পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর মুনাজাত


লেখক : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান।

আমাদের দেশে বলতে গেলে ভারতীয় উপমহাদেশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের পর দুআ-মুনাজাতের প্রচলন দেখতে পাওয়া যায়। এ বিষয়ে এখন কিছু আলোচনা পেশ করছি।

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত শেষে দুআ কবুল হওয়ার কথা বহু সহীহ হাদীস থেকে প্রমাণিত।

তাহলে এ নিয়ে বিতর্ক কেন? আসলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর দুআ নিয়ে বিতর্ক নয়, বিতর্ক হল এর পদ্ধতি নিয়ে। যে পদ্ধতিতে দুআ করা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা তাঁর সাহাবায়ে কেরাম এভাবে দুআ করেছিলেন কিনা?  তাই আমি এখানে আলোচনা করব সেই দুআ-মুনাজাত নিয়ে যার মধ্যে নিম্নোক্ত সব কটি শর্ত  বিদ্যমান:

এক. পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের পর দুআ করা।

দুই. সেই দুআ-মুনাজাত জামাআতের সাথে করা।

তিন. প্রতিদিন প্রতি ফরজ সালাত শেষে দুআ-মুনাজাত করা।

এ শর্তাবলি বিশিষ্ট দুআ-মুনাজাত কতটুকু সুন্নত সম্মত সেটাই এ অধ্যায়ের মূল আলোচ্য বিষয়।

পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ সালাত আদায়ের পর প্রচলিত মুনাজাত করা না করার ব্যাপারে আমাদের দেশের লোকদের সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত দেখা যায়।

এক. যারা সালাম ফিরানোর পর বসে বসে কিছুক্ষণ বিভিন্ন যিকর-আযকার আদায় করেন যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।

দুই. যারা সালাম ফিরানোর পর কোন যিকির-আযকার না করে তাড়াতাড়ি দাঁড়িয়ে যান সুন্নত নামায আদায়ের জন্য।

তিন. যারা সালাম ফিরানোর পর সর্বদা ইমাম সাহেবের সাথে একত্রে মুনাজাত করেন। মুনাজাত শেষ হওয়ার পর সুন্নত নামায আদায় করেন।

আর এ তিন ধরনের লোকদেরই এ সকল আমলের সমর্থনে কোন না কোন দলিল প্রমাণ রয়েছে।

Continue reading

আল্লাহ যাদেরকে ভালবাসেন


আল্লাহর মনোনীত দীনকে সমুন্নত রাখা, আল্লাহর আনুগত্য করা, আল্লাহর রাসুল(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)কে ভালবাসা, আল্লাহর বিধান বাস্তবায়নে উদ্যোগী শাসকদের আনুগত্য করা এ সমস্তই আল্লাহকে ভালবাসার অন্তর্ভুক্ত। অপরদিকে, বান্দার গুনাহসমুহ ক্ষমা করে তাকে জান্নাত দান করা হচ্ছে মানুষের প্রতি আল্লাহর ভালবাসা।

আল্লাহ বলেন, “বলুন, যদি তোমরা আল্লাহকে ভালবাস, তাহলে আমাকে অনুসরণ কর, যাতে আল্লাহ ও তোমাদিগকে ভালবাসেন এবং তোমাদিগকে তোমাদের পাপ মার্জনা করে দেন। আর আল্লাহ হলেন ক্ষমাকারী দয়ালু। বলুন, আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য প্রকাশ কর। বস্তুতঃ যদি তারা বিমুখতা অবলম্বন করে, তাহলে আল্লাহ কাফেরদিগকে ভালবাসেন না।”(সুরাঃ ৩,আয়াতঃ ৩১-৩২)

আল্লাহ বলেন, “হে মুমিনগণ, তোমাদের মধ্যে যে স্বীয় ধর্ম থেকে ফিরে যাবে, অচিরে আল্লাহ এমন সম্প্রদায় সৃষ্টি করবেন, যাদেরকে তিনি ভালবাসবেন এবং তারা তাঁকে ভালবাসবে। তারা মুসলমানদের প্রতি বিনয়-নম্র হবে এবং কাফেরদের প্রতি কঠোর হবে। তারা আল্লাহর পথে জেহাদ করবে এবং কোন তিরস্কারকারীর তিরস্কারে ভীত হবে না। এটি আল্লাহর অনুগ্রহ-তিনি যাকে ইচ্ছা দান করেন। আল্লাহ প্রাচুর্য দানকারী, মহাজ্ঞানী।”(সুরাঃ ৫,আয়াতঃ ৫৪)

আল্লাহ বলেন, “বল, তোমাদের নিকট যদি তোমাদের পিতা তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় কর এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ কর-আল্লাহ, তাঁর রসূল ও তাঁর রাহে জেহাদ করা থেকে অধিক প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা কর, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত, আর আল্লাহ ফাসেক সম্প্রদায়কে হেদায়েত করেন না।” পবিত্র কোরআনে আল্লাহ যে সকল বান্দাদের ভালবাসেন তাদের বর্ণনা উল্লেখ আছে। এরা সে সকল বান্দা যাদেরকে আল্লাহ অনুগ্রহ করেন,ক্ষমা করেন এবং এদের প্রতি আল্লাহর রহমত বর্ষিত হয়।

আল্লাহ মুহসিনীনদের ভালবাসেন, যারা অন্যের মঙ্গল করে থাকে, আল্লাহর পথে অকাতরে ব্যয় করে থাকে প্রাচুর্যের সময় আবার অভাবের সময়।

আল্লাহ বলেন, “আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর। আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন।”(সুরাঃ ২,আয়াতঃ ১৯৫)

মুহসিনীন তারা,যারা তাদের রাগ প্রশমিত করে এবং মানুষের সাথে কোমল আচরন করে, যারা ভুলবশত পাপ কাজ করে ফেললে তৎক্ষণাৎ তওবা করে, আল্লাহকে স্বরণ করে তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করে।

Continue reading

মসজিদের কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ আদব


পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন – তারাই তো আল্লাহর মসজিদ আবাদ করে, যারা ঈমান আনে, আল্লাহ ও আখেরাতে এবং সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং আল্লাহ ব্যতীত অন্য কাউকেও ভয় করে না। অতএব আশা করা যায়, তারা হবে সৎপথ প্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত। [ সূরা তাওবা: ১৮]

 

প্রিয় ভাইয়েরা, মুসলিম হিসেবে মসজিদের সাথে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়। প্রতিদিন আমাদেরকে ৫বার মসজিদে নামাযের উদ্দেশ্যে যেতে হয়। তাই মসজিদ সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পর্কে আমাদের জানা থাকা দরকার। কিছু বিষয়ে আমাদের সচেতনতা দরকার। তাই নিম্নে কুরআন ও হাদীসের আলোকে মসজিদের কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ আদব উল্লেখ করা হল। আশা করি বিষয়টি আমাদের মসজিদ সম্পর্কে আরও যত্নশীল ও সচেতন হবে সাহায্য করবে ইনশা’আল্লাহ।

Continue reading

আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন ?


লেখকঃ আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান

মুরাকাবা কাকে বলে

মুরাকাবা অর্থ হল : এমনভাবে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের ইবাদাত-বন্দেগী করা যেন আপনি আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছেন। যদি এ অবস্থা আপনার অর্জিত না হয়, তা হলে এমন ভাব নিয়ে তাঁর ইবাদত করা যে, তিনি অবশ্যই আপনাকে দেখতে পাচ্ছেন। ইসলামী পরিভাষায় এটাকে বলা হয় মুরাকাবা।

 

মুরাকাবার আভিধানিক অর্থ হল পর্যবেক্ষণ করা।

আল্লাহ তাআলা বলেন:

তুমি যখন সালাতে দাড়াও তিনি তোমাকে দেখেনআর সিজদাকারীদের মধ্যে আপনার নড়াচড়াও দেখেন

(সূরা আশ-শুআরা, আয়াত : ২১৮-২১৯)

তিনি আরো বলেন:

তোমরা যেখানেই থাকো তিনি তোমাদের সাথে আছেন

(সূরা আল হাদীদ, আয়াত : ৪)

তিনি আরো বলেনঃ

আল্লাহর কাছে আকাশ ও পৃথিবীর কোন কিছুই গোপন থাকে না (সূরা আলে ইমরান, আয়াত : ৫)

তিনি আরো বলেনঃ

নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক কড়া দৃষ্টি রাখছেন (সূরা আল ফাজর, আয়াত ১৪)

তিনি আরো বলেনঃ

তিনি জানেন চক্ষুসমূহের খেয়ানত ও অন্তরসমূহ যা গোপন রাখে

(সূরা আল মুমিন, আয়াত ১৯)

Continue reading

দু’আ


আভিধানিক অর্থে দুআ

দুআ শব্দের অর্থ আহ্বান, প্রার্থনা। শরীয়তের পরিভাষায় দুআ বলে কল্যাণ ও উপকার লাভের উদ্দেশ্যে এবং ক্ষতি ও অপকার রোধকল্পে মহান আল্লাহকে ডাকা এবং তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা। দুআ শব্দ পবিত্র কুরআনে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়েছে। নিম্নে তার কয়েকটি উল্লেখ করা হল।

১- ইবাদত:

মহান আল্লাহ বলেন ,

 

তোমাদের পালনকর্তা বলেন, তোমরা আমাকে ডাক, আমি সাড়া দিব, যারা আমার ইবাদতে অহংকার করে তারা অচিরে জাহান্নামে প্রবেশ করবে লাঞ্চিত হয়ে। (আল-মুমিন-৬০)

২-সাহায্য প্রার্থনা:

আল্লাহ বলেন :

 

যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক, আল্লাহ ব্যতীত তোমাদের সব সাহায্যকারীদেরকে আহবান কর। (আল-বাকারা-২৩)

আল্লাহর মুখাপেক্ষী হওয়া এবং তার নৈকট্য লাভ করা ব্যতীত মানুষের কোন উপায় নেই, আর দুআ হল আল্লাহর নৈকট্যলাভের বিশেষ বাহন ও মাধ্যম। আল্লাহর নিকট প্রার্থনা, প্রত্যাশা ও সাহায্য কামনার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর নিকটবর্তী হয়। এ দ্বারা মানুষ তার প্রতিপালকের ইবাদত করে, উদ্দেশ্যে উপনীত হয়, তার সন্তুষ্টি লাভ করে।

Continue reading

আপনার সন্তানদের ইবাদাত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করুন


লিখেছেন: রেহনুমা বিনত আনিস

ছোটবেলায় একবার কয়েকমাস গ্রামে থাকার সুযোগ হয়েছিল। অনেক সুন্দর সুন্দর অভিজ্ঞতার মাঝে একটি অভিজ্ঞতা ছিল, সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলে মায়েরা তাদের ঘর্মক্লান্ত কর্দমাক্ত সব পিচ্চি ছেলেমেয়েদের হাতমুখ ধুইয়ে বা এক বদনা পানি দিয়েই একখানা মিনি গোসল দিয়ে ভাল কাপড়চোপড় পরিয়ে বারান্দায় বসিয়ে দিতেন। মাগরিব হতেই সব বাড়ীর বারান্দা থেকে শোনা যেত বাচ্চারা উচ্চস্বরে সমবেত কন্ঠে যতপ্রকার দুয়া জানা আছে গড়গড় করে বলতে থাকত- বাবা মায়ের জন্য, দাদা দাদীর জন্য, নানা নানীর জন্য, আত্মীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশী কেউ বাদ যেত না। শহুরে আমি এতে খুব মজা পেতাম। কিন্তু এখন মনে হয় এটা এমন এক ট্রেডিশন ছিল যার মাধ্যমে আর কিছু হোক বা না হোক, যেসব বাচ্চা এখনো নামাজ পড়তে শেখেনি তাদের পরিবারের ইবাদাত প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার একটা সুন্দর প্রয়াস ছিল।

Continue reading

ভালোবাসা : আল্লাহর জন্যে ?


যারা পরস্পরকে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার জন্যে ভালোবাসে তাদের মর্যাদা অনেক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। জান্নাতে তাদের উচ্চ সম্মানিত স্থানের কথা ওয়াদা করা হয়েছে এবং যেদিন সমগ্র মানব জাতিকে তাদের রবের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে বিচারের জন্যে, সেদিন আল্লাহ তায়ালা যে সম্মান তাদেরকে দান করবেন তাও বর্ণিত হয়েছে।

হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ৭ শ্রেণীর লোকদের মহান আল্লাহ সেদিন তাঁর সুশীতল ছায়াতলে আশ্রয় দিবেন, যেদিন তাঁর ছাড়া অন্য কোন ছায়াই থাকবে না। তাঁরা হলেনঃ

১ ন্যায়বিচারক শাসক বা নেতা
২ মহান আল্লাহর ইবাদতে মশগুল যুবক
৩ মসজিদের সাথে সম্পর্কযুক্ত হৃদয়ের অধিকারী
৪ যে দুজন লোক একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পরস্পর বন্ধুত্ব করে এবং এ জন্যেই আবার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়
৫ এরূপ ব্যক্তি যাকে কোন অভিজাত পরিবারের সুন্দরী নারী খারাপ কাজে আহবান করেছে, কিন্তু সে বলে দিল, আমি আল্লাহকে ভয় করি
৬ যে ব্যক্তি এতো গোপনভাবে দান-খয়রাত করে যে, তার ডান হাত কি দান করলো, বাঁ হাতেও তা জানতে পারলো না
৭ এরূপ ব্যক্তি যে নির্জনে আল্লাহর যিকির করে এবং দু’চোখের পানি ফেলে (কাঁদে)।
[বুখারী ও মুসলিম]

Continue reading