ইসলামী বিচারব্যবস্থার প্রাসঙ্গিকতা : প্রসঙ্গ সঊদী আরবে ৮ বাঙ্গালী যুবকের শিরোচ্ছেদ


এই প্রবন্ধটি আহমাদ ভাইয়ের ব্লগ থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে।

কিছুদিন আগে এই শিরোনাম দিয়ে সামহোয়ার ইন ব্লগে লিখেছিলাম। যখন ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় নাটোরের কলেজ শিক্ষক মিজানুর রহমানের হত্যাকারী দুর্বৃত্ত রাজনের কি ধরনের শাস্তি হওয়া দরকার এ নিয়ে সামু ব্লগাররা প্রবল রোষে মন্তব্য মন্তব্য করছিলেন এমনভাবে যে-

‘না মরা পর্যন্ত গণধোলাই’…

‘সব অঙ্গ এক এক করে কেটে ফাঁসিতে ঝুলাতে হবে’…

‘সবার সামনে গুলি করে মারা কিংবা একবারে কতল’…

‘ফায়ারিং স্কোয়াডে গুলি করে মারা উচিৎ এবং সেটি সকল টেলিভিশনে বাধ্যতামূলক লাইভ
টেলিকাস্ট করা হোক। আমি প্রশাসনে থাকলে সেটাই করতাম’….

‘জনসম্মুখে ফাঁসি চাই। তার আগে মুক্ত গণধোলাই’….

‘মিজানকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে সেভাবে হত্যা করা হোক’…

‘ডগ স্কোয়াডে দিতে হবে এবং কামড় খাওয়াতে হবে না মরা পর্যন্ত’…

‘যতদ্রুত সম্ভব মৃত্যুদন্ড কার্যকর করে গণমাধ্যমে ফলাও করে প্রচার করতে হবে’…

‘ট্রাকের পিছনে দড়ি বেঁধে সারাদেশে ঘুরাতে হবে যাতে তার বীভৎস চেহারা দেখে কেউ এমন কাজ করার আর চিন্তাও না করে। আমার ক্ষমতা থাকলে খোদার কসম আমি তাই করতাম ঐ ঘৃণ্য নরপশুদের’…

‘প্রকাশ্য জনসম্মুখে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মারা উচিৎ যাতে ভবিষ্যতে আর কোন নরপশুর জন্ম না হয়’…।

আরো কত যে সব মন্তব্য রয়েছে তা ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়।

উপরোক্ত মন্তব্যগুলো পড়লে স্পষ্টতঃই বোঝা যায় এ মর্মান্তিক ঘটনা মানুষের মনে কিরূপ তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছিল। এমন কোন উচ্চতম শাস্তির কথা অবশিষ্ট নেই যা মন্তব্যদাতারা উল্লেখ করতে কসুর করেছেন। অথচ তাদের কেউই কিন্তু নিহত মিজানের আত্মীয় বা পাড়া-প্রতিবেশী নন। নিতান্তই অপরিচিত এসব লোকজন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসব মন্তব্য করেছেন। একবার চিন্তা করুন, যে পরিস্থিতিতে একজন অনাত্মীয়-অপরিচিত ব্যক্তির অন্তরে নিহত ব্যক্তির জন্য এতটা প্রতিক্রিয়া জন্ম নেয় সেখানে নিহত ব্যক্তির যারা একান্ত পরিবার-পরিজন তাদের মানসিক অবস্থা কেমন হতে পারে? কত তীব্র হতে পারে তাদের প্রতিক্রিয়া? অবশ্যই অবশ্যই বহুগুণ বেশি। নিশ্চয়ই তারা কামনা করবেন তাদের কল্পনায় ভাসা সর্বোচ্চ শাস্তিটাই।

Continue reading

ঠকানোর মানে যদি টাকা কম দেওয়া বুঝায়, তাহলে ইসলাম কাকে ঠকালো ? পুরুষকে না নারীকে ?


সম্পদ বন্টনে সবচেয়ে প্রচলিত যে কথা আছে সমাজে তা হল

“নারীরা পুরুষের অর্ধেক পায়।”

কিন্তু কয়টি ক্ষেত্রে?

মিসরের জাতীয় ফতোয়া বোর্ড কর্তৃক প্রচারিত এক ফতোয়ায় মিরাছের সম্পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে নারী পুরুষের একটি তুলনামূলক পর্যালোচনা তুলে ধরা হয়েছে। তাতে যে বিস্ময়কর তথ্য এসেছে তার মাধ্যমে অনেকের চোখ খুলে যেতে পারে, বিবেক পেতে পারে নতুন খোরাক। ঐ পরিসংখ্যানে নারী কখন পুরুষের অর্ধেক পায়, আর কখন সমান পায়, আর কখন বেশি পায় তার বর্ণনা এসেছে অত্যন্ত পরিস্কারভাবে। লক্ষ্য করুন:

নারী কেবলমাত্র চার অবস্থায় পুরুষের অর্ধেক পায় :
১. মেয়ে ও নাতনী(ছেলের মেয়ে) ছেলে ও নাতী (ছেলের ছেলে) থাকা অবস্থায়।
২. ছেলে সন্তান ও স্বামী বা স্ত্রী না থাকলে “মা” পিতার অর্ধেক পায় ।
৩. “সহোদরা বোন” সহোদর ভাইয়ের সাথে ওয়ারিস হলে।
৪. “বৈমাত্রেয় বোন” বৈমাত্রেয় ভাইয়ের সাথে ওয়ারিস হলে।

Continue reading

সমাজে প্রচলিত কতিপয় ভুল ধারণা


আমাদের সমাজে প্রচলিত ধর্ম বিশ্বাসের কিছু বিষয় আছে যা, ইসলামী আকিদার পরিপন্থী, সেরকম কিছু বিষয় আলোচনা করা হল-

মিলাদে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গায়েব জানেন বলে বিশ্বাস করা :

একদল মানুষ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নামে মিলাদ নামক বিদ’আত অনুষ্ঠানে চেয়ার খালি রাখে এবং ধারণা রাখে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে চেয়ারে বসেন। আবার তারা হঠাৎ করে মিলাদের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে এবং ধারণা করে যে, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর রুহ মোবারক মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত হয়ে থাকে- তাই দাঁড়াতে হয়। একই দিনে একই সাথে হাজার স্থানে মিলাদ হয়ে থাকে, এরূপ ক্ষমতা আল্লাহ ছাড়া আর কারো নেই। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা বলেন-

“নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বিষয়ে ক্ষমতা রাখেন। (সূরা বাকারা ২:১০৯)

আর রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তো মৃত্যুবরণ করেছেন, যাঁর মৃত্যুকে উমার (রা) অতিরিক্ত ভালবাসার কারণে প্রথমে মেনে নিতে পারছিলেন না। তিনি খোলা তরবারী নিয়ে ঘোষনা করেছিলেন- যে বলবে মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মারা গেছেন তার গর্দান উড়িয়ে দেয়া হবে। অতঃপর আবু বকর (রা) এসে রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর মৃত্যুর স্বপক্ষে কুরআনের এ আয়াত পাঠ করলেন-

“মুহাম্মদ একজন রাসুল ছাড়া কিছু নয়, তাঁর পূর্বে বহু রাসুল গত হয়েছেন। যদি তিনি মারা যান কিংবা নিহত হন তবে কি তোমরা পশ্চাতবরণ করবে ? এবং কেউ পিছটান হলে কখনো সে আল্লাহর সামান্য ক্ষতি করতেও সক্ষম হবে না; আল্লাহ কৃতজ্ঞদের সত্বরই পুরষ্কার দিবেন”। (সূরা আলে ইমরান ৩:১৪৪)

Continue reading