সর্বনাশের সিঁড়ি


মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান

বিশ্ব রাজনীতি স্বীকৃত মৌলিক নাগরিক অধিকার পাঁচটি, যথা- অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা এবং চিকিৎসা। মনুষ্যজীবনে এগুলি এমনি আবশ্যক, এর একটিও পরিহার্য নয়। আবার ইসলাম ধর্মও পাঁচটি ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত, যথা- কালেমা, ছালাত, ছিয়াম, যাকাত এবং হজ্জ। ইসলাম থেকে এর একটিও পরিহার্য নয়। এই নিয়মে আমি সর্বনাশের  পাঁচটি সিঁড়ি চিহ্নিত করতে চাই, যথা- সূদ, ঘুষ, পর্দাহীনতা, টেলিভিশন এবং মোবাইল। এগুলির পরিণাম সর্বনাশ। তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তাই তাকে বলেছি সর্বনাশের সিঁড়ি। যেহেতু এসবের মাধ্যমেই সর্বনাশ আসে।
প্রথমেই সূদের কথা বলা যাক। সূদের বিনিময়ে যারা টাকা লগ্নী করে, তারা একে ব্যবসা বলে। আর এটি এমনই ব্যবসা যাতে ব্যবসায়ের দু’টি মূলনীতি কিংবা পরিণামের একটি অনুপস্থিত। অর্থাৎ এতে লোকসান নেই। অথচ ব্যবসায়ে লাভ এবং লোকসান দু’টিই থাকার কথা। আবার লাভ-লোকসান বরাবর অপরিবর্তিত থাকারও কথা নয়। কিন্তু সূদের বেলায় শুধু লাভই থাকে এবং তা অপরিবর্তিত। এ কারণে সূদকে ব্যবসা বলার কোন যুক্তি নেই। বরং শোষণের হাতিয়ার বা পন্থা বলাই সংগত। সূদে আবার সূদের সূদ, তস্য সূদ অর্থাৎ চক্রবৃদ্ধির সুযোগটাও রয়েছে। তবু সূদ আন্তর্জাতিক। সেকারণে গণিতশাস্ত্রেও তার স্থান রয়েছে। অর্থাৎ গণিতশাস্ত্র অধ্যয়নে সূদ কষার  নিয়ম শেখার ব্যবস্থা রয়েছে।
সূদের ব্যবসায়ে লোকসান নেই বলেই লগ্নীকারীরা এতে অর্থ লগ্নী করে। কিন্তু সূদে অর্থ গ্রহীতারা সবাই যে নিতান্ত নিরুপায় হয়ে এ ঋণ গ্রহণ করে, তা নয়। অনেক অর্থশালী ব্যবসায়ীরা ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সূদী ঋণ গ্রহণ করে। তার ফলে তাদের ব্যবসা সম্প্রসারিত হয়। অধিক মুনাফা করতে পারায়, তাদের ধন বৃদ্ধি পায়। আর ধন বৃদ্ধির সংগে পাল্লা দিয়ে অহেতুক বিলাস-ব্যসনের মাত্রাও বাড়িয়ে দেয়। যারা অধিক টাকা না থাকার কারণে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী কিংবা আদৌ টাকা না থাকায় ব্যবসা করতে পারে না, তারা সূদের ভিত্তিতে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করে। প্রায়শঃ দেখা যায়, এ ধরনের ব্যবসায়ীরা পরিণামে ব্যবসায়ে ফেল মারে। তার কারণ হিসাবে জানা যায় যে, আয়ের  চাইতে ব্যয় অধিক করার ফলেই পরিণামটা এরূপ হয়।
বর্তমানে দেখা যাচ্ছে যে, আমাদের দেশে প্রচুর এনজিও রয়েছে, যারা কিস্তিতে সূদ পরিশোধ  (আসলের অংশ সহ)
চুক্তিতে ঋণ প্রদান করে। আবার গ্রামের লোকেরাও অনুরূপ ঋণদান সমিতি গড়ে তুলেছে। তারাও এনজিওর মতো সূদ এবং কিস্তি পরিশোধের নিয়মে ঋণ প্রদান করে। এমনও দেখা যায়, অনেক দরিদ্র ব্যক্তি এনজিও কিংবা সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে তেমন কোন ব্যবসা না করে ঘরের চালে টিন দেয়, টেলিভিশন ক্রয় করে। এভাবে অর্থ ব্যয়ে কিছুটা বিলাসী জীবন-যাপনের চেষ্টা করে। অতঃপর খেয়ে- না খেয়ে কিস্তি পরিশোধের চেষ্টা করে। পরিশেষে কিস্তি খেলাপের কবলে পড়ে কেউবা পৈত্রিক ভিটেবাড়ী বিক্রি করে ঋণ পরিশোধে বাধ্য হয়। কেউবা ঘর-বাড়ী ছেড়ে পালিয়ে যায় শহরে। কেউবা আত্মহত্যা করে রেহাই পায়। এরূপ ঘটনা কখনও কখনও আমাদের কর্ণগোচর হয়। আবার বৃহৎ ব্যবসায়ীদেরও কেউ কেউ ঋণ খেলাপী হয়ে পড়ে। অতএব সূদকে সর্বনাশের সিঁড়ি বলতে বাধা কোথায়? সূদ হারাম হ’লেও বহু দেশে সরকারী আইনে তা সিদ্ধ। অবশ্য সর্বনাশটা কারো কখনও কাম্য নয়। কিন্তু সর্বনাশটা প্রায়শঃ হয়ই। আর এই সূদের কারবারে নোবেল প্রাইজ পেয়েছেন ডঃ ইউনুস। অথচ সূদ আল্লাহ ও তাঁর রাসূল হারাম করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘বস্ত্ততঃ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সূদকে হারাম করেছেন’ (বাক্বারাহ ২/২৭৫)। তিনি আরো বলেন, ‘তোমরা কর্য দিয়ে ক্রমবর্ধমানহারে সূদ খেয়ো না এবং আল্লাহকে ভয় কর, তবেই তোমরা রক্ষা পাবে’ (আলে ইমরান ১৩০)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) সূদ প্রদানকারী, তার লেখক এবং সাক্ষীকে অভিশাপ দিয়েছেন; তারা সকলেই সমান (মুসলিম)

Continue reading

বাংলাদেশের সংবিধান হৌক ইসলাম


(১) বাংলাদেশের সংবিধান হৌক ইসলাম


মে ২০০৬ (৯/৮ সংখ্যা) ‘দরসে কুরআন’ কলামে আমাদের শিরোনাম ছিল ‘জাতিসংঘের সংবিধান হৌক ইসলাম’। আজ আমরা সম্পাদকীয়তে বলছি ‘বাংলাদেশের সংবিধান হৌক ইসলাম’। কেন বলছি? শুনুন তাহ’লে-
সংবিধান হ’ল একটি জাতি ও রাষ্ট্রের আয়না স্বরূপ। যার মধ্যে তাকালে পুরা দেশটাকে চেনা যায়। যদিও ছোট্ট পকেট সাইজ ঐ বইটির বাস্তবে কোন গুরুত্ব দেখা যায় না। কেননা কোন সরকারই এর কোন তোয়াক্কা করেন না। প্রত্যেকে স্ব স্ব চিন্তা-চেতনা বা দলীয় ইশতেহার বাস্তবায়নের নামে দেশ শাসন করেন। তবে এটি কাজে লাগে মূলতঃ বিচার বিভাগের। কেননা তারা সংবিধানের দেওয়া গাইড লাইনের বাইরে কোন বিচার করতে পারেন না। এটা কাজে লাগে সংসদে আইন রচনার ক্ষেত্রে ও প্রেসিডেন্ট কর্তৃক তা অনুমোদনের ক্ষেত্রে। কেননা তখন সংবিধানের বাইরে গিয়ে আইন রচনা করা বা তা অনুমোদন করা যায় না। এটা প্রয়োজন হয় জাতীয় ও রাষ্ট্রীয় পরিচিতির ক্ষেত্রে। আমাদের দেশটি ইসলামী রাষ্ট্র, না ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র, আমাদের পাসপোর্টে সেটা লেখা থাকে। যা দেখে বিদেশী রাষ্ট্রগুলি আমাদের রাষ্ট্র ও সমাজ সম্পর্কে প্রাথমিক পরিচিতি লাভ করে।
বাংলাদেশের ১ম সংবিধান রচিত হয় ১৯৭২ সালে পাকিস্তান গণপরিষদের জন্য ১৯৭০ সালে নির্বাচিত এম.পি-দের মাধ্যমে। যদিও উচিত ছিল স্বাধীন দেশে নতুনভাবে নির্বাচিত এম.পি-দের মাধ্যমে নতুন সংবিধান রচনা করা। ঐ সংবিধানে হঠাৎ করে রাষ্ট্রের চারটি মূলনীতি যুক্ত করা হয়। যথা ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদ। অথচ এইগুলি ১৯৫২ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত ২১ দফা, ৬ দফা প্রভৃতি ৭টি বড় বড় আন্দোলনের ইশতেহারের কোথাও ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের জারিকৃত ‘স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে’ও ছিল না। তাহ’লে এলো কোত্থেকে? সোজা কথায় বলতে গেলে বলতে হয়, এগুলি এসেছিল ভারতীয় সংবিধান থেকে। যাদের রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হ’ল ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ, সমাজতন্ত্র ও গণতন্ত্র। যদিও বাস্তবে সেখানে আছে চরম সাম্প্রদায়িকতাবাদ, চরম পুঁজিবাদ ও অন্ধ দলতন্ত্র ও পরিবারতন্ত্র। বর্তমান সংবিধানে আমাদের দেশের নাম হ’ল ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। জানি না এর প্রকৃত অর্থ কী? কেননা এদেশে কোন রাজা নেই। তাহ’লে আমরা কার প্রজা? এর সাথে ‘গণ’ শব্দটি জুড়ে দিয়ে তালগোল পাকিয়ে বুঝানো হচ্ছে যে, ‘জনগণই সকল ক্ষমতার মালিক’। অথচ জনগণই এদেশে সবচেয়ে নির্যাতিত শ্রেণী। আর মালিক হ’ল দলনেতা ও দলীয় ক্যাডাররা।

Continue reading

পুঁজিবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব


পুঁজিবাদের লোভ-লালসা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বা ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ নামে নিউইয়র্কে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার ৮২টি দেশের ৯৫১টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক অসমতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নামে মানুষ। ঐদিন সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে ইতালির রাজধানী রোমে। সেখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। এদিকে আমেরিকার নিউইয়র্কে প্রতিদিনই পুঁজিবাদের প্রতীক ‘ওয়াল স্ট্রিটে’ বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির মোট সম্পদের শতকরা নিরানববই ভাগ মাত্র এক ভাগ নাগরিকের হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং দেশটির সাধারণ জনগণের জন্য সাহায্যের কোন প্যাকেজ ঘোষণা না করে কেবল ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রিত কথিত ‘দেউলিয়া হয়ে পড়া’ ব্যাংক ও কোম্পানীগুলোকে অর্থ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ মালিক ও পুঁজিপতিদের দুর্নীতির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়েছে এবং বেড়েছে বেকারত্ব। সরকারী সাহায্যের সুবিধাভোগী ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষোভের কারণেই চলমান গণঅসন্তোষ শুরু হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটসহ গোটা আমেরিকায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে।
দিল্লীতে দিনে ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন
ভোর  ৬-টা থেকে বেলা ১২-টার মধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লীতে ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বেলা ১২-টা থেকে সন্ধ্যা ৬-টার মধ্যে ১৭টি এবং সন্ধ্যা ৬-টা থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হন। সেখানে একদিনে মোট ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন। ‘সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চে’র একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১১’র জুলাই পর্যন্ত পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া ৫৮টি এফআইআর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র মিলেছে।
ব্রিটেনের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ সুখী; সামাজিক অবক্ষয়ে ৫৯ শতাংশের উদ্বেগ প্রকাশ
অপরাধপ্রবণতা ও সহিংসতার হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে ব্রিটিশরা দিন দিন হয়ে উঠছে অসুখী। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের চেয়ে কম আয়তনের দেশ বিশেষ করে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালী, স্পেনের মানুষ যেখানে সুখী ও সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে, সেখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্রিটিশ বলছে তারা সুখী। ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্যে ঐ গবেষণা চালায় ‘ইউসুইচ ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ। গবেষণায় দেখা যায়, লন্ডনের ৫৯ শতাংশ মানুষই দেশটির সামাজিক অবক্ষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর তাদের এই উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছে, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ৪৭ শতাংশ অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত আতংকিত।

Continue reading

পুঁজিবাদের চূড়ায় ধ্বস


(১) পুঁজিবাদের চূড়ায় ধ্বস
Occupy Wall Street বা ‘ওয়াল স্ট্রীট দখল করো’ শ্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু শিক্ষার্থী ও সদ্য পাস করা বেকার যুবক গত ১৭ই সেপ্টেম্বর ’১১ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক রাজধানী নিউইয়র্কের রাস্তায় যে আন্দোলন শুরু করেছিল, তা মাত্র এক মাসের ব্যবধানে গত ১৫ই অক্টোবর বিশ্বের ৮২টি দেশের ৯৫১টি শহরে বিক্ষোভ আকারে ছড়িয়ে পড়ে। ফলে লন্ডনের ধনীরা এখন দেশ ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, জাপান সর্বত্র হাযার হাযার মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছে। তাদের একটাই ক্ষোভ ৯৯ শতাংশ মানুষের রূযী মাত্র ১ শতাংশ মানুষ ভোগ করছে। মুনাফালোভী ব্যাংকার ও ধনী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সারা পৃথিবী যেন একসাথে ফুঁসে উঠেছে। বিশ্ব পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে  এটি এখন টাইম বোমায় রূপ নিয়েছে।
এটা কি একদিনে হয়েছে? এটা কি কোন সাময়িক ইস্যু? না, বরং এটি শত বছরের ধূমায়িত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও বিশ্বজনীন ইস্যু। যেখানেই পুঁজিবাদ, সেখানেই এ ক্ষোভ অবশ্যই থাকবে। পুঁজিবাদী ধনিক শ্রেণী বিভিন্ন নিয়ম-কানূন তৈরী করে দু’হাতে অপরের ধন লুট করছে। আর একে আইনসম্মত ও নিরাপদ করার জন্য তাদের অর্থে ও তাদের স্বার্থে গড়ে উঠেছে দেশে দেশে বিভিন্ন নামে শোষণবাদী রাজনৈতিক ব্যবস্থা সমূহ। মানুষ কেবল ক্ষোভ প্রকাশ করতে পারে। কিন্তু এ থেকে মুক্তির পথ তারা জানে না। তাই দেখা যায় নানা মুণির নানা মত। হাঁ মানুষের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ এ থেকে মুক্তির পথ বাৎলে দিয়েছেন। যেটি হ’ল ছিরাতে মুস্তাক্বীম বা সরল পথ। মানুষকে অবশ্যই সে পথে ফিরে যেতে হবে, যদি তারা শান্তি চায়। আসুন একবার ফিরে তাকাই সেদিকে।
ভোগ ও ত্যাগ দু’টিই মানুষের স্বভাবসিদ্ধ বিষয়। দু’টির সুষ্ঠু সমন্বয়ে মানুষের জীবন শান্তিময় হয়। কিন্তু কোন একটিকে বেছে নিলে জীবন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। ব্যক্তির সীমাহীন ভোগবাদিতা ও লাগামহীন ধনলিপ্সাকে নিরংকুশ করা ও সম্পদ এক হাতে কুক্ষিগত করাই হ’ল পুঁজিবাদী অর্থনীতির মূলকথা। এর বিপরীতে ব্যক্তিকে মালিকানাহীন ও সম্পদহীন করে আয়-উপাদানের সকল উৎস সমাজ বা রাষ্ট্রের হাতে তুলে দেওয়াই হ’ল সমাজতান্ত্রিক অর্থনীতির মূলকথা। বুঝাই যাচ্ছে যে, দু’টিই মানুষের স্বভাব বিরোধী ও চরমপন্থী মতবাদ এবং কোনটিই সংখ্যাগরিষ্ঠ সাধারণ মানুষের কল্যাণবহ নয়। ফলে যা হবার তাই হচ্ছে। পুঁজিবাদী বিশ্বের মানুষ যেমন ফুঁসে উঠেছে, কম্যুনিষ্ট চীনের লৌহশৃংখলে আবদ্ধ মানুষ তেমনি কোন পথ না পেয়ে এখন আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে। ফলে আত্মহত্যা প্রবণ দেশসমূহের তালিকায় চীন পৃথিবীতে শীর্ষে অবস্থান করছে। অন্যদিকে সমাজবাদী রাশিয়ায় ভিক্ষুকের সংখ্যা দুনিয়ায় সবচাইতে বেশী।
উপরোক্ত দুই চরমপন্থী অর্থনীতির বাইরে সুষম অর্থনীতি এই যে, মানুষ তার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী সম্পদ উপার্জন করবে এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত বণ্টন করবে। এর ফলে সমাজে অর্থের প্রবাহ সৃষ্টি হবে। ধনী ও গরীবের বৈষম্য হরাস পাবে। প্রতিটি পরিবার সচ্ছল হবে। সমাজে কোন বেকার ও বিত্তহীন থাকবে না। সর্বত্র সুখ ও শান্তি বিরাজ করবে। এই আয় ও ব্যয়ের নীতিমালা মানুষ নিজে তৈরী করবে না। বরং আল্লাহ প্রেরিত অভ্রান্ত ও অপরিবর্তনীয় বিধান সমূহ সে মেনে চলবে। আল্লাহর বিধান সকল মানুষের জন্য সমান। তাই তা অনুসরণে সমাজে সৃষ্টি হবে বৈষম্যহীন ও সকলের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং সত্যিকার অর্থে একটি মানবিক অর্থ ব্যবস্থা। যেখানে ধনী তার বিপদগ্রস্ত ভাইয়ের জন্য নিঃস্বার্থভাবে অর্থ ব্যয় করবে। গরীব তার ধনী উপকারী ভাইয়ের জন্য জীবন দিতে প্রস্ত্তত থাকবে। সকলে হবে সকলের তরে। কেউ হবেনা কেবল নিজের তরে। এই অর্থনীতিই হ’ল ইসলামী অর্থনীতি। যা যথাযথভাবে অনুসরণের ফলে সূদী শোষণে জর্জরিত আরবীয় সমাজ খেলাফতে রাশেদাহর প্রথম দশ বছরের মধ্যেই এমনভাবে দারিদ্র্যমুক্ত হয় যে, যাকাত নেওয়ার মত কোন লোক খুঁজে পাওয়া যেত না। আজও তা সম্ভব, যদি না মুসলিম রাষ্ট্রগুলি তা সঠিকভাবে বাস্তবায়নে আন্তরিক হয়।

Continue reading

বিশ্ববিখ্যাত মনীষিদের চোখে ইসলাম ও মুহাম্মাদ(সা)


জর্জ বার্নাড শঃ যদি আগামী একশ’ বছরের মধ্যে শুধু ইংল্যান্ড নয় সমগ্র ইউরোপকে শাসন করার সম্ভাবনা কোন ধর্মের থাকে, তাহলে সে ধর্ম হবে কেবল ইসলাম । আমি সর্বদা মুহাম্মাদ (সা) এর ধর্ম প্রসঙ্গে উচ্চ ধারনা পোষণ করে এসেছি এর আশ্চর্য জীবনি শক্তির জন্য । আমার মনে হয় এটায় একমাত্র ধর্ম যা জীবনের পরিবর্তিত ধাপের সঙ্গে একাত্মীভূত হওয়ার ক্ষমতা রাখে । সেই কারণে প্রতিটা যুগেই আছে এর (সমান) আবেদন । আমি বিশ্বাস করি যদি মুহাম্মাদ (সা) এর মতো একজন মানুষ আধুনিক বিশ্বের একনায়কের পদ অধিকার করতেন, তাহলে তিনি এমন সাফ্যলের সঙ্গে এর সমস্যা গুলির সমাধান করতে পারতেন যা এর জন্য প্রয়োজনীয় সুখ ও শান্তি বয়ে আনত ।(Genuine Islam; vol. 1)
ফিলিপ কে. হিট্টিঃ পৃথিবীর সকল ধর্মের মধ্যে একমাত্র ইসলাম পেরেছিল জাত ও বর্ণের ভেদাভেদ মুছে ফেলতে । (History of the Arabs; by Philip K. Hitti, page 3)
এম.এন রায়ঃ ইসলামের অসাধারণ সাফ্যলের মুলে আছে এর বৈপ্লবিক তাৎপর্য । ইসলামই প্রথম সামাজিক সাম্য প্রবর্তন করেছিল যা সমস্ত দেশের প্রাচীন সভ্যতা গুলির মধ্যে তখনও ছিল অজানা । (The historical role of islam)

Continue reading

কুরবানীর মাসায়েল


-আত-তাহরীক ডেস্ক

(১) চুল-নখ না কাটা : উম্মে সালামাহ (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা কুরবানী দেওয়ার এরাদা রাখে, তারা যেন যিলহাজ্জ মাসের চাঁদ ওঠার পর হ’তেত কুরবানী  সম্পন্ন  করা  পর্যন্ত  স্ব স্ব চুল ও নখ কর্তন করা হ’তে বিরত থাকে’।১ কুরবানী দিতে অক্ষম ব্যক্তিগণ কুরবানীর নিয়তে উহা করলে উহাই আল্লাহর নিকটে পূর্ণাঙ্গ কুরবানী হিসাবে গৃহীত হবে।

(২) কুরবানীর পশু : উহা তিন প্রকারঃ উট, গরু ও ছাগল। দুম্বা ও ভেড়া ছাগলের মধ্যে গণ্য। প্রত্যেকটির নর ও মাদি। এগুলির বাইরে অন্য পশু দিয়ে কুরবানী করার প্রমাণ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরাম থেকে পাওয়া যায় না। তবে অনেক বিদ্বান গরুর উপরে ক্বিয়াস করে মহিষ দ্বারা কুরবানী জায়েয বলেছেন।৩ ইমাম শাফেঈ (রহঃ) বলেন, ‘উপরে বর্ণিত পশুগুলি ব্যতীত অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী সিদ্ধ হবে না’।৪ কুরবানীর পশু সুঠাম, সুন্দর ও নিখুঁত হওয়া চাই। চার ধরনের পশু কুরবানী করা নাজায়েয। যথাঃ স্পষ্ট খোঁড়া, স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট রোগী ও জীর্ণশীর্ণ এবং অর্ধেক কান কাটা বা ছিদ্র করা ও অর্ধেক শিং ভাঙ্গা।

(৩) ‘মুসিন্নাহ’ দ্বারা কুরবানী : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, ‘তোমরা দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত ওঠা (মুসিন্নাহ) পশু ব্যতীত যবহ করো না। তবে কষ্টকর হ’লে এক বছর পূর্ণকারী ভেড়া (দুম্বা বা ছাগল) কুরবানী করতে পার’।৬ জমহূর বিদ্বানগণ অন্যান্য হাদীছের আলোকে এই হাদীছে নির্দেশিত ‘মুসিন্নাহ ’ পশুকে কুরবানীর জন্য ‘উত্তম’ হিসাবে গণ্য করেছেন।
‘মুসিন্নাহ’ পশু ষষ্ঠ বছরে পদার্পণকারী উট এবং তৃতীয় বছরে পদার্পণকারী গরু বা ছাগল-ভেড়া-দুম্বাকে বলা হয়।৮ কেননা এই বয়সে সাধারণতঃ এই সব পশুর দুধে দাঁত ভেঙ্গে নতুন দাঁত উঠে থাকে। তবে অনেক পশুর বয়স বেশী ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও সঠিক সময়ে দাঁত ওঠে না। এসব পশু দ্বারা কুরবানী করা ইনশাআল্লাহ কোন দোষের হবে না।
Continue reading

ঈদঃ তাৎপর্য,করনীয় ও বর্জনীয়


ঈদের সংজ্ঞা :

ঈদ আরবী শব্দ। এমন দিনকে ঈদ বলা হয় যে দিন মানুষ একত্র হয় ও দিনটি বার বার ফিরে আসে। এটা আরবী শব্দعاد يعود থেকে উৎপত্তি হয়েছে। যার অর্থ ফিরে আসা। অনেকে বলেন এটা আরবী শব্দ العادة আদত বা অভ্যাস থেকে উৎপত্তি হয়েছে। কেননা মানুষ ঈদ উদযাপনে অভ্যস্ত। সে যাই হোক, যেহেতু এ দিনটি বার বার ফিরে আসে তাই এর নাম ঈদ। এ শব্দ দ্বারা এ দিবসের নাম রাখার তাৎপর্য হলো আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দিবসে তার বান্দাদেরকে নেয়ামত ও অনুগ্রহ দ্বারা বার বার ধন্য করেন ও বার বার তার এহসানের দৃষ্টি দান করেন। যেমন রমজানে পানাহার নিষিদ্ধ করার পর আবার পানাহারের আদেশ প্রদান করেন। ছদকায়ে ফিতর, হজ-যিয়ারত, কুরবানীর গোশত ইত্যাদি নেয়ামত তিনি বার বার ফিরিয়ে দেন। আর এ সকল নেয়ামত ফিরে পেয়ে ভোগ করার জন্য অভ্যাসগত ভাবেই মানুষ আনন্দ-ফুর্তি করে থাকে।

ইসলামে ঈদের প্রচলন

আল্লাহ রাব্বুল আলামীন মুসলিম উম্মাহর প্রতি রহমত হিসেবে ঈদ দান করেছেন। হাদীসে এসেছে—

‘রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন মদিনাতে আগমন করলেন তখন মদিনা বাসীদের দুটো দিবস ছিল, যে দিবসে তারা খেলাধুলা করত। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন এ দু দিনের কি তাৎপর্য আছে? মদিনা বাসীগণ উত্তর দিলেন : আমরা মূর্খতার যুগে এ দু দিনে খেলাধুলা করতাম। তখন রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন : ‘আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এ দু দিনের পরিবর্তে তোমাদের এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ দুটো দিন দিয়েছেন। তা হল ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।’[১]

শুধু খেলাধুলা, আমোদ-ফুর্তির জন্য যে দুটো দিন ছিল আল্লাহ তাআলা তা পরিবর্তন করে এমন দুটো দিন দান করলেন যে দিনে আল্লাহর শুকরিয়া, তার যিকির, তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনার সাথে সাথে শালীন আমোদ-ফুর্তি, সাজ-সজ্জা, খাওয়া-দাওয়া করা হবে।

Continue reading