ফিলিস্তীন : এক অন্তহীন কান্নার প্রস্রবণ


-আব্দু্ল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক

শুরুকথা : ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী ভূখন্ড ফিলিস্তীন বা প্যালেস্টাইন মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী তথা সকল ধর্মাবলম্বীর নিকট একটি পবিত্র ভূমি। সুদীর্ঘ ইতিহাস বিজড়িত ফিলিস্তীন মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। অথচ জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়া বেষ্টিত এ ভূখন্ডের প্রতিটি বালুকণার সাথে মিশে আছে ছোপ ছোপ রক্ত। ক্রসেড যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ছোট্ট অঞ্চলটি আজ ইসরাঈল নামক এক আস্ত হায়েনার করতলগত। গত ৬০ বছর থেকে ফিলিস্তীনীদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে আমেরিকার অনৈতিক সমর্থনপুষ্ট ইসরাঈল। অন্যদিকে সারা বিশ্বের মোড়লরা কেউবা এ অন্যায়ের সহযোগিতা করছে, কেউবা কাপুরুষের ন্যায় চোখ বুজে সহ্য করছে এই হোলি খেলা। এ বছরের ৩১ মে সারা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এ ইহুদী রাষ্ট্রটি তার আসল চেহারা আরেকবার উন্মোচন করল। গাজার ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত, ভুখা-নাঙ্গা মানুষের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দেওয়ার জন্য রওয়ানা হয় তুর্কী ত্রাণবাহী জাহাজ ফ্রিডম ফ্লোটিলা মাভি মারমারা। গাজার উপকণ্ঠে পৌঁছার পূর্বেই ইসরাঈলী সন্ত্রাসীরা এই জাহাজে বর্বর হামলা চালিয়ে ৯ জন তুর্কী মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করে। এই গণহত্যা সারা বিশ্বের মানুষকে আরো একবার ইসরাঈল সম্পর্কে ভাবাতে শুরু করে।
ইহুদী জাতির পরিচয় :
ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইহুদীদের সম্পর্কে বলা প্রয়োজন। কেননা ইহুদী রাষ্ট্র হিসাবেই ইসরাঈলের জন্ম। ইহুদীদের প্রধান নবী হলেন মূসা (আঃ), যার কিতাব হল তাওরাত। ইহুদীরা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, যার নাম তাদের কাছে জেহোভা। এখান থেকেই ইহুদী নামের উৎপত্তি। কারো মতে, ইহুদীদের অপর নাম বনী ইসরাঈল। ইসরাঈল মূলত ইয়াকুব (আঃ)-এর অপর নাম। তাঁর মোট ১২ জন সন্তান ছিল। ১২ ভাইয়ের বড় ইয়াহুদার নামানুসারেই বনী ইসরাঈলকে ‘ইহুদী’ বলা হয়। বনু ইসরাঈলরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে আল্লাহ তাদের হেদায়াতের জন্য মূসা (আঃ)-কে তাওরাত সহ প্রেরণ করেন। বনী ইসরাঈলের উপর আল্লাহ্র ছিল অগণিত নিয়ামত, অফুরন্ত অনুগ্রহ। পবিত্র কুরআনে প্রায় ৪৩টি স্থানে বনী ইসরাঈলের আলোচনা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ১৬টি স্থানে বনু ইসরাঈলের উপর আল্লাহ প্রদত্ত নে‘আমতরাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যখন আমি সমুদ্রকে পৃথক করে দিলাম অতঃপর তাদেরকে রক্ষা করলাম এবং ফেরাঊনকে ডুবিয়ে দিলাম’ (বাক্বারাহ ৫০)। তাদেরকে প্রদত্ত আরো নে‘আমতসমূহ যেমন- রাজাধিপতির মর্যাদা প্রদান (মায়েদাহ ৬০),  রিযিক প্রদান  (জাছিয়া ১৬), তীহ প্রান্তরে ছায়া ও খাবারের ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৫৭), পানির ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৬০)
এছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর আরো অনেক অনুগ্রহ করেছেন। যেমন- গো-বৎসের পূজা করার পরও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন’ (বাক্বারাহ ৫১-৫২)। বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটানোর পর তাদেরকে আবার পুনর্জীবন দান করেন’ (বাক্বারাহ ৫৫)। এ রকম আরো অভাবনীয়, আশাতীত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নে‘আমতরাজি দিয়ে আল্লাহ ইহুদীদের মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, শান-শওকত বৃদ্ধি করেছেন।

Continue reading

ডা. জাকির নায়েক : এক নবদিগন্তের অভিযাত্রী


-আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব

ডা. জাকির আব্দুল করীম নায়েক ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম গবেষক ও বাগ্মীদের অন্যতম। অনন্যসাধারণ প্রতিভাধর ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ হিসাবে তিনি সারাবিশ্বে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। গত শতকের মধ্যভাগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক শায়খ আহমাদ দীদাত (১৯১৮-২০০৫) বিভিন্ন ধর্ম ও বস্ত্তগত বিজ্ঞানের সাথে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইসলাম প্রচারের এক নতুন ধারার প্রয়াস শুরু করেন। ডা. জাকির নায়েক এই ধারার সফল পরিণতিই কেবল দান করেননি; বরং মুসলিম সমাজে প্রচলিত নানাবিধ কুসংস্কার ও নবাবিষ্কৃত আচার-আচরণ তথা শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুন্দর ও কার্যকর একটি ধারার সূচনা করেছেন। অতি অল্প সময়ে তিনি ‘পীস টিভি’র মত আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট প্রচারমাধ্যম ও একদল দক্ষ, নিষ্ঠাবান আলিম ও        চিন্তাবিদের সমন্বয়ে ইন্ডিয়ার বুকে যে বহুমুখী ইসলামী দা‘ওয়াহ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন তা এককথায় অভূতপূর্ব। নিম্নে তাঁর পরিচিতি ও দা‘ওয়াতী কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করা হল-
১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মুম্বাই শহরে এক কনকানি১ মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন মেডিকেল ডাক্তার। সেই সুবাদে মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটারস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা ও কিষাণচাঁদ কলেজে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের পর চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নের জন্য টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। অতঃপর  ১৯৯১ সালে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী লাভ করে ডাক্তার হিসাবে কর্ণাটকে কর্মজীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিখ্যাত শৈল্যবিদ ক্রিস বার্নাডের মত সার্জন হবার স্বপ্ন দেখতেন। শৈশব থেকে তোতলামিতে (stammering) আক্রান্ত থাকায় মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার কোন পরিকল্পনা তাঁর মোটেই ছিল না। কিন্তু ১৯৮৭ সালে ২২ বছর বয়সে একটি কনফারেন্সে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ তুলনামূলক ধর্মতাত্ত্বিক আলোচক আহমাদ দীদাতের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। ফলে তাঁর মাঝে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রবল স্পৃহা জাগ্রত হয়। এক নাগাড়ে তিনি পবিত্র কুরআনসহ বর্তমান বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ যেমন- খৃষ্টধর্মের কয়েক প্রকার বাইবেল, ইহুদী ধর্মের তাওরাত ও তালমূদ, হিন্দু ধর্মের মহাভারত, বেদ, উপনিষদ, ভগবতগীতাসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করা শুরু করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যেই সেগুলো আয়ত্ব করে ফেলেন। অতঃপর ১৯৯১ সাল থেকে তিনি দাওয়াতী কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ডাক্তারী পেশা ছেড়ে দিয়ে একজন ফুলটাইম ধর্মপ্রচারক হিসাবে মুম্বাইসহ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বক্তব্য প্রদান করতে শুরু করেন। আল্লাহ্র অশেষ রহমতে তাঁর মুখের জড়তা অর্থাৎ তোতলামীর ভাবও দিনে দিনে কেটে যায়। অতি দ্রুতই তিনি জনমনে বিপুল প্রভাব    বিস্তারে সক্ষম হন। ইন্ডিয়ার বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁর ডাক আসতে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বক্তৃতার ভাষা হিসাবে ইংরেজী বেছে নেন। ইতিমধ্যে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইতালী, সঊদী আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, বোতসোয়ানা, মৌরিশাস, গায়ানা, ত্রিনিদাদ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, মালদ্বীপসহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ১৩০০-এরও অধিক লেকচার প্রদান করেছেন। ২০০টিরও বেশী দেশের টিভি চ্যানেলে তাঁর বক্তব্যসমূহ প্রচারিত হয়েছে। এ দিক দিয়ে বর্তমান বিশ্বে ইসলামী আলোচকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান প্রশ্নাতীতভাবে শীর্ষে। ২০০৯ সালে ইন্ডিয়ার সর্বাধিক প্রভাবশালীদের তালিকায় তার নাম ছিল ৮২তম স্থানে ও ১০ জন শীর্ষ ধর্মবেত্তাদের তালিকায় বাবা রামদেব ও শ্রী শ্রী রবিশংকরের পরই ছিল তার অবস্থান।

Continue reading

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন : সাম্রাজ্যবাদের নতুন মন্ত্র !



মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন তুহিন



আল্লাহ্ বলেন, ‘জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের কৃতকর্মের জন্য, আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাত চান, যাতে তারা ফিরে আসে’ (রূম ৩০/৪১)।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন’। যাকে কেন্দ্র করে কেউ পাহাড়ের উপরে (নেপাল), কেউবা সমুদ্রের নীচে (মালদ্বীপ) বৈঠক করছে। আবার কেউবা বিশ্ব নেতাদের মুখোশ পরে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ করছে। এছাড়া সেমিনার, সিম্পোজিয়াম তো আছেই। বাংলাদেশ রয়েছে নেতৃত্বের আসনে। কখনও ফোন দিচ্ছে ওবামা, আবার কখনওবা ব্রাউন। অন্যদিকে কেউ একে এনার্জি ভিক্ষার বুলি বলে মন্তব্য করছে। এমনই এক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপট নিয়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১২ দিন ব্যাপী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। আর একটি সম্মেলন হ’তে যাচ্ছে মেক্সিকোতে।
প্রশ্ন হ’তে পারে, কেন এই শতাব্দীতে জলবায়ু এত সমালোচিত বিষয়? উন্নত দেশগুলো এই আলোচনা শুরু করেছে কেন? জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণগুলো আসলে কি? এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার উপায় কি? ইত্যাদি, ইত্যাদি…।
এই শতাব্দীর পূর্বে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কোন আলোচনা শোনা যায়নি। এই শতাব্দীতে জলবায়ুর এমন কি হ’ল? হ্যাঁ, হয়েছে। এই শতাব্দীর শুরুতে ১৯১৪-১৮ সালে হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৩৯-৪৫ সালে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যার ভয়াবহতার সাক্ষী জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকি। সেখানে আজকেও যে শিশুটির জন্ম হয়, সে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়।
এই শতাব্দীতে পৃথিবীব্যাপী শুরু হয় নিউক্লিয়ার টেস্টের মহোৎসব। আমেরিকা ১০৩০টি এবং রাশিয়া ৭১৫টি পরীক্ষা চালায় বিভিন্ন স্থানে অথবা এন্টার্কটিকায়, যার ফলে বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায় বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ, সুপারসনিক বোমা, মানুষবিহীন ড্রোন বিমান সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভব তো রয়েছেই।
অপরদিকে বিশ্বে ব্যাপক শিল্পায়ন হচ্ছে। ২০০৮ সালের এক পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, বিশ্বের খাদ্য চাহিদা ১.৫ বিলিয়ন মেট্রিক টন হ’লেও উৎপাদন ২.৩ বিলিয়ন মেট্রিক টন। দ্বিগুণ প্রায়। গাড়ী, টিভি, ভিসিআর, কম্পিউটার, ফ্রিজ প্রভৃতি বিলাসদ্রব্যের একটা মডেল আজকে আসলে কালকে তা পুরাতন বা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকশ’ বছরে ১০০০ বছরের দ্বিগুণ কার্বন নির্গমন হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। যার ফলে মানুষ অক্সিজেনের পরিবর্তে নিশ্বাসে কার্বন নিচ্ছে। সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসার আগে তাকে যে বাধা বা লেয়ার অতিক্রম করতে হয়, তার পুরুত্ব বা গাড়ত্ব বেড়ে যাচ্ছে, যাকে গ্রীণ হাউজ ইফেক্ট বলে।
আলোচনার সুবিধার্থে পুরো আলোচনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
প্রথমত: বর্তমানে যে আদর্শের নেতৃত্বে পুরো পৃথিবী চলছে সেই পুঁজিবাদের দৃষ্টিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও সমাধান। দ্বিতীয়ত: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত কারণগুলো উদ্ঘাটন। তৃতীয়ত: আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা ইসলামের দৃষ্টিতে জলবায়ু সমস্যার সমাধান।
সারা বিশ্বে দু’টি আদর্শ বিদ্যমান ও সক্রিয় রয়েছে। এর একটি পুঁজিবাদ, যার নেতৃত্বে আমেরিকা। অন্যটি ইসলাম, যা বিশ্ব নেতৃত্বের অপেক্ষায়। বর্তমান পুঁজিবাদী আদর্শের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- (১) উৎপাদন (২) প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। তাছাড়া পুঁজিবাদের মতে, পরিবেশ বিপর্যয় উন্নয়নের ‘সুযোগ ব্যয়’। অর্থনীতির ভাষায়- একটি পাওয়ার জন্য অন্যটি পরিত্যাগ। অর্থাৎ উন্নয়ন করতে হ’লে পরিবেশকে ছাড় দিতে হবে।

Continue reading

ইসলাম ও পর্দা



মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান


আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদতের জন্য। এটা আসমানী কিতাব আল-কুরআনে বিঘোষিত হয়েছে। এজন্য পৃথিবীতে মানবের বংশ বিস্তারের প্রয়োজন। এই প্রয়োজনের কারণে নর এবং নারীকে সৃষ্টি করা হয়েছে। পুরুষ এবং নারী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে মানব বংশ বিস্তার করবে। আল্লাহ তা‘আলা অপূর্ব কৌশলে পুরুষ এবং নারী উভয়ের মধ্যে একটা আকর্ষণীয় শক্তি দিয়েছেন। তা না দিলে সৃষ্টি প্রক্রিয়া অকার্যকর হ’ত। চুম্বক লোহাকে আকর্ষণ করে। কিন্তু অন্য ধাতুকে আকর্ষণ করে না। তাহ’লে বলতেই হবে যে লোহারও আকর্ষিত হবার গুণ রয়েছে। এটাই সঠিক যে, পুরুষ আকৃষ্ট হয় নারীর প্রতি, আর নারী আকৃষ্ট হয় পুরুষের প্রতি। তথাপি এটাই সত্য যে, নারীর প্রতি পুরুষই অধিক আকর্ষণ বোধ করে। মানসিকভাবে পুরুষই নারীর প্রতি অধিক দুর্বল। আদম (আঃ) হাওয়া (আঃ)-এর অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারেননি। তাই তিনি হাওয়ার অনুরোধে নিষিদ্ধ ফল ভক্ষণ করেছিলেন। এটা শুধু আদি মানবের বেলাতে ঘটেছিল তা নয়, আজও এরূপ ঘটতে দেখা যায়।

নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা প্রতিহত করতেই নারীর জন্য পর্দা ফরয করা হয়েছে। নির্দিষ্ট কয়েকজন পুরুষ ব্যতীত অন্যান্য পুরুষের সংগে নারীর দেখা-সাক্ষাৎ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এটা আল্লাহর কিতাব আল-কুরআনের বিধান। রাসূল (ছাঃ)-এর প্রতি আল্লাহর অহী, ‘মুমিনা নারীগণকে বল, তারা যেন তাদের আপন দৃষ্টি সংযত রাখে, আপন লজ্জাস্থান রক্ষা করে চলে, প্রকাশ না করে তাদের বেশ-ভূষা এবং অলংকার ততটুকু ব্যতীত, যতটুকু সাধারণতঃ প্রকাশমান এবং আপন চাদর গলা ও বুকের উপর জড়িয়ে দেয় এবং প্রকাশ না করে তাদের সাজ-সজ্জা তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, নিজের পুত্র, স্বামীর পুত্র, সহোদর ভাই, ভাইয়ের পুত্র, ভাগিনা অথবা তাদের নারীগণ, তাদের অধীনস্থ গোলাম অথবা কামপ্রবৃত্তিহীন গোলাম অথবা সেই সকল শিশু যারা নারীর গোপন বিষয় সম্পর্কে জানে না এদের নিকট ব্যতীত। আর নারীরা যেন তাদের পা এমন জোরে না ফেলে, যা দ্বারা তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ পায়’ (নূর ৩১)।

কুরআন মাজীদে আরও বলা হয়েছে, ‘হে নবীর বিবিগণ তোমরা সাধারণ নারীর মত নও, যদি তোমরা পরহেযগার হও, তবে পর পুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলবে না, তাহ’লে যাদের অন্তরে রোগ আছে, তারা তোমাদের প্রতি কু-বাসনা করবে। তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে আর গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে এবং পূর্বের মূর্খতার যুগের ন্যায় নিজেদের প্রদর্শন করবে না’ (আহযাব ৩২-৩৩)।

Continue reading

ধর্মীয় কাজে বাধা দানের পরিণতি


ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম

ভূমিকা :
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য এবং পৃথিবীতে তাঁর বিধান কায়েম করার জন্য। এ লক্ষ্যে মানবতার সঠিক পথের দিশারী হিসাবে এক লক্ষ চবিবশ হাযার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন (আহমাদ, ত্বাবারানী, মিশকাত হা/৫৭৩৭)। তাঁরা যুগে যুগে মানুষকে সত্য-সুন্দরের পথ, কল্যাণের পথ, হেদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছেন। সে পথে মানুষকে পরিচালনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় ও তার কুমন্ত্রণায় হক্বের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কখনোবা এ পথে মানুষ যাতে আসতে না পারে সেজন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে ঐসব মানুষও শয়তানের ন্যায় অভিশপ্ত হয়েছে, জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামের কীটে পরিণত হয়েছে। আলোচ্য নিবন্ধে হক্বের পথে, আল্লাহর পথে তথা দ্বীনের পথে বাধা দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বীনী কাজে বাধা প্রদানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে জ্বিন-ফিরিশতা সবাইকে নির্দেশ দেন আদমকে সিজদা করার জন্য। সবাই নির্দেশ মেনে আদমকে সিজদা করলেও ইবলীস অহংকারবশতঃ আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয় (বাক্বারাহ ২/৩৪)। আদমের কারণে যেহেতু ইবলীসের উচ্চ মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়, সেজন্য সে আদম ও তাঁর সন্তানদের প্রতি ঈষাপরায়ণ হয়ে পড়ে। সে মানুষের চিরশত্রুতে পরিণত হয়। শুরু হয় তার চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র ও মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মানুষকে কুফরী করতে প্ররোচিত করে। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ কুফরীতে লিপ্ত হ’লে সে বলে, ‘আমি তোমার থেকে মুক্ত এবং আমি মহান আল্লাহ্কে ভয় করি’ (হাশর ৫৯/১৬)।

Continue reading

মৃদু ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের এলাহী হুঁশিয়ারি


আবু ছালেহ

প্রাচীনকাল থেকেই ভূমিকম্প নিয়ে মানব মনে নানা রকম অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার আসন গেড়ে বসে আছে। অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন এক শ্রেণীর মানুষের বিশ্বাস, পৃথিবীটা গরু বা মহিষের মত শিংওয়ালা বিশাল আকৃতির কোন প্রাণীর মাথার উপর অবস্থিত। যখন সেই জন্তুটি নড়াচড়া করে, তখন এই পৃথিবীটাও নড়ে উঠে এবং ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তবে এসব ভ্রান্ত বিশ্বাসের আদৌ কোন শারঈ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হ’ল, পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন স্তরের শিলাখন্ডের স্থিতিস্থাপকীয় বিকৃতির ফলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। আর শারঈ বিশ্লেষণ হ’ল, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা গযব। এক্ষেত্রে বাহ্যতঃ বিজ্ঞান ও শরী‘আতের মধ্যে ভিন্ন মত মনে হ’লেও প্রকৃতপক্ষে দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। মহান আল্লাহ পৃথিবীতে চলমান রীতির ব্যত্যয় ভাল বা মন্দ কিছু করতে চাইলে, তার জন্য নিজস্ব ক্ষমতাবলে প্রথমে উক্ত কর্মের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে নেন। উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ কোথাও বৃষ্টি বর্ষণ করতে ইচ্ছা করলে আগেই সেখানে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মেঘের সমাগম ঘটান তথা বৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। যখন বৃষ্টির একটা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আবহাওয়া দপ্তর তার পূর্বাভাস দিতে পারে এবং দিয়েও থাকে। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আগ পর্যন্ত সে সম্পর্কে পৃথিবীর কারো পক্ষে কিছুই বলা সম্ভব হয় না। অনুরূপ কোথাও যখন আল্লাহ ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে চান, তখন সেখানকার ভূগর্ভস্থ মাটি বা শিলা স্তরে আল্লাহ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভূমিকম্পের উপযোগী পরিবর্তন আনয়ন করেন। আর তখনি তা ভূতত্ত্ববিদদের নযর বা যন্ত্রে ধরা পড়ে। ফলে তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে ভূমিকম্পের ব্যাখ্যা ঐ পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সুতরাং ভূমিকম্প সংক্রান্ত বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও শরী‘আতের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে তথ্যগত কোন বৈপরীত্য নেই।
পাপাচারী, নাফরমান, অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী বহু জাতিকে ধ্বংস করতে মহান আল্লাহ দুনিয়ায় নানা ধরনের গযব দিয়েছেন। কাউকে বন্যা-প্লাবনের মাধ্যমে, কাউকে ঘৃণ্য জন্তুতে যেমন বানর-শুকরে পরিণত করে, কোন জাতিকে ঝড়-তুফানের মাধ্যমে, কাউকে বিকট শব্দ বা গর্জনের মাধ্যমে, কাউকে সাগর বা নদীতে ডুবিয়ে, কাউকে পাথর নিক্ষেপ করে, কাউকে বজ্রপাত ইত্যাদির মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর এলাহী গযবের মূল কারণ হ’ল, আল্লাহর নাফরমানী বা সীমালঙ্ঘন। এ বিষয়ে নিম্নের হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য।
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূল (ছাঃ) সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে আনছার ও মুহাজিরের দল! তোমাদেরকে পাঁচটি ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলে কষ্ট দেওয়া হবে। …তার পঞ্চমটি হ’ল وَمَالَمْ تَحْكُمْ اَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوْا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ جَعَلَ اللهُ بَأَسَهُمْ بَيْنَهُمْ. ‘যখন আলেম ও শাসকগণ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসন কাঠামো পরিচালনা করবে না; বরং আল্লাহর দেওয়া বিধানের উপর নিজ ইচ্ছা প্রয়োগ করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগ, দুরবস্থা, দরিদ্রতা ও দুর্যোগ চাপিয়ে দিবেন’।
আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এরকম একটি ভয়ানক গযব হ’ল ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবী সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত পাপাচারী, বিভ্রান্ত ও সীমালঙ্ঘনকারী বহু জাতিকে মহান আল্লাহ ভূমিকম্পের মত ভয়াবহ গযব দিয়ে ধ্বংস করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শো‘আয়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, শেষ দিবসের আশা রাখ এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি কর না। কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল, অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হ’ল এবং নিজেদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল’ (আনকাবূত ৩৯/৩৬-৩৭)। একই বর্ণনা এসেছে আ‘রাফের ৯১নং আয়াতেও।

Continue reading

ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকতা


ড. মুহাম্মাদ আলী

ইসলাম সকল প্রকার মাদক তথা নেশাদার দ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ  ‘প্রত্যেক নেশাদার দ্রব্যই মদ আর যাবতীয় মদই হারাম’।১ অথচ এই মাদকের ভয়ংকর থাবায় আজ বিশ্বব্যাপী বিপন্ন মানব সভ্যতা। এর সর্বনাশা মরণ ছোবলে জাতি আজ অকালে ধ্বংস হয়ে যচ্ছে। ভেঙ্গে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। বিঘ্নিত হচ্ছে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বৃদ্ধি পাচ্ছে চোরাচালানসহ মানবতা বিধ্বংসী অসংখ্য অপরাধ। মাদকাসক্তির কারণে সকল জনপদেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজের অধিকাংশ অপরাধের জন্য মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لاَتَشْرَبِ الْخَمْرَ، فَإِنَّهُ مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ. ‘মদ পান করো না। কেননা তা সকল অপকর্মের চাবিকাঠি’।২ অন্য হাদীছে এসেছে, اِجْتَنِبُوا الْخَمْرَ فَإِنَّهَا أُمُّ الْخَبَائِثِ. ‘তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা অশ্লীল কাজের মূল’।৩ আলোচ্য প্রবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকতা ও এর প্রতিকারের উপায় আলোচনা করা হ’ল –
আভিধানিক অর্থ : মাদকদ্রব্যের আরবী প্রতিশব্দ ‘খমর’ (خمر)। এর অর্থ- সমাচ্ছন্ন করা, ঢেকে দেয়া। এই সকল অর্থের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণেই মদ ও শরাবকে ‘খমর’ বলা হয়।
Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, An alcoholic drink which is usually made from grapes but can also be made from other fruits or flowers. It is made by FERMENTING, the fruit with water and sugar.
‘মদ হ’ল নেশাকর পানীয় যা সাধারণত আঙ্গুর থেকে তৈরী হয়। তবে অন্যান্য ফল ও ফুল থেকেও তৈরী হ’তে পারে। এটা উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য চিনি ও পানির মাধ্যমে ফল দ্বারা তৈরী হয়’।
পারিভাষিক অর্থ : ‘যে সকল বস্ত্ত সেবনে মাদকতা সৃষ্টি হয় এবং বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তাকে মাদকদ্রব্য বলে। কবি বলেন, شَرِبْتُ الْخَمْرَ حَتَّى ضَلَّ عَقْلِىْ + كَذَاكَ الْخَمْرُ تَفْعَلُ بِالْعُقُوْلِ. ‘মদ পান করে আমার বিবেক হারিয়ে গেছে। মদ এভাবেই বুদ্ধিকে নিয়ে খেল-তামাশা করে’। সাধারণত নেশা জাতীয় দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করা বা পান করাই মাদকাসক্তি।
এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী : وَ الْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ ‘মদ বা মাদকদ্রব্য তাই, যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে’।

Continue reading

ঘুষের ভয়াবহ পরিণতি


আব্দুল মান্নান

ঘুষ একটি অন্যায় কাজ- একথা সকলে একবাক্যে স্বীকার করেন। অথচ দুঃখজনক যে, এটি  দেশের সর্বত্র  বহাল তবিয়তে চালু রয়েছে। এতে একজনের প্রাপ্তি এবং অন্যজনের ক্ষতি ও মনঃকষ্ট, মানুষে মানুষে ঘৃণা, ক্ষোভ, আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ইত্যাদি নৈতিক ও সামাজিক অবক্ষয়ের মধ্য দিয়ে পুরো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা ক্রমে বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হয়। অপরদিকে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহ অখুশি হন। এর অশুভ পরিণতি এক সময় নিজের উপর ও পরবর্তী প্রজন্মের উপর বর্তায়। তাই স্বভাবতঃই এর নগ্ন চেহারা ও অশুভ পরিণতি নিয়ে আলোচনা এখন খুবই প্রাসঙ্গিক এবং সময়ের অনিবার্য দাবী।
ঘুষের প্রকৃতি :  সাধারণভাবে ঘুষের প্রকৃতি ও পরিচয় প্রায় সকলেরই জানা। কিন্তু এর সবচেয়ে বড় যাদুকরি  দিক হ’ল- এর সাথে সংশ্লি­ষ্ট  ব্যক্তিরা কেউই এটিকে ঘুষ বলতে চান না। তারা বরং এটিকে ৫%, ১০% অফিস খরচ, বখ্শিশ, চা-মিষ্টি, হাদিয়া এসব নামে অভিহিত করতে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একেকটি  অফিস বা প্রতিষ্ঠানে এক এক নামে এটি পরিচিত। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়, নাম বদল করে তারা এ অপরাধকে কিছুটা হালকাভাবে দেখতে চান। এজন্যই বুঝি ওমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেছিলেন, كانة الهدية فى زمن رسول الله هدية، واليوم رشوة. ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে উপঢৌকন হাদিয়া ছিল। আর এখন তা ঘুষ’।১ কিন্তু অহী-র জ্ঞানের ফায়ছালার দিকে লক্ষ্য করলে আমরা দেখতে পাই, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর দরবারে একজন কর্মচারী কিছু মাল এনে বলল, এটা আপনাদের (সরকারী) মাল, আর এটা আমাকে দেয়া হাদিয়া। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সে তার বাবা-মার ঘরে বসে থাকল না কেন, তখন সে দেখতে পেত, তাকে কেউ হাদিয়া দেয় কি-না?২ অতঃপর এর মন্দ দিক তুলে ধরে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করলেন। এ থেকে বুঝা যায়, যত সুন্দর নামেই এর নামকরণ করা হৌক কিংবা  জনগণ খুশি হয়ে প্রদান করুক অথবা কাজের বিনিময় হিসাবে দিয়ে থাকুক, অর্পিত দায়িত্ব পালনের বিনিময়ে বেতন-ভাতা বাদে অন্যের কাছ থেকে যে অতিরিক্ত অর্থ গ্রহণ করা হয় তার সবই ঘুষ এবং অন্যায়। এতে একপক্ষ অধিক লাভবান হয় এবং অন্যপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ইসলাম ও সাধারণ বিবেক কোনটিই সমর্থন করে না। আপাতদৃষ্টিতে ঘুষকে একটি মাত্র অপরাধ মনে করা হ’লেও বস্ত্তত এটি বিভিন্ন পথ ও পন্থায় অসংখ্য অপরাধের দায়ে ঘুষখোরকে অভিযুক্ত করে কীভাবে তার ধ্বংস সুনিশ্চিত করে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে সে সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হ’ল।-

Continue reading