ফিলিস্তীন : এক অন্তহীন কান্নার প্রস্রবণ


-আব্দু্ল্লাহ বিন আব্দুর রাযযাক

শুরুকথা : ভূমধ্যসাগর ও জর্ডান নদীর মধ্যবর্তী ভূখন্ড ফিলিস্তীন বা প্যালেস্টাইন মুসলিম, খৃষ্টান ও ইহুদী তথা সকল ধর্মাবলম্বীর নিকট একটি পবিত্র ভূমি। সুদীর্ঘ ইতিহাস বিজড়িত ফিলিস্তীন মধ্যপ্রাচ্য তথা বিশ্ব মানচিত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঞ্চল। অথচ জর্ডান, লেবানন ও সিরিয়া বেষ্টিত এ ভূখন্ডের প্রতিটি বালুকণার সাথে মিশে আছে ছোপ ছোপ রক্ত। ক্রসেড যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এই ছোট্ট অঞ্চলটি আজ ইসরাঈল নামক এক আস্ত হায়েনার করতলগত। গত ৬০ বছর থেকে ফিলিস্তীনীদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে আমেরিকার অনৈতিক সমর্থনপুষ্ট ইসরাঈল। অন্যদিকে সারা বিশ্বের মোড়লরা কেউবা এ অন্যায়ের সহযোগিতা করছে, কেউবা কাপুরুষের ন্যায় চোখ বুজে সহ্য করছে এই হোলি খেলা। এ বছরের ৩১ মে সারা বিশ্বকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এ ইহুদী রাষ্ট্রটি তার আসল চেহারা আরেকবার উন্মোচন করল। গাজার ক্ষুধার্ত-তৃষ্ণার্ত, ভুখা-নাঙ্গা মানুষের মুখে এক মুঠো আহার তুলে দেওয়ার জন্য রওয়ানা হয় তুর্কী ত্রাণবাহী জাহাজ ফ্রিডম ফ্লোটিলা মাভি মারমারা। গাজার উপকণ্ঠে পৌঁছার পূর্বেই ইসরাঈলী সন্ত্রাসীরা এই জাহাজে বর্বর হামলা চালিয়ে ৯ জন তুর্কী মানবাধিকার কর্মীকে হত্যা করে। এই গণহত্যা সারা বিশ্বের মানুষকে আরো একবার ইসরাঈল সম্পর্কে ভাবাতে শুরু করে।
ইহুদী জাতির পরিচয় :
ইসরাঈল রাষ্ট্র প্রসঙ্গে আলোচনার শুরুতেই ইহুদীদের সম্পর্কে বলা প্রয়োজন। কেননা ইহুদী রাষ্ট্র হিসাবেই ইসরাঈলের জন্ম। ইহুদীদের প্রধান নবী হলেন মূসা (আঃ), যার কিতাব হল তাওরাত। ইহুদীরা আল্লাহকে বিশ্বাস করে, যার নাম তাদের কাছে জেহোভা। এখান থেকেই ইহুদী নামের উৎপত্তি। কারো মতে, ইহুদীদের অপর নাম বনী ইসরাঈল। ইসরাঈল মূলত ইয়াকুব (আঃ)-এর অপর নাম। তাঁর মোট ১২ জন সন্তান ছিল। ১২ ভাইয়ের বড় ইয়াহুদার নামানুসারেই বনী ইসরাঈলকে ‘ইহুদী’ বলা হয়। বনু ইসরাঈলরা পথভ্রষ্ট হয়ে গেলে আল্লাহ তাদের হেদায়াতের জন্য মূসা (আঃ)-কে তাওরাত সহ প্রেরণ করেন। বনী ইসরাঈলের উপর আল্লাহ্র ছিল অগণিত নিয়ামত, অফুরন্ত অনুগ্রহ। পবিত্র কুরআনে প্রায় ৪৩টি স্থানে বনী ইসরাঈলের আলোচনা রয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় ১৬টি স্থানে বনু ইসরাঈলের উপর আল্লাহ প্রদত্ত নে‘আমতরাজির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন, ‘আর যখন আমি সমুদ্রকে পৃথক করে দিলাম অতঃপর তাদেরকে রক্ষা করলাম এবং ফেরাঊনকে ডুবিয়ে দিলাম’ (বাক্বারাহ ৫০)। তাদেরকে প্রদত্ত আরো নে‘আমতসমূহ যেমন- রাজাধিপতির মর্যাদা প্রদান (মায়েদাহ ৬০),  রিযিক প্রদান  (জাছিয়া ১৬), তীহ প্রান্তরে ছায়া ও খাবারের ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৫৭), পানির ব্যবস্থা (বাক্বারাহ ৬০)
এছাড়াও আল্লাহ তা‘আলা তাদের উপর আরো অনেক অনুগ্রহ করেছেন। যেমন- গো-বৎসের পূজা করার পরও আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দেন’ (বাক্বারাহ ৫১-৫২)। বজ্রপাতে মৃত্যু ঘটানোর পর তাদেরকে আবার পুনর্জীবন দান করেন’ (বাক্বারাহ ৫৫)। এ রকম আরো অভাবনীয়, আশাতীত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নে‘আমতরাজি দিয়ে আল্লাহ ইহুদীদের মান-মর্যাদা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, শান-শওকত বৃদ্ধি করেছেন।

Continue reading

মিসকীন ওবামা, ভিকটিম ওসামা, সাবধান বাংলাদেশ


(১) মিসকীন ওবামা, ভিকটিম ওসামা, সাবধান বাংলাদেশ


জনগণের আশা-আকাংখার প্রতীক হয়ে আমেরিকার ক্ষমতায় এলেন বরাক হোসায়েন ওবামা। তাঁর কথায় ও আচরণে মুগ্ধ হয়ে আন্তর্জাতিক নোবেল কমিটি তাঁকে অল্প দিনের মধ্যেই শান্তিতে ‘নোবেল’ পুরস্কারে ভূষিত করলেন। কিন্তু ব্যক্তি হিসাবে তিনি যত ভাল মানুষই হন না কেন, আমেরিকার পররাষ্ট্রনীতি ও তার শোষণবাদী পুঁজিবাদী অর্থনৈতিক পলিসির কোন পরিবর্তন হয়নি। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, ‘সূদের চূড়ান্ত পরিণতি হ’ল নিঃস্বতা’ (ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/২৮২৭)। আমেরিকা এখন সেই পরিণতিতে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে তাদের ৩৩১টি ব্যাংক দেউলিয়া হয়ে গেছে। হাযার হাযার কর্মচারী-কর্মকর্তা চাকুরী হারিয়েছেন। এমনকি এ মাসেই খোদ নিউইয়র্ক সিটিতে ছয় হাযার শিক্ষক চাকুরী হারাতে যাচ্ছেন। ইতিমধ্যেই সেদেশে প্রতি ৭ জনের মধ্যে ১ জন হতদরিদ্র। আমেরিকার এখন নাভিশ্বাস উঠে গেছে। তাই চিরবৈরী গণচীনের কাছে তাকে হাত পাততে হয়েছে। তাদের কাছে সে এখন তিন হাযার বিলিয়ন ডলারের বিশাল অংকের ঋণের জালে আবদ্ধ। ইরাক ও আফগানিস্তান থেকে সৈন্য প্রত্যাহার, গুয়ান্তানামো বে কারাগার বন্ধ, দেশের অর্থনৈতিক মন্দা দূরীকরণ প্রভৃতি কোন নির্বাচনী ওয়াদাই ওবামা পূরণ করতে পারেননি। এদিকে চার বছরের মেয়াদও শেষের পথে। ঐতিহ্য অনুযায়ী আগামী ২০১২ সালের নির্বাচনে তাঁকে দ্বিতীয় মেয়াদে জিততে হবে। নইলে বড়ই লজ্জার কারণ হবে। কেননা এটাই সেদেশের ভাল প্রেসিডেন্টদের নিদর্শন। ওবামা তাই এখন বড়ই মিসকীন।
একদিকে অর্থনীতি উদ্ধার অন্যদিকে ক্ষমতা উদ্ধার। দু’দিকেই সামাল দেবার জন্য তিনি তাঁর পূর্বের প্রেসিডেন্ট বুশের পথ ধরেছেন। তিনি তাঁর সময়ে অর্থনীতি ও রাজনীতি উদ্ধারের জন্য দু’টি নোংরা পলিসি গ্রহণ করেছিলেন। এক- মুসলিম বিশ্বের তৈল সম্পদ লুট করা এবং দুই- মুসলিম সংস্কারবাদী আন্দোলনগুলিকে সন্ত্রাসী ও জঙ্গীবাদী আন্দোলন হিসাবে বদনাম করা ও তাদেরকে উৎখাত করা।
ইংরেজরা ইতিপূর্বে বিশ্ব শোষণ করেছে। ইংল্যান্ড ও আমেরিকা তাদেরই দেশ। ভারতবর্ষ ছিল তাদের এককালের শোষণভূমি। তাই সে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়াকে আফগানিস্তানে দেখে ঝাঁপিয়ে পড়ল এখানে। আফগানীদের ইসলামী জোশকে কাজে লাগালো অর্থ দিয়ে অস্ত্র দিয়ে। সঊদী আরবের বিখ্যাত নির্মাণ প্রতিষ্ঠান বিন লাদেন কোম্পানী-র অন্যতম উত্তরসুরী প্রকৌশলী উসামাকে একাজে লাগানো হ’ল। প্রায় দশ বছরের (১৯৭৯-৮৯) রক্তক্ষয়ী লড়াই শেষে রাশিয়া বিতাড়িত হ’ল। তালেবান নেতাদের হোয়াইট হাউজে ডেকে নিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা দেওয়া হ’ল। কিন্তু বাগে ফিরলো না তালেবানের ইসলামী সরকার। তারা আফগানিস্তানের সম্পদ অন্যকে দেবে না। নিজেদের সম্পদ নিজেদের বিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার কাজে ব্যয় করবে। স্বার্থে আঘাত লাগলো। অতএব এবার তালেবান সরকার উৎখাতের পালা। গণতন্ত্রের সুড়সুড়ি দিয়ে বিরোধী দলগুলির মাধ্যমে সে কাজ সারা হ’ল। পুতুল সরকার ক্ষমতায় এলো। এবার রাতারাতি তালেবান হ’ল সন্ত্রাসী দল। ওসামা ও মোল্লা ওমর হ’লেন বিশ্বের সেরা জঙ্গী। অতঃপর সরাসরি হামলার অজুহাত সৃষ্টি করা হ’ল। ৯/১১-এর নাটক মঞ্চস্থ হ’ল। তিন হাযার লোক মারা গেল। কিন্তু ১৩০০ ইহুদী কর্মকর্তা-কর্মচারীর কেউ ঐদিন কাজে গেল না। এমনকি ইসরাঈলী প্রধানমন্ত্রীর আগের দিনের সফর বাতিল করা হ’ল। ঘটনার সাথে সাথে ওসামা বিন লাদেনকে দায়ী করে প্রেসিডেন্ট বুশ বিবৃতি দিলেন। অথচ ওসামার ওয়েব সাইটে ১১-২৪ সেপ্টেম্বর ১৩ দিনের মধ্যে ৪ বার ঘোষণা এল যে, তিনি বা তার সংগঠন এতে জড়িত নয়। এই মর্মান্তিক ট্রাজেডীর তদন্ত রিপোর্ট আজও প্রকাশিত হয়নি। অথচ ঘটনার মাত্র ২৮ দিনের মাথায় ২০০১ সালের ৭ই অক্টোবর আফগানিস্তানে সরাসরি হামলা করল আমেরিকা ও ন্যাটো জোট। আফগানিস্তানকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করা হ’ল। কিন্তু ওসামাকে পাওয়া গেল না। শোষণ-শাসন দু’টিই চলতে থাকল। ৩ বছর ৯ মাস পর ২০০৫ সালের ১৯ জুন বুশ-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনি বললেন, ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কার্যকলাপের কোন অকাট্ট প্রমাণ মার্কিন প্রশাসনের কাছে নেই। সে জন্যই তিনি কোন এলাকায় আছেন, সে সম্পর্কে একটা প্রাথমিক ধারণা থাকা সত্ত্বেও তারা তাকে গ্রেফতার করতে পারছেন না। কারণ গ্রেফতার করলে তার বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে। সেই মামলায় সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে তাকে মুক্তি দিতে হবে’। প্রশ্ন হ’ল, সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত থাকার কোন প্রমাণ না থাকলে কিসের ভিত্তিতে তারা আফগানিস্তানের মত একটা স্বাধীন দেশের উপর হামলা চালালো? জবাব রয়েছে তাদের কাছেই। ২০০৫ সালের ২৮শে অক্টোবর ভার্জিনিয়ার সেনা সদরে দেয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট বুশ বলেছিলেন, বিগত শতাব্দীর পতিত সমাজতন্ত্রের মতোই বর্তমান শতকে ইসলামী মৌলবাদ বিশ্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। … একে অবশ্যই নিশ্চিহ্ন করতে হবে’।

Continue reading

পুঁজিবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব


পুঁজিবাদের লোভ-লালসা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বা ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ নামে নিউইয়র্কে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার ৮২টি দেশের ৯৫১টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক অসমতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নামে মানুষ। ঐদিন সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে ইতালির রাজধানী রোমে। সেখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। এদিকে আমেরিকার নিউইয়র্কে প্রতিদিনই পুঁজিবাদের প্রতীক ‘ওয়াল স্ট্রিটে’ বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির মোট সম্পদের শতকরা নিরানববই ভাগ মাত্র এক ভাগ নাগরিকের হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং দেশটির সাধারণ জনগণের জন্য সাহায্যের কোন প্যাকেজ ঘোষণা না করে কেবল ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রিত কথিত ‘দেউলিয়া হয়ে পড়া’ ব্যাংক ও কোম্পানীগুলোকে অর্থ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ মালিক ও পুঁজিপতিদের দুর্নীতির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়েছে এবং বেড়েছে বেকারত্ব। সরকারী সাহায্যের সুবিধাভোগী ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষোভের কারণেই চলমান গণঅসন্তোষ শুরু হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটসহ গোটা আমেরিকায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে।
দিল্লীতে দিনে ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন
ভোর  ৬-টা থেকে বেলা ১২-টার মধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লীতে ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বেলা ১২-টা থেকে সন্ধ্যা ৬-টার মধ্যে ১৭টি এবং সন্ধ্যা ৬-টা থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হন। সেখানে একদিনে মোট ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন। ‘সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চে’র একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১১’র জুলাই পর্যন্ত পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া ৫৮টি এফআইআর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র মিলেছে।
ব্রিটেনের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ সুখী; সামাজিক অবক্ষয়ে ৫৯ শতাংশের উদ্বেগ প্রকাশ
অপরাধপ্রবণতা ও সহিংসতার হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে ব্রিটিশরা দিন দিন হয়ে উঠছে অসুখী। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের চেয়ে কম আয়তনের দেশ বিশেষ করে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালী, স্পেনের মানুষ যেখানে সুখী ও সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে, সেখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্রিটিশ বলছে তারা সুখী। ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্যে ঐ গবেষণা চালায় ‘ইউসুইচ ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ। গবেষণায় দেখা যায়, লন্ডনের ৫৯ শতাংশ মানুষই দেশটির সামাজিক অবক্ষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর তাদের এই উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছে, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ৪৭ শতাংশ অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত আতংকিত।

Continue reading

মি শ না রি : খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ ‘স্বাধীন’ অঞ্চলের পদধ্বনি !


বিষয়টি নতুন নয়। যথেষ্ট পুরনো। দুই-আড়াই দশক ধরেই সচেতন নাগরিকরা বলে আসছিলেন। কখনো কখনো কোনো কোনো মিডিয়াতেও খবর প্রকাশ হয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা বিভিন্ন আলামত দেখে উদ্বেগ ও আশঙ্কাও ব্যক্ত করেছেন। আলেমসমাজের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিগণ বার বার সতর্ক করে এসেছেন। কিন্তু প্রশাসন ও প্রভাবশালী মিডিয়ার কর্তাব্যক্তিরা এ বিষয়টির দিকে মোটেই পাত্তা দিতে চাননি। এখন সেসব খবর, উদ্বেগ ও সতর্কীকরনেরই সত্যতা পাওয়া গেল স্বরাষ্ট্র ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে। যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ ও পরিসংখ্যানগত নির্দিষ্টতার সঙ্গে সে প্রতিবেদনে ধারণার চেয়েও ভয়াবহ সত্য তুলে ধরা হয়েছে। ঢাকার কয়েকটি দৈনিক পত্রিকা সে প্রতিবেদনের প্রতিপাদ্য প্রকাশ করেছে এই আগস্টের বিভিন্ন তারিখে।

একটি দৈনিক পত্রিকার ১২ আগস্ট সংখ্যায় প্রথম পাতায় ছাপানো একটি রিপোর্টের শিরোনাম ছিল-‘পার্বত্য চট্টগ্রামকে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গড়তে বিভিন্ন তৎপরতা।’ রিপোর্টে বলা হয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা থেকে তৈরি করা প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তিন পার্বত্য জেলাকে কেন্দ্র করে খ্রিস্টান সংখ্যাগরিষ্ঠ অঞ্চল গড়ে তোলার তৎপরতা চালাচ্ছে বিদেশি কয়েকটি দাতা সংস্থাসহ কয়েকটি এনজিও। দরিদ্র উপজাতীয় সম্প্রদায়কে অর্থ-বিত্তের লোভ দেখিয়ে খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত করার হার আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় বর্তমানে আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে গেছে। গত দুই দশকে শুধু খাগড়াছড়ি, বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় ১২ হাজার ২শ উপজাতীয় পরিবারকে খ্রিস্টান বানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিভিন্ন সেবাসংস্থা, এনজিও ও মিশনারী প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে যে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টটিতে তার একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র এসেছে। এখানে সে চিত্রটি তুলে ধরা হল।

Continue reading

আদ সম্প্রদায়ের অধিবাসী


আদ সম্প্রদায়ের অধিবাসী

আর স্মরণ কর আদ সম্প্রদায়ের ভাইয়ের (হুদের) কথা, যখন সে
আহকাফের স্বীয় সম্প্রদায়কে সতর্ক করেছিল। আর এমন
সতর্ককারী তার পূর্বে এবং পরেও গত হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহ
ছাড়া আর কারও ইবাদত করো না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ওপর
এক ভয়াবহ দিনের আজাবের আশংকা করছি।’ তারা বলল, ‘তুমি
কি আমাদেরকে আমাদের উপাস্যদের থেকে নিবৃত করতে
আমাদের নিকট এসেছ? তুমি যদি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও
তাহলে আমাদেরকে যার ভয় দেখাচ্ছ তা নিয়ে এসো।’
অতঃপর যখন তারা তাদের উপত্যকার দিকে মেঘমালা দেখল
তখন তারা বলল, ‘এ মেঘমালা আমাদেরকে বৃষ্টি দিবে।’ (হুদ
আ. বলল,) বরং এটি তা-ই যা তোমরা ত্বরান্বিত করতে
চেয়েছিলে। এ এক ঝড়, যাতে যন্ত্রণাদায়ক আজাব রয়েছে। ফলে
তারা এমন (ধ্বংস) হয়ে গেল যে, তাদের আবাসস্থল ছাড়া আর
কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। এভাবেই আমি অপরাধী কওমকে
প্রতিফল দিয়ে থাকি। (আহকাফ, ৪৬ : ২১-২২, ২৪-২৫)

Continue reading

অমুসলিমদের জন্য বার্তা


বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

প্রিয় পাঠক,

এই বার্তার লক্ষ্য আপনাকে পৃথিবীতে আমাদের বেঁচে থাকার উদ্দেশ্য নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার জন্য আহবান জানানো এবং মৃত্যু পরবর্তী জীবনে আপনার অবস্থা সম্পর্কে আপনাকে জ্ঞ্যাত করা। আপনি জান্নাত(স্বর্গ)অথবা জাহান্নাম(নরক) কোনটি লাভ করবেন? দয়া করে খেয়াল করুন, আপনি যখন এই বার্তাটি পড়া শেষ করবেন, আপনাকে এমন একজন ব্যক্তি হিসাবে গণ্য করা হবে যার নিকট ইসলামের বার্তা পৌঁছান হয়েছে, সুতরাং পরকালে সৃষ্টিকর্তার নিকট এই মর্মে কোন অজুহাত পেশ করতে পারবেন না যে আপনি জানতেন না।

লক্ষ্য করুন, সর্বশক্তিমান আল্লাহই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা এবং উপাসনার যোগ্য। তিনি ব্যতিত আর কোন উপাস্য নেই। তিনি কারও থেকে জন্ম নেননি এবং তিনি কাউকে জন্মও দেননি।

আল্লাহ বলেন, “বলুন,তিনি আল্লাহ,এক। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাকে জন্ম দেয়নি এবং তার সমতুল্য কেউ নেই।”(সুরাঃ ১১২,আয়াতঃ ১-৪)

আল্লাহ বলেন, “তিনি নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের স্রষ্টা। তিনি তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের জন্যে যুগল সৃষ্টি করেছেন এবং চতুস্পদ জন্তুদের মধ্য থেকে জোড়া সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তিনি তোমাদের বংশ বিস্তার করেন। কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। তিনি সব শুনেন, সব দেখেন।”(সুরাঃ ৪২,আয়াতঃ ১১)

জেনে রাখুন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টির স্রষ্টা। তিনি ব্যতিত আর কোন স্রষ্টা এবং নিয়ন্ত্রণকারী নেই।

আল্লাহ বলেন, “আল্লাহ সবকিছুর স্রষ্টা এবং তিনি সবকিছুর দায়িত্ব গ্রহণ করেন।”(সুরাঃ৩৯,আয়াতঃ৬২)

আল্লাহ বলেন, “তিনি আল্লাহ,তোমাদের পালনকর্তা,সব কিছুর স্রষ্টা। তিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। অতএব তোমরা কোথায় বিভ্রান্ত হচ্ছ?”(সুরাঃ৪০,আয়াতঃ৬২)

আল্লাহ বলেন, “আর যা কিছু আসমান ও যমীনে রয়েছে সে সবই আল্লাহর এবং আল্লাহর প্রতিই সব কিছু প্রত্যাবর্তনশীল।”(সুরাঃ৩,আয়াতঃ১০৯)

জেনে রাখুন, সর্বশক্তিমান আল্লাহ আপনাকে সৃষ্টি করেছেন একমাত্র তাঁর ইবাদতের জন্য।

আল্লাহ বলেন, “আমার এবাদত করার জন্যই আমি মানব ও জিন জাতি সৃষ্টি করেছি।”(সুরাঃ৫১,আয়াতঃ৫৬)

আল্লাহ বলেন, “তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর এবাদত করবে, নামায কায়েম করবে এবং যাকাত দেবে। এটাই সঠিক ধর্ম।”(সুরাঃ৯৮,আয়াতঃ৫)

Continue reading

মক্কার মুশরিকরা কেমন ছিল?


মক্কার মুশরিকদের যদি জিজ্ঞাসা করা হত, বলতো, তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন? এই আকাশ-জমিন কে সৃষ্টি করেছেন? আশ্রয় দেয়ার মালিক কে? কার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব? এই প্রশ্নগুলোর জবাবে তারা বলতো,আল্লাহ।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

বল,তোমরা যদি জান তবে বল, এ যমীন ও এতে যারা আছে তারা কার? অচিরেই তারা বলবে, আল্লাহর । বল, তবুও কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? বল, কে সাত আসমানের রব এবং মহা আরশের রব? তারা বলবে, আল্লাহ। বল, তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? বল, তিনি কে যার হাতে সকল কিছুর কর্তৃত্ব, যিনি আশ্রয় দান করেন এবং যাঁর ওপর কোন আশ্রয়দাতা নেই? যদি তোমরা জান। তারা বলবে, আল্লাহ। বল, তবুও কীভাবে তোমরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছ? [সূরা মুমিনূনঃ ৮৪-৮৯]

Continue reading