হজ কিভাবে মাবরূর হবে?


লেখকঃ নুমান বিন আবুল বাশার

 আল্লাহ তা‘আলা হজে মাবরুরের জন্য মহা পুরস্কারের ব্যবস্থা করেছেন। রাসুলুল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনছেনঃ হজে মাবরুরের একমাত্র প্রতিদান জান্নাত। [1]

হজে মাবরূর : যে হজে বেশি বেশি ইবাদত বন্দেগী এবং ভাল কাজ করা হয় তাকে হজে মাবরুর তথা গ্রহণযোগ্য হজ বলে[2]। আরবী ‘বির’ থেকে মাবরূর। এই ‘বির’ শব্দটি দুটো অর্থে ব্যবহৃত হয়ঃ

এক. মানুষের সাথে সদ্ব্যবহার ও সুসম্পর্ক। যার বিরপরীত হল দুর্ব্যবহার। হাদীছে বর্ণীত আছে : (আল-বির হুসনুল খালকি) বির হলো সদ্ব্যবহার[3]  মুছনাদ গ্রন্থে সাহাবী যাবের (রাঃ) রাসুলুল্লাহ (সাঃ) থেকে বর্ণনা করেন: একদা সাহাবায়ে কেরাম রাসূল (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! হজের মধ্যে বির বা সৎকর্ম কি? রাসূল (সাঃ)উত্তরে বললেনঃ “মানুষকে আহার দান, বেশি বেশি সালামের আদান প্রদান”।[4]

দুই. অধিক হারে ইবাদত বন্দেগী ও তাকওয়ার গুনাবলী অর্জন। যার বিপরীত হল গুনাহ বা নাফরমানী। আল্লাহ তাআলা বলেন :

أَتَأْمُرُونَ النَّاسَ بِالْبِرِّ وَتَنْسَوْنَ أَنْفُسَكُمْ

তোমরা মানুষকে সৎকর্মের আদেশ কর। অথচ নিজেদের কে ভুলে যাও?[5]

ইমাম কুরতুবী রহ. বলেন হজে মাবরুরের ব্যাখ্যায় যত মত আছে সবগুলো কাছাকাছি অর্থ বহন করে। তা হলো হজ সম্পাদনকারী হজের সকল বিধান শরীয়তের চাহিদা অনুযায়ী যথাস্থানে পরিপূর্ণভাবে আদায় করবে [6]। অতএব কেহ বায়তুল্লাহর হজ করলেই তার হজ, হজে মাবরুর হবে না। একদা মুজাহিদ রহ. বলেছিলেন কত বিপুল সংখ্যক হাজীর সমাগম! তখন ইবনে উমার (রাঃ) বলেন ‘বাস্তবে হাজীর সংখ্যা খুবই সীমিত বরং তুমি বলতে পারো কাফেলার সংখ্যা কতইনা বেশি।’ [7]

হজ আদায়কারী লোক বিভিন্ন প্রকার হওয়ার কারনে এমন কিছু বিশেষ নীতি উল্লেখ করা প্রয়োজন যা হাজীকে বিশেষভাবে সহায়তা করবে। যেন তার হজ ‘হজে মাবরুর’ হয় ও শ্রম সার্থক হয়।

Continue reading

হজকর্ম সমূহের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস


লেখকঃ মুহাম্মাদ শামসুল হক সিদ্দীক

তাওয়াফ

পবিত্র কুরআনে এসেছে :

…এবং আমি ইব্রাহীম ও ইসমাইলের নিকট অঙ্গীকার নিয়েছিলাম যে,  তোমরা আমার গৃহকে তাওয়াফকারী ও ইতিকাফকারীদের এবং রুকু ও সিজদাকারীদের জন্য পবিত্র রেখ।(সুরা বাকারাঃ১২৫)

এ আয়াত থেকে বুঝা যায় তাওয়াফ কাবা নির্মাণের পর থেকেই শুরু হয়েছে।

রামল

রামল শুরু হয় সপ্তম হিজরীতে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ষষ্ঠ ‘হিজরীতে হুদায়বিয়া থেকে ফিরে যান উমরা আদায় না করেই। হুদায়বিয়ার চুক্তি অনুযায়ী পরবর্তী বছর তিনি ফিরে আসেন উমরা পালনের উদ্দেশ্যে। সময়টি ছিল যিলকদ মাস। সাহাবাদের কেউ কেউ জ্বরাক্রান্ত হয়েছিলেন এ বছর। তাই মক্কার মুশরিকরা মুসলমানদেরকে নিয়ে ব্যঙ্গ করে পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল, ‘এমন এক সম্প্রদায় তোমাদের কাছে আসছে ইয়াছরিবের (মদিনার) জ্বর যাদেরকে দুর্বল করে দিয়েছে’।  শুনে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) সাহাবাদেরকে (রাঃ) রামল অর্থাৎ আমাদের যুগের সামরিক বাহিনীর কায়দায় ছোট ছোট কদমে গা হেলিয়ে বুক টান করে দৌড়াতে বললেন। উদ্দেশ্য, মুমিন কখনো দুর্বল হয় না এ কথা মুশরিকদেরকে বুঝিয়ে দেয়া (সহীহ মুসলিমঃ ৪/২৯২৪ ইঃফাঃ)। একই উদ্দেশ্যে রামলের সাথে সাথে ইযতিবা অর্থাৎ চাদর ডান বগলের নীচে রেখে ডান কাঁধ উন্মুক্ত রাখারও নির্দেশ করলেন তিনি। সেই থেকে রমল ও ইযতিবার বিধান চালু হয়েছে।

Continue reading

এক নযরে হজ্জ


-আত-তাহরীক ডেস্ক

(১) ‘মীক্বাত’ থেকে ইহরাম বেঁধে সরবে ‘তালবিয়াহ’ পড়তে পড়তে কা‘বা গৃহে পৌঁছবেন।
(২) ‘হাজারে আসওয়াদ’ হ’তে ত্বাওয়াফ শুরু করে সেখানেই সাত ত্বাওয়াফ সমাপ্ত করবেন এবং ‘রুক্নে ইয়ামানী’ ও ‘হাজারে আসওয়াদ’-এর মধ্যে ‘রববানা আ-তিনা ফিদ্দুন্ইয়া …’ (পৃঃ ৬১) পড়বেন।
(৩) ত্বাওয়াফ শেষে মাক্বামে ইবরাহীমের পিছনে অথবা হারামের যে কোন স্থানে দু’রাক‘আত নফল ছালাত আদায় করবেন। অতঃপর যমযমের পানি পান করবেন।
(৪) এরপর প্রথমে ‘ছাফা’ পাহাড়ে উঠে কা‘বার দিকে মুখ করে দু’হাত উঠিয়ে কমপক্ষে তিন বার ‘লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু… ওয়াহদাহু… ওয়া হাযামাল আহ্যা-বা ওয়াহদাহু’ (পৃঃ ৩০) দো‘আটি পড়ে ‘মারওয়া’র দিকে ‘সাঈ’ শুরু করবেন। অল্প দূর গিয়ে দুই সবুজ চিহ্নের মধ্যে কিছুটা দ্রুত চলবেন। তবে মহিলাগণ স্বাভাবিক গতিতে চলবেন। ‘ছাফা’ হ’তে ‘মারওয়া’ পর্যন্ত একবার ‘সাঈ’ ধরা হবে। এইভাবে সপ্তম বারে ‘মারওয়ায়’ গিয়ে ‘সাঈ’ শেষ হবে।
(৫) ‘সাঈ’ শেষে মাথা মুন্ডন করবেন অথবা সব চুল ছোট করবেন। মহিলাগণ চুলের অগ্রভাগ থেকে এক আঙ্গুলের মাথা পরিমাণ সামান্য চুল ছাঁটবেন।
(৬) ‘হজ্জে তামাত্তু’ সম্পাদনকারী প্রথমে ওমরাহ শেষ করে হালাল হয়ে সাধারণ কাপড় পরিধান করবেন। কিন্তু ‘হজ্জে ইফরাদ’ ও ‘ক্বিরান’ সম্পাদনকারীগণ ইহরাম অবস্থায় থেকে যাবেন।
(৭) ৮ই যুলহিজ্জার দিন মক্কায় স্বীয় আবাসস্থল হ’তে গোসল করে ও খোশবু লাগিয়ে হজ্জের ইহরাম বেঁধে ‘লাববায়েক…’ বলতে বলতে মিনার দিকে রওয়ানা হবেন।
(৮) মিনায় পৌঁছে সেখানে যোহর, আছর, মাগরিব, এশা ও ফজরের ছালাত পৃথক পৃথকভাবে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে ‘ক্বছর’ সহ আদায় করবেন। দুই ওয়াক্তের ছালাত একত্রে  জমা করা চলবে না।

Continue reading

হজ্জের ক্ষেত্রে প্রচলিত কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি


মূল : ড. ছালেহ বিন ফাওযান আল-ফাওযান*
অনুবাদ : মুহাম্মাদ ইমদাদুল্লাহ**

মহান আল্লাহর প্রশংসা ও রাসূলের উপর ছালাত ও সালাম পেশের পর বক্তব্য এই যে, যেহেতু হজ্জ পালন করা ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের অন্যতম, তাই রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) তাঁর কথা, কাজ ও তাক্বরীর বা অনুমোদনের মাধ্যমে এর বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। আর ছাহাবীগণ (রাঃ) তাঁর অনুসরণ করার জন্য তাঁকে পর্যবেক্ষণ করতেন। কেননা তিনি বলেছেন, ‘তোমরা আমার নিকট থেকে তোমাদের হজ্জের নিয়ম-পদ্ধতি শিক্ষা করে নাও’।
এই নির্দেশের ফলে ছাহাবীগণ তাঁর নিকট থেকে হজ্জের বিধি-বিধান শিখে তা আমাদের নিকট পরিপূর্ণরূপে বর্ণনা করেছেন। এরূপ সুস্পষ্ট ও পরিপূর্ণ বিবরণ থাকা সত্তেবও কতিপয় লোক ফযীলত অর্জনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি অথবা কোন বিদ‘আত বা পাপে পতিত হওয়ার মাধ্যমে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রদর্শিত পন্থা বিরোধী কার্যকলাপের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এর অন্যতম কারণ হ’ল অজ্ঞতা, বিবেক-বুদ্ধি নির্ভর সিদ্ধান্ত ও অনির্ভরযোগ্য আলেমের অনুসরণ। এরূপ কতিপয় বিষয় যেগুলোতে অনেক হাজী ছাহেবই পতিত হয়ে থাকেন, তার কিছু বিবরণ নিম্নে প্রদত্ত হ’ল।-
ইহরামের ক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি :
১। আকাশপথে আগমনকারী কোন কোন হাজী জেদ্দা বিমানবনদরে পৌঁছার পর সেখান থেকে বা মক্কার আরো নিকটবর্তী হয়ে ইহরাম বাঁধেন। অথচ রাস্তায় তার মীক্বাত পূর্বেই অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, هُنَّ لَهُنَّ وَلِمَنْ أَتَى عَلَيْهِنَّ مِنْ غَيْرِ أَهْلِهِنَّ. ‘যারা এইসব মীক্বাত এলাকার অধিবাসী অথবা যারা এগুলি অতিক্রম করেন, তারা হজ্জ বা ওমরার জন্য এসব স্থান থেকে ইহরাম বাঁধবেন। কিন্তু যারা এসব মীক্বাত-এর অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে বসবাস করেন, তারা স্ব স্ব অবস্থান থেকে ইহরাম বাঁধবেন।২ সুতরাং যে ব্যক্তি হজ্জ ও ওমরা করতে ইচ্ছুক তাকে ঐ মীক্বাত থেকে ইহরাম বাঁধতে হবে যেটি সে অতিক্রম করবে অথবা বিমান ও স্থলপথে তার সামনাসামনি হবে। যদি সে তা অতিক্রম করে এবং অন্য জায়গায় গিয়ে ইহরাম বাঁধে তাহ’লে সে হজ্জের একটি ওয়াজিব পরিত্যাগ করার কারণে ‘দম’ বা একটি বকরী কুরবানী দিতে হবে। হজ্জের ওয়াজিব সমূহের মধ্যে একটি ওয়াজিব ছেড়ে দেওয়ার কারণে ‘দম’ বা কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। আর জেদ্দা তার অধিবাসী ব্যতীত অন্যদের জন্য মীক্বাত নয়।
২। অনেক হাজী মনে করেন ইহরাম বাঁধার সময় তার নিকট যে সকল সামগ্রী (জুতা, কাপড়, টাকা-পয়সা প্রভৃতি) থাকবে, ইহরাম অবস্থায় সে শুধুমাত্র সেগুলোই ব্যবহার করতে পারবে। পরবর্তীতে সংগৃহীত বা ক্রয়কৃত সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবে না। এটা বড় ভুল ও নিরেট মূর্খতা। বরং তিনি ইহরামের সময় যে জিনিসগুলো তার নিকট ছিল না সেগুলো ব্যবহার করতে পারবে, প্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে পারবে ও ব্যবহার করতে পারবে এবং পরিধানকৃত ইহরামের পোষাকের অনুরূপ পোষাক এবং পরিধেয় জুতা পরিবর্তন করতে পারবে। তবে মুহরিম ব্যক্তিকে অবশ্যই ‘নিষিদ্ধ কার্যাবলী’ থেকে বিরত থাকতে হবে।
৩। অনেক পুরুষ ইহরাম বাঁধার সময় ইযতেবার মত কাঁধ খোলা রাখেন। এটা ঠিক নয়। বরং ইযতেবা (কাঁধ খোলা রাখা) শুধু তাওয়াফের (তাওয়াফে কুদূম বা তাওয়াফে ওমরা) এর সাথে সংশ্লিষ্ট। অন্য সকল সময়ে কাঁধ চাদর দ্বারা ঢাকা থাকবে।
৪। অনেক মহিলা মনে করেন তাদের ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট রঙের কাপড় রয়েছে। যেমন সবুজ। এটা ভুল ধারণা। কেননা তাদের জন্য নির্দিষ্ট কোন রংয়ের পোষাক ইহরামের জন্য নির্ধারিত নেই, বরং তারা স্বাভাবিক যে কোন কাপড়ে ইহরাম বাঁধতে পারবেন। তবে সৌন্দর্য্যমন্ডিত, আটসাঁট অথবা পাতলা কাপড় পরিধান করা ইহরাম বা অন্য কোন অবস্থাতেও জায়েয নয়।

Continue reading

হজ্জের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা


হজ্জ মানুষের বিশৃংখল মন, বিশৃংখল ব্যক্তিত্ব এবং বিশৃংখল জীবনের জন্য মহব্বতের এক সুশৃখংল কেন্দ্র রচনা করে যেখানে একত্রিত হয়ে মানুষ হতে পারে একে অপরের প্রাণ। এটা যে কত বড় মূল্যবান, কত শক্তিশালী একক বৈশিষ্ট্যের অধিকারী তা অনুমান করা কঠিন। আরো অগ্রসর হয়ে বলা যায় হজ্জ মানুষের জীবনকে শুধু সম্মিলিত ও তৎপরই করে না। বরং তাতে ইতিহাসের একটা জীবন্তধারা বানিয়ে আপনাদেরকে তার অংশ সাব্যস্ত করে দেয়। আপনাদের মনে হবে ইতিহাসের দীর্ঘ সফরে আপনারা কোন তাৎপর্যহীন একক নন যা বিচ্ছিন্ন কোন বিন্দুতে একাকী দণ্ডায়মান। বরং আপনারা এক বিশাল এবং আলোকোজ্জ্বল কাফেলার অংশ হয়ে গেছেন যার শুরুটা ও শেষটা রয়েছে আপনাদের সঙ্গে। আপনারা শুধু খানায়ে কা’বার ও আরাফাতে অনুষ্ঠিত সম্মেলন থেকেই শক্তি পাচ্ছেন না বরং এ পথের সকল পথিককেও সাথে পাচ্ছেন এবং ইতিহাসের এ মহান আলোকধারার অংশ হয়ে শক্তি ও সামর্থ্যের এক চিরস্থায়ী ভাণ্ডার লাভে সক্ষম হচ্ছেন।
যখন কা’বাকে নিজের সামনে পাবেন তখন ভাববেন

এটাই সেই “আল বায়তুল আতীক” অর্থাৎ পবিত্র ঘর-যা পৃথিবীর প্রথম মানুষটি তার একক মা’বুদের ইবাদাতের জন্য পৃথিবীর গোলকে প্রথম টুকরোটা ওয়াকফ করেছিলেন। বিভিন্ন বিবরণ থেকে জানা যায় এটা প্রথম তৈরী করেন হযরত আদম (আ.) এবং নতুন করে এর ভিত্তি স্থাপন করেন হযরত ইবরাহীম (আ.)। পাথর অবশ্য পরিবর্তন হয়েছে কিন্তু বুনিয়াদ সেটাই রয়ে গেছে এবং হাজরে আসওয়াদও তখন থেকেই আছে। চিন্তা করে দেখুন, খানায়ে কা’বা আপনাদেরকে মানবেতিহাসের সূচনার অংশীদার বানিয়ে দিয়েছে।

Continue reading

জিলহজ মাসের প্রথম দশদিনের ফযীলত এবং ঈদ ও কুরবানীর বিধান


আব্দুল মালেক আল-কাসেম

অনুবাদ : সানাউল্লাহ নজির আহমদ

সম্পাদনা: চৌধুরী আবুল কালাম আজাদ

জিলহজ মাসের দশদিনের ফযীলত :

আল্লাহ তা‌’আলার অশেষ মেহেরবানী যে, তিনি নেককার বান্দাদের জন্য এমন কিছু মৌসুম করে দিয়েছেন, যেখানে তারা প্রচুর নেক আমল করার সুযোগ পায়, যা তাদের দীর্ঘ জীবনে বারবার আসে আর যায়। এসব মৌসুমের সব চেয়ে বড় ও মহত্বপূর্ণ হচ্ছে জিলহজ মাসের প্রথম দশদিন।

জিলহজ মাসের ফযীলত সম্পর্কে কুরআন ও হাদীসের কতক দলীল :

১. আল্লাহ তা‌’আলা বলেন :

﴿ وَالْفَجْرِ، وَلَيَالٍ عَشْرٍ  [الفجر:1-2]

কসম ভোরবেলার। কসম দশ রাতের। (সূরা ফাজর : ১-২) ইবনে কাসীর রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : এর দ্বারা উদ্দেশ্য জিলহজ মাসের দশ দিন।

২. আল্লাহ তা‌আলা বলেন :

﴿ وَيَذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ فِي أَيَّامٍ مَّعْلُومَاتٍ  [الحج:28]

তারা যেন নির্দিষ্ট দিনসমূহে আল্লাহর নাম স্মরণ করে। (হজ : ২৮) ইবনে আব্বাস বলেছেন : অর্থাৎ জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিন।

৩. ইবনে আব্বাস রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, এ দিনগুলোর তুলনায় কোনো আমল-ই অন্য কোন সময় উত্তম নয় । তারা বলল : জিহাদও না ? তিনি বললেন : জিহাদও না, তবে যে ব্যক্তি নিজের জানের শঙ্কা ও সম্পদ নিয়ে বের হয়েছে, অতঃপর কিছু নিয়েই ফিরে আসেনি। (বুখারী)

৪. ইবনে ওমর রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন : রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহর নিকট কোন দিন প্রিয় নয়, আর না তাতে আমল করা, এ দশ দিনের তুলনায়। সুতরাং তাতে তোমরা বেশী করে তাহলীল, তাকবীর ও তাহমীদ পাঠ কর। (তাবারানী ফীল মুজামিল কাবীর)

৫. সাঈদ ইবনে জুবায়ের রাহিমাহুল্লাহর অভ্যাস ছিল, যিনি পূর্বে বর্ণিত ইবনে আব্বাসের হাদীস বর্ণনা করেছেন : যখন জিলহজ মাসের দশ দিন প্রবেশ করত, তখন তিনি খুব মুজাহাদা করতেন, যেন তার উপর তিনি শক্তি হারিয়ে ফেলবেন। (দারামী, হাসান সনদে)

৬. ইবনে হাজার রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন : জিলহজ মাসের দশ দিনের ফযীলতের তাৎপর্যের ক্ষেত্রে যা স্পষ্ট, তা হচ্ছে এখানে মূল ইবাদাতগুলোর সমন্বয় ঘটেছে। অর্থাৎ সালাত, সিয়াম, সাদকা ও হজ, যা অন্যান্য সময় আদায় করা হয় না। (ফাতহুল বারী)

৭. উলামায়ে কেরাম বলেছেন : জিলহজ মাসের দশদিন সর্বোত্তম দিন, আর রমযান মাসের দশ রাত, সব চেয়ে উত্তম রাত।

Continue reading