দারিদ্র বিমোচনে যাকাতের ভূমিকা


ইকবাল হুসাইন মাসুম

সম্পাদনা : নুমান বিন আবুল বাশার

দারিদ্র ও প্রাচুর্য দু’টি বিপরীতধর্মী শব্দ কিন্তু মানব জীবনে দু’টিই জড়িয়ে আছে অন্ধকার এবং আলোর মত। এইতো প্রাচুর্যের ছন্দময় উপস্থিতি আবার কিছু সময় পরই  দারিদ্রের সেই অনাকাংখিত ভয়াল থাবা। কারো কারো জন্য প্রাসাদোপম আলীশান বাড়ী। বিলাম বহুল গাড়ীসহ সুখের সব রকম সরঞ্জামাদির বিপুল সমাহার। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে  হাড় ভাঙ্গা খাটুনি পরিশ্রমের পরও দু’মুঠু ভাতের নিশ্চয়তা নেই, নেই মাথা গোজার একটু ঠাঁই। দু’টিু অবস্থাই প্রজ্ঞাময় মহামহীমের রহতমতায় সৃষ্টি। সম্ভবত ইবাদতের দু’টি অনুপত ধারা সৃষ্টিই এর মুল রহস্য। একটি সবর অন্যটি শুকর। দু’টিই আল্লাহ তাআালার বিশেষ ইবাদাত। দু’টির মাধ্যমেই রয়েছে মহামহীম রাব্বুল আলামীনের নৈকট্য অর্জনের সুনিপুন ব্যবস্থা। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন,
عجبا لأمر المؤمن، إن أمره كله خيرله، وليس ذاك لأحد إلا للمؤمن، إن أصابته سراء شكر، فكان خيرا له، وإن أصابته ضراء صبر، فكان خيرا له. رواه مسلم: ৭৪২৫
মুমিনের বিষয়টি অতিশয় বিস্ময়কর। তার প্রত্যেকটি বিষয়ই তার জন্যে কল্যাণকর আর এটি একমাত্র মু’মিনের জন্যেই। যদি তার সুদিন আসে, সমৃদ্ধি অর্জিত হয়, তা হলে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। এটি তার জন্যে কল্যাণকর। আবার যদি দুর্দিন আসে দারিদ্রে আক্রান্ত হয়, ধৈর্য ধারণ করে এটিও তার জন্যে কল্যাণকর। (মুসলিম: ৭৪২৫)
হাদীস থেকে সু-স্পষ্ট রূপে বুঝা যায় যে, দারিদ্র ও প্রাচুর্য দু’টিই আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের দু’টি সহজ পন্থা। দরিদ্র ধৈর্য ধারণ করবে আর ধনবান শুকরিয়া আদায় করবে। মানব জীবনে দু’টি সুযোগই কারো কারো ক্ষেত্রে  আসতে পারে, আবার কেউ এর যে কোন একটি সুযোগ প্রাপ্ত হতে পারে। তবে  বুদ্ধিমত্তার পরিচয় হল যখন যার যে সুযোগ আসে তখন তাকে কাজে লাগিয়ে সুযোগের সৎ ব্যবহার করা। আমরা আলোচনা করব, যিনি শুকরিয়া আদায়ের সুযোগ পেলেন, তিনি কিভাবে তা বাস্তবায়ন করবেন।

Continue reading

বৈধ কাজগুলো ইবাদতে রূপান্তরিত হওয়া


ইখলাস, কেন ও কিভাবে(১০ পৃষ্ঠার অসাধারণ এই বইটির পিডিএফ ডাউনলোড করুন 328.2kb)
[এখানে আপনাদের সাথে পিডিএফ পৃষ্ঠা ৮-১০ শেয়ার করা হল]

ইবাদত ও কাজে কর্মে বান্দার একনিষ্ঠতা এবং বিশুদ্ধ নিয়ত তার পার্থিব কর্মগুলোকে উঁচু স্তরে উন্নীত করে এবং পরিণত করে গ্রহণযোগ্য ইবাদতে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন- “আর তোমাদের যৌনাঙ্গেও রয়েছে পূণ্য। সাহাবাগণ বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমাদের কেউ যদি তার যৌন চাহিদা পূর্ণ করে তাহলেও কি পুরষ্কার? তিনি বললেন, আচ্ছা তোমার মত কি; যদি কেউ অবৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মেটায় তাহলে তার কি পাপ হবে? এমনিভাবে যদি কেউ বৈধ পন্থায় তার যৌন চাহিদা পূর্ণ করে তাহলে পুরষ্কার পাবে।” (মুসলিম)

কেন সে বৈধ পন্থায় যৌন চাহিদা মেটালেও সওয়াব পাবে? কারণ সে কাজটি করার সময় এ ধারণা করেছে যে, আমি বৈধ পন্থায় কাজটি করে সেই অবৈধ পন্থা থেকে বেঁচে থাকব, যেখানে আল্লাহ আমার প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের এ অসন্তুষ্টি থেকে বেঁচে থাকার মাধ্যমে আমি তার প্রতি একনিষ্ঠ (মুখলিস) হতে পারব। আর এ ইখলাস প্রসূত ধারণার কারণেই তার সামান্য মানবিক চাহদা মেটানোর কাজটাও সওয়াবের কাজ হিসেবে আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে যাবে।

Continue reading

“হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রভূ কি নিকটে আছেন না দূরে আছেন? যদি নিকটে থাকেন তবে চুপে চুপে ডাকবো আর যদি দূরে থাকেন তবে উচ্চৈঃস্বরে ডাকবো”


তাফসীর ইবনে কাসীর ; সূরা বাকারাহ, আয়াত -১৮৬

 

একজন পল্লীবাসী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করে, “হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের প্রভূ কি নিকটে আছেন না দূরে আছেন? যদি নিকটে থাকেন তবে চুপে চুপে ডাকবো আর যদি দূরে থাকেন তবে উচ্চৈঃস্বরে ডাকবো।” এতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নীরব হয়ে যান। তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় (মুসনাদ-ই-ইবনে আবি হাতিম)

“এবং যখন আমার কোন বান্দা আমার সম্বন্ধে তোমাকে জিজ্ঞেস করে তখন তাদেরকে বলে দাও- নিশ্চয় আমি সন্নিকটবর্তী; কোন আহ্বানকারী যখনই আমাকে আহ্বান করে তখনই আমি তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে থাকি; সুতরাং তারাও যেন আমার ডাকে সাড়া দেয় এবং আমাকে বিশ্বাস করে- তা হলেই তারা সিদ্ধ মনোরথ হতে পারবে” – (সূরা বাকারাহ-১৮৬)

একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, সাহাবীদের রাদিয়াল্লাহু আনহুম “আমাদের প্রভূ কোথায় রয়েছেন” এই প্রশ্নের উত্তরে এটা অবতীর্ণ হয়। (ইবনে জারীর) । হযরত আতা’ রাহিমাহুল্লাহ বলেন যে, যখন “তোমাদের মালিক বলেন, তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেবো…” (৪০:৬০) এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয় তখন জনগণ জিজ্ঞেস করে, “আমরা কোন সময় প্রার্থনা করবো?” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। (ইবনে জুরাইজ)

Continue reading