শুধু রমজানের সঙ্গে খাস নয়, বরং প্রত্যেক দিন, প্রতিটি সময়ই আল্লাহর রহমত ও মাগফেরাত পাওয়া যেতে পারে। প্রতিটি মুহূর্তেই তাকওয়া অর্জন ও কুরআনের আদর্শে আদর্শবান হওয়া প্রয়োজন। তবে রমজান মাসে নেকির পরিমাণ খুব বৃদ্ধি করা হয়, নেকি ও এবাদতের সংখ্যা এতে বেড়ে যায়। আল্লাহ তাআলা বলেন,

﴿ وَرَبُّكَ يَخْلُقُ مَا يَشَاء وَيَخْتَارُ [القصص:67].

তোমার রব যা ইচ্ছা তাই সৃষ্টি করেন এবং যা ইচ্ছা নিজের জন্য তিনি মনোনিত করেন। (কাসাস : ৬৭)

Continue reading

ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা


মুহাম্মাদ শফীকুল ইসলাম

জন্মের মাধ্যমে জীবনের শুরু আর মৃত্যুর মাধ্যমে ইহজীবনের পরিসমাপ্তি এবং পরকালীন জীবনের যাত্রা আরম্ভ হয়। কবর বা বারযাখী জীবনের পরে মানুষ ক্বিয়ামতে পার্থিব জীবনের কর্মের হিসাব দিয়ে অনন্ত জীবনে সুখ-শান্তি কিংবা আযাব-শাস্তি  লাভ করবে। আর সেই অনন্ত জীবনের প্রবেশ দ্বার হচ্ছে ক্বিয়ামত। এটা এক ভয়াবহ বিষয়, এক কঠিনতম স্থান। ক্বিয়ামতের ভয়াবহতা থেকে মানুষ যাতে সতর্ক-সাবধান হয়, এজন্য আলোচ্য নিবন্ধের অবতারণা।
ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে?
ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সংবাদ কেবলমাত্র আল্লাহ তা‘আলা জানেন। তিনি বলেন, يَسْأَلُوْنَكَ عَنِ السَّاعَةِ أَيَّانَ مُرْسَاهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ رَبِّيْ لاَ يُجَلِّيهَا لِوَقْتِهَا إِلاَّ هُوَ ثَقُلَتْ فِي السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضِ لاَ تَأْتِيْكُمْ إِلاَّ بَغْتَةً يَسْأَلُوْنَكَ كَأَنَّكَ حَفِيٌّ عَنْهَا قُلْ إِنَّمَا عِلْمُهَا عِنْدَ اللهِ وَلَـكِنَّ أَكْثَرَ النَّاسِ لاَ يَعْلَمُوْنَ-
‘আপনাকে লোকেরা জিজ্ঞেস করে, ক্বিয়ামত কখন সংঘটিত হবে? আপনি বলে দিন, এ খবর তো আমার পালনকর্তার নিকটেই রয়েছে। তিনি তা অনাবৃত করে দেখাবেন নির্ধারিত সময়ে। আসমান ও যমীনের জন্য এটা অতি কঠিন বিষয়। তোমাদের উপর তা হঠাৎ এসে যাবে। তারা আপনাকে জিজ্ঞেস করতে থাকে, যেন আপনি তার অনুসন্ধানে লেগে আছেন। বলে দিন, এ সংবাদতো কেবল আল্লাহ্র নিকটেই রয়েছে। কিন্তু তা অধিকাংশ লোক উপলব্ধি করে না’ (আ‘রাফ ১৮৭)। ক্বিয়ামত কখন, কোন তারিখে সংঘটিত হবে তা নির্দিষ্ট করে না জানা গেলেও তা সংঘটিত হওয়ার দিন সম্পর্কে হাদীছ এসেছে,
عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَيْرُ يَوْمٍ طَلَعَتْ فِيْهِ الشَّمْسُ يَوْمُ الْجُمُعَةِ فِيْهِ خُلِقَ آدَمُ وَفِيْهِ أُهْبِطَ وَفِيْهِ تِيْبَ عَلَيْهِ وَفِيْهِ مَاتَ وَفِيْهِ تَقُوْمُ السَّاعَةُ، وَمَا مِنْ دَابَّةٍ إِلاَّ وَهِيَ مُسِيْخَةٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ مِنْ حِيْنَ تُصْبِحُ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ شَفَقًا مِنَ السَّاعَةِ إِلاَّ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ وَفِيْهِ سَاعَةٌ لَا يُصَادِفُهَا عَبْدٌ مُسْلِمٌ وَهُوَ يُصَلِّي يَسْأَلُ اللهَ حَاجَةً إِلاَّ أَعْطَاهُ إِيَّاهَا-
আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন,  ‘সূর্য উদিত হয় এমন সকল দিন অপেক্ষা জুম‘আর দিন উত্তম। এ দিনে আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ দিনেই তাঁকে দুনিয়াতে ক সাগ নামিয়ে দেয়া হয়েছে। এ দিনেই তাঁর তওবা কবুল করা হয়েছে। এ দিনেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন এবং এ দিনেই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। ক্বিয়ামত সংঘটিত হওয়ার ভয়ে জুম‘আর দিন ফজর হ’তে সূর্যোদয় পর্যন্ত জ্বিন ও মানুষ ব্যতীত সকল প্রাণী চিৎকার করতে থাকে। জুম‘আর দিন এমন একটা সময় আছে, যদি কোন মুসলমান ছালাতরত অবস্থায় তার নাগাল পায় এবং আল্লাহ্র নিকট কিছু চায়, তাহ’লে নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন’।

Continue reading

যাকাতুল ফিতর


সংকলনে : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
تأليف : عبد الله الشهيد عبد الرحمن

সম্পাদনা : নুমান বিন আবুল বাশার
مراجعة : نعمان بن أبو البشر

আমাদের প্রতি আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের একটি অনুগ্রহ এই যে তিনি আমাদের ইবাদত-বন্দেগিতে কোন ত্রুটি হলে তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন। যেমন নফল নামাজ দ্বারা ফরজ নামাজের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ব্যবস্থা রেখেছেন। এমনিভাবে সিয়াম পালনে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে তার ক্ষতি পুষিয়ে দেয়ার জন্য যাকাতুল ফিতর আদায়ের বিধান দিয়েছেন। সাথে সাথে দরিদ্র ও অনাহার ক্লিষ্ট মানুষেরা যেন ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে সে ব্যবস্থাও দিয়েছেন। কেউ যেন অর্থাভাবে ঈদের খুশি থেকে বঞ্চিত না থাকে সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ইসলামি সমাজকে এ বিধান দিয়েছেন। এ ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে থাকে। তিনিই তো সিয়াম পূর্ণ করা ও রমজানের রাতে কিয়ামসহ অন্যান্য নেক আমল এবং কল্যাণকর কাজ করার তওফিক দিয়েছেন।

যাকাতুল ফিতরের বিধান :
হাদিসে এসেছে,
عن ابن عباس رضى الله عنهما قال: فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر طهرة للصائم من اللغو والرفث وطعمة للمساكين، فمن أداها قبل الصلاة فهي مقبولـة، ومن أداها بعد الصلاة فهي صدقة من الصدقات.
رواه أبو داود
‘ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সিয়াম পালনকারীর জন্য সদকাতুল ফিতর আদায় অপরিহার্য করে দিয়েছেন। যা সিয়াম পালনকারীর অনর্থক কথা ও কাজ পরিশুদ্ধকারী ও অভাবী মানুষের জন্য আহারের ব্যবস্থা হিসেবে প্রচলিত। যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পূর্বে তা আদায় করবে তা সদকাতুল ফিতর হিসেবে গ্রহণযোগ্য হবে। আর যে ব্যক্তি ঈদের সালাতের পর আদায় করবে তা সাধারণ সদকা বলে গণ্য হবে। (আবু দাউদ)
অতএব সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। আল্লাহর রাসূল স. যা কিছু ওয়াজিব করেছেন তা পালন করা উম্মতের জন্য অপরিহার্য। আল্লাহর রাব্বুল আলামিন বলেন:—
مَنْ يُطِعِ الرَّسُولَ فَقَدْ أَطَاعَ اللَّهَ وَمَنْ تَوَلَّى فَمَا أَرْسَلْنَاكَ عَلَيْهِمْ حَفِيظًا . (النساء :80)
‘যে রাসূলের আনুগত্য করল সে তো আল্লাহরই আনুগত্য করল। এবং যে মুখ ফিরিয়ে নিল আমি তোমাকে তাদের উপর তত্ত্বাবধায়ক পাঠাইনি।’ (সূরা আন-নিসা : ৮০)
অতএব রাসূল যা নির্দেশ দিয়েছেন তা মূলত আল্লাহরই নির্দেশ। আল্লাহ বলেন:—
أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ. (النساء : 59)
‘তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং আনুগত্য কর রাসূলের।’ সূরা আন-নিসা: ৫৯

যাকাতুল ফিতর কার উপর ওয়াজিব ?
যার কাছে ঈদের দিন স্বীয় পরিবারের একদিন ও একরাতের ভরন-পোষণের খরচ বাদে এক সা’ পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী থাকবে তার উপরই সদকাতুল ফিতর ফরজ হবে। যার উপর সদকাতুল ফিতর ফরজ তিনি নিজের পক্ষ থেকে যেমন আদায় করবেন তেমনি নিজের পোষ্যদের পক্ষ থেকেও আদায় করবেন।

যাকাতুল ফিতর এর পরিমাণ :
যা কিছু প্রধান খাদ্য হিসেবে স্বীকৃত যেমন গম, যব, ভুট্টা, চাউল, খেজুর ইত্যাদি থেকে এক সা’ পরিমাণ দান করতে হবে। হাদিসে এসেছে—
عن ابن عمر رضى الله عنهما قال : فرض رسول الله صلى الله عليه وسلم زكاة الفطر من رمضان، صاعا من تمر أو صاعا من شعير. رواه البخاري ومسلم
ইবনে উমার রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন : ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অপরিহার্য করে দিয়েছেন রমজানের জাকাতুল ফিতর হিসেবে এক সা’ খেজুর অথবা এক সা’ গম।’ (বোখারি ও মুসলিম)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর যুগের সা’-র হিসেবে : এক সা’-তে ২ কেজি ৪০ গ্রাম।

কখন আদায় করবেন যাকাতুল ফিতর ?
সদকাতুল ফিতর আদায় করার দুটো সময় রয়েছে। একটি হল উত্তম সময় অন্যটি হল বৈধ সময়। উত্তম সময় হল ঈদের দিন ঈদের সালাতের পূর্বে আদায় করা। যেমন হাদিসে এসেছে—
عن ابن عمر رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم أمر بزكاة الفطر قبل خروج الناس إلى الصلاة. رواه مسلم
‘ইবনে উমার থেকে বর্ণিত যে, রাসূলুল্লাহ স. ইদগাহে যাওয়ার পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। ( মুসলিম)
সদকাতুল ফিতর আদায় করার সুযোগ দেয়ার জন্যইতো ঈদুল ফিতরের সালাত একটু বিলম্বে আদায় করা মোস্তাহাব। সদকাতুল ফিতর আদায় করার বৈধ সময় হল: যদি কেউ ঈদের দু একদিন পূর্বে সদকাতুল ফিতর আদায় করে দেয় তবে আদায় হয়ে যাবে। সহি বোখারিতে আছে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর এ রকম আদায় করতেন। তবে কোন সংগত কারণ ব্যতীত ঈদের সালাতের পরে আদায় করলে সদকাতুল ফিতর হিসেবে আদায় হবে না বরং সাধারণ নফল সদকা হিসেবে আদায় হবে। ওজর বা বিশেষ অসুবিধায় কেউ যদি ঈদের সালাতের পূর্বে আদায় করতে না পারে তবে সে ঈদের সালাতের পর আদায় করবে।

যাকাতুল ফিতর কাকে দেবেন ?
নিজ শহরের অভাবী ও দরিদ্র মানুষদের মাঝে সদকাতুল ফিতর আদায় করবেন। যারা জাকাত গ্রহণের অধিকার রাখে এমন অভাবী লোকদেরকে সদকাতুল ফিতর প্রদান করতে হবে। একজন দরিদ্র মানুষকে একাধিক ফিতরা দেয়া যেমন জায়েজ আছে তেমনি একটি ফিতরা বণ্টন করে একাধিক মানুষকে দেয়াও জায়েজ।

 

********************

চাঁদ দেখা ও সন্দেহের দিন রোজা রাখা প্রসঙ্গে শরীয়তের বিধান


রোজা ইসলামি শরিয়তের শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিধানই নয় বরং ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। সারা বছরে শুধু রমজান মাসেই রোজা রাখা ফরজ।

তবে রোজা ফরজ হওয়ার সর্ম্পক কেবল চান্দ্র মাসের সাথে। আর ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুসারে মাসের হিসাবও হয় চাঁদের হিসাব অনুসারে। তাই রোজার শুরু এবং শেষ চাঁদ দেখা এবং না দেখার সাথেই সম্পৃক্ত। চাঁদ দেখা গেলে রোজা রাখতে হবে এবং চাঁদ দেখা গেলে রোজা ছাড়তে হবে ।

এটা দ্বীন ইসলামের বিশেষ একটি বৈশিষ্ট্য। এ ধরনের বৈশিষ্ট্য ইসলামের সার্বজনীনতা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রমাণ করে, এবং তা সমগ্র দুনিয়ার সকল মানুষের জন্য এবং সর্ব কালের জন্য প্রজোয্য বলে নির্দেশ করে।

কারণ, বর্তমান দুনিয়ার মানুষ সাধারণত বস্তুর্নিভর। তাই তারা প্রত্যক্ষ কোন মাধ্যম বা চাক্ষুষ কোন প্রমাণকে যত তাড়াতাড়ি বা সহজে মেনে নেয় অন্য কিছুকে ততটা মেনে নেয় না ।

ফলে আল্লাহ চাঁদ দেখার সাথে ইসলামের অনেক ইবাদতকেই সম্পৃক্ত করেছেন।

عن ابن عمر رضي الله عنهما- قال: تراءى الناس الهلال؛ فأخبرت رسول الله صلي الله عليه و سلم أني رأيـته، فصـامه وأمـر النـاس بصـيامه رواه أبوداود(2342)

ইবনে ওমর রা. হতে বর্ণিত : তিনি বলেন, মানুষ সম্মিলিতভাবে চাঁদ দেখতে লাগল, তাদের মাঝে আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এসে সংবাদ প্রদান করি যে, আমি চাঁদ দেখেছি। এ সংবাদের উপর ভিত্তি করে রাসূল নিজে রোজা রাখেন, এবং সকলকে রোজা রাখার নির্দেশ দেন। আবু দাউদ : ২৩৪। Continue reading

Islamic books, bangla/bengali islamic website, islami boi, free PDF bangla/bengali islamic books at http://islamhousebd.wordpress.com/


Islam House BD is free Islamic bangla pdf book site. We ask Allah Ta’alah to bless all Muslims in the world who struggle for truth, freedom and the establishment of our Deen. May Allah Almighty appeases the sufferings of all our brothers and sisters who are put to trials. Salafi bangla Islamic pdf book our main service. Taltala hut, Noapara, Ovaynagor,Jessore, Bangladesh, 7460.

http://islamhousebd.wordpress.com/

https://pdfislamicbook.wordpress.com/