সমস্ত মুসলমানদেরকে যদি হত্যা করা হয়, তবুও বিজয় ইসলামেরই হবে


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

সংকলন ও সম্পাদনাঃ  شادمان سكب

8504655484_efc8d2c5d6

ঈমানদার যুবক ও আছহাবুল উখদূদের কাহিনী

হযরত সুহায়েব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে জে, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেনঃ বহুকাল পূর্বে একজন রাজা ছিলেন। সেই রাজার ছিল একজন যাদুকর। ঐ যাদুকর বৃদ্ধ হ’লে একদিন সে রাজাকে বলল, ‘আমি তো বৃদ্ধ হয়ে গেছি এবং আমার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। সুতরাং আমার নিকট একটি ছেলে পাঠান, যাকে আমি ভালভাবে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিব’। বাদশাহ তার নিকট একটি বালককে পাঠিয়ে দিলেন। তিনি তাকে যাদুবিদ্যা শিক্ষা দিতে লাগলেন। বালকটি যাদুকরের নিকট যে পথ দিয়ে যাতায়াত করত, সে পথে ছিল এক সন্ন্যাসীর আস্তানা। সন্ন্যাসী ঐখানে বসে কখনো ইবাদাত করতেন, আবার কখনো লোকদের নিকট ওয়াজ-নসিহাত করতেন।  বালকটিও পথের পাসে দাঁড়িয়ে তার ওয়াজ নসীহত শুনত।  ফলে যাদুকরের নিকট পৌছাতে বালকটির দেরী হ’ত বলে যাদুকর তাকে প্রহার করত। বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট এ কথা জানালে তিনি বালককে শিখিয়ে দেন যে, তুমি যদি যাদুকর কে ভয় কর তাহ’লে বলবে, বাড়ীর লোকজন আমাকে পাঠাতে বিলম্ব করেছে এবং বাড়ীর লোকজনকে ভয় পেলে বলবে, যাদুকরই আমাকে ছুটি দিতে বিলম্ব করেছে।

বালকটি এভাবে একদিকে যাদু বিদ্যা অন্যদিকে ধর্মীয় বিদ্যা শিক্ষা  করতে লাগলো। একদিন পথে সে দেখল, একটি বৃহদাকার প্রাণী মানুষের চলাচলের পথ রোধ করে বসে আছে। বালকটি ভাবল, আজ পরীক্ষা করে দেখব যে আল্লাহর কাছে যাদুকরের ধর্ম শ্রেষ্ঠ, না সন্ন্যাসীর ধর্ম শ্রেষ্ঠ ? অতঃপর সে একটি পাথর নিয়ে বলল, ‘হে আল্লাহ্‌! যাদুকরের কার্যকলাপ অপেক্ষা সন্ন্যাসীর কার্যকলাপ যদি তোমার নিকট অধিকতর প্রিয় হয়, তবে এই প্রাণীটিকে এই পাথরের আঘাতে মেরে ফেল। যেন লোকজন যাতায়াত করতে পারে’। এই বলে প্রাণীটিকে লক্ষ্য করে সে পাথরটি ছুঁড়ে মারল এবং প্রাণীটি মারা গেল ও লোক চলাচল শুরু হ’ল। এরপর বালকটি সন্ন্যাসীর নিকট গিয়ে তাকে ঘটনাটি জানালে তিনি তাকে বললেন, ‘বৎস! তুমি এখনই আমার চেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে উঠেছ। তোমার প্রকৃত স্বরূপ আমি বুঝতে পারছি। শীঘ্রই তোমাকে পরীক্ষার সম্মুখীন হতে হবে। যদি তুমি পরীক্ষার সম্মুখীন হও তাহ’লে যেন আমার কথা প্রকাশ করে দিও না’।

Continue reading

মুখে সশব্দে নিয়ত পড়া প্রসঙ্গ


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

লেখক: আব্দুর রাকীব (মাদানী)  | ওয়েব সম্পাদনাঃ মোঃ মাহমুদগাফফার

5516724285_9a6ff436b8

নিয়তের অর্থঃ

নিয়ত আরবী শব্দ। এর বাংলা অর্থঃ ইচ্ছা করা, মনস্ত করা, এরাদা করা, সংকল্প করা। (মুনজিদ, ৮৪৯/ ফতহুল বারী, ১/১৭)

শব্দটি আমরা বাংলাভাষী লোকেরাও ব্যবহার করে থাকি। যেমন আমরা বলি: আমি এ বছর হজ্জ করার নিয়ত করেছি। অর্থাৎ ইচ্ছা করেছি মনস্থ করেছি।

 

নিয়তের গুরুত্বঃ

শরীয়তে নিয়তের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তির আমল আল্লাহর নিকট গ্রহণীয় হয়না যতক্ষণে বান্দা তার নিয়ত সঠিক না করে নেয়। অর্থাৎ , আল্লাহর জন্যে তাঁর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না করে নেয়। আল্লাহ বলেনঃ

(তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ট ভাবে আল্লাহর এবাদত করবে…)। (সূরা বাইয়্যিনাহ/৫)

Continue reading

ছাদাক্বাতুল ফিতরের বিধান


শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু

লেখকঃ মুহাম্মাদ লিলবর আল-বারাদী

zakat-ul-fitr

আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে উদ্দেশ্যবিহীন সৃষ্টি করেননি। তিনি বলেন,

 وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالْإِنْسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُوْنِ

‘আমি জিন ও মানবজাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)

ইবাদত এমন একটি ব্যাপক শব্দ যা প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে পালনকৃত এমন সব কথা ও কাজের সমষ্টি, যা আল্লাহ পসন্দ করেন ও ভালবাসেন। আল্লাহর ইবাদত গ্রহণীয় হওয়ার জন্য দু’টি শর্ত রয়েছে। এক. একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে সমস্ত ইবাদত হ’তে হবে। দুই. রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সুন্নাতী পন্থা অনুযায়ী তা পালন করতে হবে।

ইবাদত পালনে ত্রুটি-বিচ্যুতি হ’লে আল্লাহ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ারও ব্যবস্থা রেখেছেন। ছিয়াম হ’ল মহান আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে অন্যতম। আর এই ছিয়াম পালনে যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি হয়ে থাকে, তার ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার জন্য ছাদাক্বাতুল ফিতর আদায়ের বিধান রেখেছেন। এ বিধান আমাদের সুবিধার্থে পরিবর্তন ও পরিমার্জন করা সমীচীন নয়। কেননা ইসলাম হ’ল একমাত্র অভ্রান্ত, ত্রুটিমুক্ত ও পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা।

দ্বীন ইসলাম যখন পূর্ণতা পেয়েছে, তখন অপূর্ণতার সংশয় মনে ঠাঁই দেয়া নিতান্তই মূর্খতা। সুতরাং দ্বীনকে অপূর্ণাঙ্গ মনে করার অর্থই হ’ল কুরআন-হাদীছের অপূর্ণতা (নাঊযুবিল্লাহ)। আর এটা অসম্ভব, অযৌক্তিক ও ভ্রান্ত ধারণা মাত্র। পূর্ববর্তী নবী-রাসূলগণের প্রতি অবতীর্ণ আসমানী গ্রন্থ বিকৃত হয়েছে। কিন্তু শেষ নবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর প্রতি অবতীর্ণ কুরআন অবিকৃত অবস্থায় বিদ্যমান। তবে রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ বিকৃত করার অপপ্রয়াস চলেছে নানাভাবে। কিন্তু বিভিন্ন মুহাদ্দিছগণের অক্লান্ত পরিশ্রমে তা আজও অম্লান রয়েছে। তথাপিও কিছু লোক ক্বিয়াস দ্বারা ছহীহ হাদীছ বিকৃত করে চলেছে। যেমন ছাদাক্বাতুল ফিতর খাদ্যদ্রব্যের পরিবর্তে তার সমমূল্য দিয়ে আদায় করা। আলোচ্য নিবন্ধে ছাদাক্বাতুল ফিতরের বিধান সম্পর্কে আলোকপাত করা হ’ল।-

Continue reading

ডা. জাকির নায়েক : এক নবদিগন্তের অভিযাত্রী


-আহমাদ আব্দুল্লাহ নাজীব

ডা. জাকির আব্দুল করীম নায়েক ইসলাম ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্বের উপর বর্তমান বিশ্বের শ্রেষ্ঠতম গবেষক ও বাগ্মীদের অন্যতম। অনন্যসাধারণ প্রতিভাধর ‘দাঈ ইলাল্লাহ’ হিসাবে তিনি সারাবিশ্বে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। গত শতকের মধ্যভাগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান নাগরিক শায়খ আহমাদ দীদাত (১৯১৮-২০০৫) বিভিন্ন ধর্ম ও বস্ত্তগত বিজ্ঞানের সাথে তুলনামূলক আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ইসলাম প্রচারের এক নতুন ধারার প্রয়াস শুরু করেন। ডা. জাকির নায়েক এই ধারার সফল পরিণতিই কেবল দান করেননি; বরং মুসলিম সমাজে প্রচলিত নানাবিধ কুসংস্কার ও নবাবিষ্কৃত আচার-আচরণ তথা শিরক-বিদ‘আতের বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলার সুন্দর ও কার্যকর একটি ধারার সূচনা করেছেন। অতি অল্প সময়ে তিনি ‘পীস টিভি’র মত আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট প্রচারমাধ্যম ও একদল দক্ষ, নিষ্ঠাবান আলিম ও        চিন্তাবিদের সমন্বয়ে ইন্ডিয়ার বুকে যে বহুমুখী ইসলামী দা‘ওয়াহ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছেন তা এককথায় অভূতপূর্ব। নিম্নে তাঁর পরিচিতি ও দা‘ওয়াতী কার্যক্রম সম্পর্কে আলোকপাত করা হল-
১৮ অক্টোবর ১৯৬৫ সালে ভারতের মুম্বাই শহরে এক কনকানি১ মুসলিম পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ছিলেন একজন মেডিকেল ডাক্তার। সেই সুবাদে মুম্বাইয়ের সেন্ট পিটারস স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা ও কিষাণচাঁদ কলেজে মাধ্যমিক শিক্ষা লাভের পর চিকিৎসাবিদ্যা অধ্যয়নের জন্য টপিওয়ালা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন। অতঃপর  ১৯৯১ সালে এম.বি.বি.এস ডিগ্রী লাভ করে ডাক্তার হিসাবে কর্ণাটকে কর্মজীবন শুরু করেন। ছাত্রজীবনে তিনি বিখ্যাত শৈল্যবিদ ক্রিস বার্নাডের মত সার্জন হবার স্বপ্ন দেখতেন। শৈশব থেকে তোতলামিতে (stammering) আক্রান্ত থাকায় মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার কোন পরিকল্পনা তাঁর মোটেই ছিল না। কিন্তু ১৯৮৭ সালে ২২ বছর বয়সে একটি কনফারেন্সে তৎকালীন শ্রেষ্ঠ তুলনামূলক ধর্মতাত্ত্বিক আলোচক আহমাদ দীদাতের সাথে তাঁর সাক্ষাৎ হলে তিনি গভীরভাবে প্রভাবিত হন। ফলে তাঁর মাঝে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের প্রবল স্পৃহা জাগ্রত হয়। এক নাগাড়ে তিনি পবিত্র কুরআনসহ বর্তমান বিশ্বের প্রধান প্রধান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থসমূহ যেমন- খৃষ্টধর্মের কয়েক প্রকার বাইবেল, ইহুদী ধর্মের তাওরাত ও তালমূদ, হিন্দু ধর্মের মহাভারত, বেদ, উপনিষদ, ভগবতগীতাসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ গভীর মনোযোগ সহকারে পাঠ করা শুরু করেন এবং কয়েক বছরের মধ্যেই সেগুলো আয়ত্ব করে ফেলেন। অতঃপর ১৯৯১ সাল থেকে তিনি দাওয়াতী কর্মকান্ডে মনোনিবেশ করেন। পরবর্তীতে ডাক্তারী পেশা ছেড়ে দিয়ে একজন ফুলটাইম ধর্মপ্রচারক হিসাবে মুম্বাইসহ ইন্ডিয়ার বিভিন্ন প্রদেশে বক্তব্য প্রদান করতে শুরু করেন। আল্লাহ্র অশেষ রহমতে তাঁর মুখের জড়তা অর্থাৎ তোতলামীর ভাবও দিনে দিনে কেটে যায়। অতি দ্রুতই তিনি জনমনে বিপুল প্রভাব    বিস্তারে সক্ষম হন। ইন্ডিয়ার বাইরে বিভিন্ন দেশ থেকে তাঁর ডাক আসতে থাকে। আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তাঁর দাওয়াতী কার্যক্রম বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বক্তৃতার ভাষা হিসাবে ইংরেজী বেছে নেন। ইতিমধ্যে আমেরিকা, ইংল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ইতালী, সঊদী আরব, আরব আমিরাত, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, দক্ষিণ আফ্রিকা, বোতসোয়ানা, মৌরিশাস, গায়ানা, ত্রিনিদাদ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, শ্রীলংকা, মালদ্বীপসহ বিশ্বের অনেকগুলো দেশে ১৩০০-এরও অধিক লেকচার প্রদান করেছেন। ২০০টিরও বেশী দেশের টিভি চ্যানেলে তাঁর বক্তব্যসমূহ প্রচারিত হয়েছে। এ দিক দিয়ে বর্তমান বিশ্বে ইসলামী আলোচকদের মধ্যে তাঁর অবস্থান প্রশ্নাতীতভাবে শীর্ষে। ২০০৯ সালে ইন্ডিয়ার সর্বাধিক প্রভাবশালীদের তালিকায় তার নাম ছিল ৮২তম স্থানে ও ১০ জন শীর্ষ ধর্মবেত্তাদের তালিকায় বাবা রামদেব ও শ্রী শ্রী রবিশংকরের পরই ছিল তার অবস্থান।

Continue reading

বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন : সাম্রাজ্যবাদের নতুন মন্ত্র !



মুহাম্মাদ সাখাওয়াত হোসাইন তুহিন



আল্লাহ্ বলেন, ‘জলে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের কৃতকর্মের জন্য, আল্লাহ্ তাদেরকে তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাত চান, যাতে তারা ফিরে আসে’ (রূম ৩০/৪১)।
সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ‘বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তন’। যাকে কেন্দ্র করে কেউ পাহাড়ের উপরে (নেপাল), কেউবা সমুদ্রের নীচে (মালদ্বীপ) বৈঠক করছে। আবার কেউবা বিশ্ব নেতাদের মুখোশ পরে ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে প্রতিবাদ করছে। এছাড়া সেমিনার, সিম্পোজিয়াম তো আছেই। বাংলাদেশ রয়েছে নেতৃত্বের আসনে। কখনও ফোন দিচ্ছে ওবামা, আবার কখনওবা ব্রাউন। অন্যদিকে কেউ একে এনার্জি ভিক্ষার বুলি বলে মন্তব্য করছে। এমনই এক উত্তপ্ত প্রেক্ষাপট নিয়ে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ১২ দিন ব্যাপী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন। আর একটি সম্মেলন হ’তে যাচ্ছে মেক্সিকোতে।
প্রশ্ন হ’তে পারে, কেন এই শতাব্দীতে জলবায়ু এত সমালোচিত বিষয়? উন্নত দেশগুলো এই আলোচনা শুরু করেছে কেন? জলবায়ু বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণগুলো আসলে কি? এই বিপর্যয় থেকে রক্ষার উপায় কি? ইত্যাদি, ইত্যাদি…।
এই শতাব্দীর পূর্বে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কোন আলোচনা শোনা যায়নি। এই শতাব্দীতে জলবায়ুর এমন কি হ’ল? হ্যাঁ, হয়েছে। এই শতাব্দীর শুরুতে ১৯১৪-১৮ সালে হয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধ। ১৯৩৯-৪৫ সালে হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, যার ভয়াবহতার সাক্ষী জাপানের হিরোশিমা-নাগাসাকি। সেখানে আজকেও যে শিশুটির জন্ম হয়, সে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়।
এই শতাব্দীতে পৃথিবীব্যাপী শুরু হয় নিউক্লিয়ার টেস্টের মহোৎসব। আমেরিকা ১০৩০টি এবং রাশিয়া ৭১৫টি পরীক্ষা চালায় বিভিন্ন স্থানে অথবা এন্টার্কটিকায়, যার ফলে বরফ গলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যায় বলে বিজ্ঞানীদের অভিমত। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ক্লাস্টার বোমা নিক্ষেপ, সুপারসনিক বোমা, মানুষবিহীন ড্রোন বিমান সহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উদ্ভব তো রয়েছেই।
অপরদিকে বিশ্বে ব্যাপক শিল্পায়ন হচ্ছে। ২০০৮ সালের এক পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে, বিশ্বের খাদ্য চাহিদা ১.৫ বিলিয়ন মেট্রিক টন হ’লেও উৎপাদন ২.৩ বিলিয়ন মেট্রিক টন। দ্বিগুণ প্রায়। গাড়ী, টিভি, ভিসিআর, কম্পিউটার, ফ্রিজ প্রভৃতি বিলাসদ্রব্যের একটা মডেল আজকে আসলে কালকে তা পুরাতন বা বাতিল হয়ে যাচ্ছে। গত কয়েকশ’ বছরে ১০০০ বছরের দ্বিগুণ কার্বন নির্গমন হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। যার ফলে মানুষ অক্সিজেনের পরিবর্তে নিশ্বাসে কার্বন নিচ্ছে। সূর্যের আলো পৃথিবীতে আসার আগে তাকে যে বাধা বা লেয়ার অতিক্রম করতে হয়, তার পুরুত্ব বা গাড়ত্ব বেড়ে যাচ্ছে, যাকে গ্রীণ হাউজ ইফেক্ট বলে।
আলোচনার সুবিধার্থে পুরো আলোচনাকে তিন ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।
প্রথমত: বর্তমানে যে আদর্শের নেতৃত্বে পুরো পৃথিবী চলছে সেই পুঁজিবাদের দৃষ্টিতে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণ ও সমাধান। দ্বিতীয়ত: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রকৃত কারণগুলো উদ্ঘাটন। তৃতীয়ত: আল্লাহর দেয়া জীবনব্যবস্থা ইসলামের দৃষ্টিতে জলবায়ু সমস্যার সমাধান।
সারা বিশ্বে দু’টি আদর্শ বিদ্যমান ও সক্রিয় রয়েছে। এর একটি পুঁজিবাদ, যার নেতৃত্বে আমেরিকা। অন্যটি ইসলাম, যা বিশ্ব নেতৃত্বের অপেক্ষায়। বর্তমান পুঁজিবাদী আদর্শের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রধান কারণগুলো হচ্ছে- (১) উৎপাদন (২) প্রযুক্তিগত উন্নয়ন। তাছাড়া পুঁজিবাদের মতে, পরিবেশ বিপর্যয় উন্নয়নের ‘সুযোগ ব্যয়’। অর্থনীতির ভাষায়- একটি পাওয়ার জন্য অন্যটি পরিত্যাগ। অর্থাৎ উন্নয়ন করতে হ’লে পরিবেশকে ছাড় দিতে হবে।

Continue reading

ধর্মীয় কাজে বাধা দানের পরিণতি


ড. মুহাম্মাদ কাবীরুল ইসলাম

ভূমিকা :
আল্লাহ মানুষকে সৃষ্টি করেছেন তাঁর ইবাদত করার জন্য এবং পৃথিবীতে তাঁর বিধান কায়েম করার জন্য। এ লক্ষ্যে মানবতার সঠিক পথের দিশারী হিসাবে এক লক্ষ চবিবশ হাযার নবী-রাসূল পাঠিয়েছেন (আহমাদ, ত্বাবারানী, মিশকাত হা/৫৭৩৭)। তাঁরা যুগে যুগে মানুষকে সত্য-সুন্দরের পথ, কল্যাণের পথ, হেদায়াতের পথ প্রদর্শন করেছেন। সে পথে মানুষকে পরিচালনার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। কিন্তু মানুষ শয়তানের প্ররোচনায় ও তার কুমন্ত্রণায় হক্বের পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। কখনোবা এ পথে মানুষ যাতে আসতে না পারে সেজন্য বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলে ঐসব মানুষও শয়তানের ন্যায় অভিশপ্ত হয়েছে, জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামের কীটে পরিণত হয়েছে। আলোচ্য নিবন্ধে হক্বের পথে, আল্লাহর পথে তথা দ্বীনের পথে বাধা দেওয়ার পরিণতি সম্পর্কে আলোচনা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

দ্বীনী কাজে বাধা প্রদানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট :
মহান আল্লাহ আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করে জ্বিন-ফিরিশতা সবাইকে নির্দেশ দেন আদমকে সিজদা করার জন্য। সবাই নির্দেশ মেনে আদমকে সিজদা করলেও ইবলীস অহংকারবশতঃ আল্লাহর নির্দেশকে অমান্য করে অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয় (বাক্বারাহ ২/৩৪)। আদমের কারণে যেহেতু ইবলীসের উচ্চ মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত হয়, সেজন্য সে আদম ও তাঁর সন্তানদের প্রতি ঈষাপরায়ণ হয়ে পড়ে। সে মানুষের চিরশত্রুতে পরিণত হয়। শুরু হয় তার চতুর্মুখী ষড়যন্ত্র ও মানুষকে নানাভাবে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা। সে বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে মানুষকে কুফরী করতে প্ররোচিত করে। কিন্তু শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ কুফরীতে লিপ্ত হ’লে সে বলে, ‘আমি তোমার থেকে মুক্ত এবং আমি মহান আল্লাহ্কে ভয় করি’ (হাশর ৫৯/১৬)।

Continue reading

মৃদু ভূকম্পন বড় ভূমিকম্পের এলাহী হুঁশিয়ারি


আবু ছালেহ

প্রাচীনকাল থেকেই ভূমিকম্প নিয়ে মানব মনে নানা রকম অন্ধবিশ্বাস ও কুসংস্কার আসন গেড়ে বসে আছে। অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন এক শ্রেণীর মানুষের বিশ্বাস, পৃথিবীটা গরু বা মহিষের মত শিংওয়ালা বিশাল আকৃতির কোন প্রাণীর মাথার উপর অবস্থিত। যখন সেই জন্তুটি নড়াচড়া করে, তখন এই পৃথিবীটাও নড়ে উঠে এবং ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। তবে এসব ভ্রান্ত বিশ্বাসের আদৌ কোন শারঈ বা বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
ভূমিকম্পের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ হ’ল, পৃথিবীর ভূগর্ভস্থ বিভিন্ন স্তরের শিলাখন্ডের স্থিতিস্থাপকীয় বিকৃতির ফলে ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়। আর শারঈ বিশ্লেষণ হ’ল, এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা গযব। এক্ষেত্রে বাহ্যতঃ বিজ্ঞান ও শরী‘আতের মধ্যে ভিন্ন মত মনে হ’লেও প্রকৃতপক্ষে দু’টির মধ্যে কোন বিরোধ নেই। মহান আল্লাহ পৃথিবীতে চলমান রীতির ব্যত্যয় ভাল বা মন্দ কিছু করতে চাইলে, তার জন্য নিজস্ব ক্ষমতাবলে প্রথমে উক্ত কর্মের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে নেন। উদাহরণ স্বরূপ আল্লাহ কোথাও বৃষ্টি বর্ষণ করতে ইচ্ছা করলে আগেই সেখানে নিজস্ব প্রক্রিয়ায় মেঘের সমাগম ঘটান তথা বৃষ্টির উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। যখন বৃষ্টির একটা উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়, তখনই যান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আবহাওয়া দপ্তর তার পূর্বাভাস দিতে পারে এবং দিয়েও থাকে। কিন্তু উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির আগ পর্যন্ত সে সম্পর্কে পৃথিবীর কারো পক্ষে কিছুই বলা সম্ভব হয় না। অনুরূপ কোথাও যখন আল্লাহ ভূমিকম্প সৃষ্টি করতে চান, তখন সেখানকার ভূগর্ভস্থ মাটি বা শিলা স্তরে আল্লাহ নিজস্ব প্রক্রিয়ায় ভূমিকম্পের উপযোগী পরিবর্তন আনয়ন করেন। আর তখনি তা ভূতত্ত্ববিদদের নযর বা যন্ত্রে ধরা পড়ে। ফলে তাদের ক্ষুদ্র জ্ঞানে ভূমিকম্পের ব্যাখ্যা ঐ পরিবর্তিত পরিস্থিতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। সুতরাং ভূমিকম্প সংক্রান্ত বিষয়ে বৈজ্ঞানিক ও শরী‘আতের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে তথ্যগত কোন বৈপরীত্য নেই।
পাপাচারী, নাফরমান, অবাধ্য ও সীমালঙ্ঘনকারী বহু জাতিকে ধ্বংস করতে মহান আল্লাহ দুনিয়ায় নানা ধরনের গযব দিয়েছেন। কাউকে বন্যা-প্লাবনের মাধ্যমে, কাউকে ঘৃণ্য জন্তুতে যেমন বানর-শুকরে পরিণত করে, কোন জাতিকে ঝড়-তুফানের মাধ্যমে, কাউকে বিকট শব্দ বা গর্জনের মাধ্যমে, কাউকে সাগর বা নদীতে ডুবিয়ে, কাউকে পাথর নিক্ষেপ করে, কাউকে বজ্রপাত ইত্যাদির মাধ্যমে ধ্বংস করে দিয়েছেন। আর এলাহী গযবের মূল কারণ হ’ল, আল্লাহর নাফরমানী বা সীমালঙ্ঘন। এ বিষয়ে নিম্নের হাদীছটি প্রণিধানযোগ্য।
আব্দুল্লাহ ইবনু ওমর (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদিন রাসূল (ছাঃ) সকলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘হে আনছার ও মুহাজিরের দল! তোমাদেরকে পাঁচটি ব্যাপারে পরীক্ষায় ফেলে কষ্ট দেওয়া হবে। …তার পঞ্চমটি হ’ল وَمَالَمْ تَحْكُمْ اَئِمَّتُهُمْ بِكِتَابِ اللهِ وَيَتَخَيَّرُوْا مِمَّا أَنْزَلَ اللهُ إِلاَّ جَعَلَ اللهُ بَأَسَهُمْ بَيْنَهُمْ. ‘যখন আলেম ও শাসকগণ আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী শাসন কাঠামো পরিচালনা করবে না; বরং আল্লাহর দেওয়া বিধানের উপর নিজ ইচ্ছা প্রয়োগ করবে, তখন আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপর দুঃখ-কষ্ট, দুর্ভোগ, দুরবস্থা, দরিদ্রতা ও দুর্যোগ চাপিয়ে দিবেন’।
আল্লাহর পক্ষ থেকে আসা এরকম একটি ভয়ানক গযব হ’ল ভূমিকম্প। ভূমিকম্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, পৃথিবী সৃষ্টি থেকে আজ পর্যন্ত পাপাচারী, বিভ্রান্ত ও সীমালঙ্ঘনকারী বহু জাতিকে মহান আল্লাহ ভূমিকম্পের মত ভয়াবহ গযব দিয়ে ধ্বংস করেছেন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আমি মাদইয়ানবাসীদের প্রতি তাদের ভাই শো‘আয়েবকে প্রেরণ করেছি। সে বলল, হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর, শেষ দিবসের আশা রাখ এবং পৃথিবীতে অনর্থ সৃষ্টি কর না। কিন্তু তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলল, অতঃপর তারা ভূমিকম্প দ্বারা আক্রান্ত হ’ল এবং নিজেদের গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল’ (আনকাবূত ৩৯/৩৬-৩৭)। একই বর্ণনা এসেছে আ‘রাফের ৯১নং আয়াতেও।

Continue reading

ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকতা


ড. মুহাম্মাদ আলী

ইসলাম সকল প্রকার মাদক তথা নেশাদার দ্রব্য হারাম ঘোষণা করেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, كُلُّ مُسْكِرٍ خَمْرٌ وَ كُلُّ خَمْرٍ حَرَامٌ  ‘প্রত্যেক নেশাদার দ্রব্যই মদ আর যাবতীয় মদই হারাম’।১ অথচ এই মাদকের ভয়ংকর থাবায় আজ বিশ্বব্যাপী বিপন্ন মানব সভ্যতা। এর সর্বনাশা মরণ ছোবলে জাতি আজ অকালে ধ্বংস হয়ে যচ্ছে। ভেঙ্গে পড়ছে অসংখ্য পরিবার। বিঘ্নিত হচ্ছে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন। বৃদ্ধি পাচ্ছে চোরাচালানসহ মানবতা বিধ্বংসী অসংখ্য অপরাধ। মাদকাসক্তির কারণে সকল জনপদেই চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বেড়ে গিয়ে মানুষের জান-মাল ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। সমাজের অধিকাংশ অপরাধের জন্য মুখ্যভাবে দায়ী এই মাদকতা। এজন্য রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, لاَتَشْرَبِ الْخَمْرَ، فَإِنَّهُ مِفْتَاحُ كُلِّ شَرٍّ. ‘মদ পান করো না। কেননা তা সকল অপকর্মের চাবিকাঠি’।২ অন্য হাদীছে এসেছে, اِجْتَنِبُوا الْخَمْرَ فَإِنَّهَا أُمُّ الْخَبَائِثِ. ‘তোমরা মদ থেকে বেঁচে থাক। কেননা তা অশ্লীল কাজের মূল’।৩ আলোচ্য প্রবন্ধে ইসলামের দৃষ্টিতে মাদকতা ও এর প্রতিকারের উপায় আলোচনা করা হ’ল –
আভিধানিক অর্থ : মাদকদ্রব্যের আরবী প্রতিশব্দ ‘খমর’ (خمر)। এর অর্থ- সমাচ্ছন্ন করা, ঢেকে দেয়া। এই সকল অর্থের সাথে সম্পর্কিত হওয়ার কারণেই মদ ও শরাবকে ‘খমর’ বলা হয়।
Cambridge Dictionary-তে বলা হয়েছে, An alcoholic drink which is usually made from grapes but can also be made from other fruits or flowers. It is made by FERMENTING, the fruit with water and sugar.
‘মদ হ’ল নেশাকর পানীয় যা সাধারণত আঙ্গুর থেকে তৈরী হয়। তবে অন্যান্য ফল ও ফুল থেকেও তৈরী হ’তে পারে। এটা উত্তেজনা সৃষ্টির জন্য চিনি ও পানির মাধ্যমে ফল দ্বারা তৈরী হয়’।
পারিভাষিক অর্থ : ‘যে সকল বস্ত্ত সেবনে মাদকতা সৃষ্টি হয় এবং বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে ফেলে অথবা বোধশক্তির উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করে তাকে মাদকদ্রব্য বলে। কবি বলেন, شَرِبْتُ الْخَمْرَ حَتَّى ضَلَّ عَقْلِىْ + كَذَاكَ الْخَمْرُ تَفْعَلُ بِالْعُقُوْلِ. ‘মদ পান করে আমার বিবেক হারিয়ে গেছে। মদ এভাবেই বুদ্ধিকে নিয়ে খেল-তামাশা করে’। সাধারণত নেশা জাতীয় দ্রব্যসামগ্রী গ্রহণ করা বা পান করাই মাদকাসক্তি।
এ মর্মে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর বাণী : وَ الْخَمْرُ مَا خَامَرَ الْعَقْلَ ‘মদ বা মাদকদ্রব্য তাই, যা জ্ঞান-বুদ্ধিকে আচ্ছন্ন করে’।

Continue reading