রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস: যৌক্তিক নাকি অযৌক্তিক


আসসালামুআলাইকুম,
প্রথমেই বলে নেই, স্রষ্টা’র অস্তিত্ব নিয়ে পোস্ট দেওয়ার উপযুক্ত ব্লগ হয়ত এই বাংলা ব্লগ না। আমি আশা করি আমাদের দেশের অধিকাংশ মানুষ এখনও বিশ্বাসী। তারপরও দেখা যাচ্ছে, নাস্তিকতা দিনে দিনে খুবই জনপ্রিয় একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে, এবং অধিকাংশ সময় তা ফ্যাশন হিসেবেই পরিলক্ষিত হয়।( ফ্যাশনের ধারনাটি শ্রদ্ধেয় দেবব্রত ভাইয়ের থেকে ধার করা, যেটা আমি আসলে জানতাম না যে, এটাও যে একটা ফ্যাশন হতে পারে)। আবার দেখা যায়, অনেকের স্রষ্টায় বিশ্বাসও খুবই নড়বড়ে, চারপাশের এই বিশৃংখল অবস্থা দেখে। তাই এসব চিন্তা করেই এই পোস্ট।

আর একটি বিষয় বলা দরকার, শুধুমাত্র এই যুক্তির ভিত্তিতে কিন্তু আমরা মুসলমানেরা আমাদের বিশ্বাসকে প্রতিষ্ঠিত করিনি। বরং আরো অনেক নিদর্শন, প্রমান ইত্যাদি রয়েছে আল্লাহ’র অস্তিত্বে বিশ্বাসের। তবে, এগুলোও সহায়ক।

মৌলিক বিষয় থেকেই শুরু করা যাক। প্রথমত আমাদেরকে অবশ্যই সকল বিষয়ে যৌক্তিক এবং ন্যায়সংগত হতে হবে। যেমন, আমাদের পূর্ব-অভিজ্ঞতা, প্রমান এবং কমন সেন্স কাজে লাগাতে হবে।

Continue reading

কে এই শয়তান ও কি তাঁর উদ্দেশ্য?


লেখকঃ আবু ইয়াদ

শয়তানের প্রকৃতি

শয়তান কে? শয়তান বলে কি বাস্তবে কিছু আছে? নাকি এটা একটা নিছক কল্পনা? নাকি সমাজে প্রচলিত কোন গাল-গল্প? মূলতঃ এটা আমাদের আকীদার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জ্বিনকে বিশ্বাস করা অদৃশ্যে বিশ্বাসের একটি অংশ। এবং একজন মুসলিমের ঈমান পূর্ণতা পায় না যতক্ষণ পর্যন্ত না সে এই অদৃশ্য বিষয়ে বিশ্বাস করে। যদিও বা এই অদৃশ্য বিষয় তার বুদ্ধিমত্তা বা চিন্তার সাথে খাপ না খায়। জ্বিনের অস্তিত্ব কোরআন শরীফ ও হাদীস দ্বারা অকাট্যভাবে প্রমাণিত। আল্লাহ্‌ বলেন :

আমি জ্বিন ও মানুষকে কেবলমাত্র আমার ইবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি” [আয্‌ যারিয়াত : ৫৬]

বলুন : আমার প্রতি ওহী নাযিল করা হয়েছে যে, জ্বিনদের একটি দল কোরআন শ্রবণ করেছে অতঃপর তারা বলেছে আমরা বিস্ময়কর কোরআন শ্রবণ করেছি।” [আল-জিন : ১]

অনেক মানুষ অনেক জ্বিনের আশ্রয় নিত, ফলে তারা জ্বিনদের আত্মম্ভরিতা বাড়িয়ে দিত।” [আল-জ্বিন : ৬]

মহানবী (সঃ) বলেন: “তিন ধরনের জ্বিন রয়েছে : “একদল, যারা সর্বদা আকাশে উড়ে বেড়ায়, আরেকদল যারা সাপ ও কুকুরের আকার ধারণ করে থাকে এবং তৃতীয়দল পৃথিবীবাসী, যারা কোন এক স্থানে বাস করে বা ঘুরে বেড়ায়।” [বায়হাকী ও তাবারানী]

Continue reading

মধ্যম পন্থা এবং শত্রুদের পরিকল্পনা


আমরা যখন ইসলামের যেকোন দিক নিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের মনে প্রাণে এই বিশ্বাস রাখা উচিত যে এই দ্বীনের বিষয়াবলী সর্বশক্তিমান মহাপরাক্রমশীল আল্লাহ্ সুবহানাওয়াতা’আলা কর্তৃক নির্ধারিত। এইসব বিষয়াবলী নিয়ে আলোচনা, ব্যবহার এবং গবেষণা করার সময় ঐ সচেতনতার একটি সরাসরি প্রভাব রয়েছে, কারণ সম্পূর্ণ ইসলাম কোন ভিত্তিহীন তত্ত্ব নয় যা সম্বন্ধে আমরা কোন ধরনের বিধিনিষেধ ছাড়াই অসীমিত আলোচনায় যেতে পারি বরঞ্চ, এটি একটি গ্রন্থ, যা আপনার প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে, যাতে করে আপনি এর মাধ্যমে ভীতি-প্রদর্শন করেন। অতএব, এটি পৌছে দিতে আপনার মনে কোনরূপ সংকীর্ণতা থাকা উচিত নয়। আর এটিই বিশ্বাসীদের জন্যে উপদেশ। তোমরা অনুসরণ কর, যা তোমাদের প্রতি পালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অন্য সাথীদের অনুসরণ করো না।(সূরা আরাফঃ২-৩)

যেহেতু এই দ্বীন আল্লাহর পক্ষ হতে মনোনীত, সেহেতু এর মধ্যে কোন

  • নিজস্ব অভিলাষ,
  • তত্ত্ব বা মতামত,
  • দোষারোপ,
  • বুদ্ধিমত্তার বিশ্লেষণ,
  • আত্মাকে সন্তুষ্টির ব্যাগ্রতা,
  • যুগের হাওয়ার সাথে গা-ভাসানো কিংবা
  • জাতিগত প্রবৃত্তির সাথে তাল মেলানোর জন্য ঐকতান তৈরির কোন স্থান নেই।
  • তাই, আল্লাহর এই দ্বীন সব কিছুকে চালনা করবে, কারো কর্তৃক চালিত হওয়ার নয়,
  • এটা আত্মাকে আনুগত্যের জন্য দাখিল করে ও এটা আত্মা কর্তৃক পরাভূত হবার নয়,
  • এটা জাতিকে শাসন করে ও জাতি কর্তৃক শাসিত হয় না,
  • এটা আপন মনের খেয়াল-খুশির ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং এগুলো কর্তৃক সীমাবদ্ধ হয় না।
  • এটা যুগের বিষয়াবলী নিয়ন্ত্রণ করে ও এগুলোর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় না, এটা জীবনের ওপর সম্পূর্ণভাবে কর্তৃত্ব স্থাপন করে
  • এবং এটা জীবন কর্তৃক অধীনস্থ হওয়ার নয়।

সুতরাং, যারা এই ধরিত্রীকে দুর্নীতির করালগ্রাস হতে রক্ষা করতে চায় ও বিভ্রান্তির অমানিশা থেকে বের করে আনতে চায় শুধুমাত্র নিজেদের মর্মস্পর্শী স্লোগান, স্পৃহা ও চিন্তাভাবনার মাধ্যমে, বস্তুতপক্ষে সেটা হল ফাঁকা আওয়াজের মত, পথনির্দেশনা ও সত্যের পথ থেকে অনেক দূরে; আর তারা তাদের হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রমের বদৌলতে কিছুই পাবে না স্বাস্থ্যহানি এবং বুদ্ধিভ্রংশ ছাড়া ঠিক যেমনটি আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন বলেছেন, সত্য যদি তাদের কাছে কামনা-বাসনার অনুসারী হত, তবে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল এবং এগুলোর মধ্যবর্তসবকিছুই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ত। বরং আমি তাদেরকে দান করেছি উপদেশ, কিন্তু তারা তাদের উপদেশ অনুধাবন করে না।(সূরা মুমিনুনঃ৭১)

Continue reading

অতি গুরুত্বপূর্ণ কতিপয় জিজ্ঞাসা ও সেগুলোর জবাব


 সংকলক:শাইখ মুহা:আব্দুল্লাহ আল কাফী

প্রিয় মুসলিম ভায়েরা, আকীদা বিষয়ক বারটি অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং কুরআন, সহীহ হাদীস ও বিশ্ববরেণ্য ওলামাগণের ফাতওয়ার আলোকে সেগুলোর উত্তর প্রদান করা হল। আমাদের বিশ্বাসকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য এবং  সঠিক আকীদার উপর চলার জন্য এ প্রশ্নগুলোর উত্তর জানা খুব জরুরী। আসুন, আমরা প্রশ্নগুলো পড়ি এবং সেগুলোর উত্তর জানার চেষ্টা করি। মহান আল্লাহ তায়ালার নিকট প্রার্থনা, তিনি যেন আমাদেরকে পরিশুদ্ধ আকীদা ও বিশ্বাস সহকারে সঠিক পথে চলার তাওফীক দান করেন।

প্রশ্ন-১: জ্যোতির্বিদ, গণক, হস্তরেখা বিদ, যাদুকর প্রভৃতির কাছে যাওয়া বা তাদের কথা বিশ্বাস করার বিধান কি? 

উত্তর: কোন জ্যোতির্বিদ, গণক, হস্তরেখা বিদ, যাদুকর প্রভৃতির কাছে যাওয়া বা তাদের কথা বিশ্বাস করা বৈধ নয়। কেননা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি কোন গণৎকারের কাছে গিয়ে কোন কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞেস করবে, তার চল্লিশ দিনের ছালাত কবুল করা হবে না। (ছয় শতাধিক মুসলিম) গণৎকার বলতে ভাগ্য গণনাকারী দৈবজ্ঞ, জ্যোতিষী, যাদুকর সকলেই উদ্দেশ্য। রাসূল  (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আরও বলেন, যে ব্যক্তি কোন জ্যোতির্বিদের কাছে যাবে, অত:পর সে যা বলে তা বিশ্বাস করবে, সে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দ্বীনের সাথে কুফরী করবে। (মুসনাদ আহমাদ ও সুনান গ্রন্থ সমূহ)

প্রশ্ন-২: আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো নামে কি কসম বা শপথ করা যায়?

উত্তর: আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্য কারো নাম নিয়ে শপথ করা জায়েজ নয়। নবী সাল্লাল্লাহু  বলেন, সাবধান, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ পাক তোমাদেরকে তোমাদের বাপ-দাদাদের নাম নিয়ে কসম করতে নিষেধ করছেন। কেউ যদি কসম করতে চায় তবে সে যেন আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে করে অন্যথা যেন নীরব থাকে। (বুখারী ও মুসলিম)

আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা স্বীয় বাপ-দাদা বা মা-দাদী-নানী প্রভৃতির নামে কসম করবে না। আর সত্য বিষয় ছাড়া আল্লাহ্‌র নামে কসম করবে না। (আবূ দাঊদ, নাসাঈ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌ ছাড়া অন্যের নামে শপথ করবে সে কুফরী করবে অথবা শিরক করবে। (মুসনাদ আহমাদ)

প্রশ্ন-৩: কবরের পরিচয়ের জন্য কোন ন্যাম প্লেট বোর্ড লটকানো যাতে তার নাম মৃত্যু তারিখ প্রভৃতি লিখা থাকবে। বা এমন কোন বোর্ড লটকানো যাতে কুরআনের কোন আয়াত লিখা থাকে.. তবে তার বিধান কি?

উত্তর: কবরের উপর কোন কিছু লিখা জায়েজ নয়- না কোন কুরআনের আয়াত না নাম পরিচয়- না কোন বোর্ডের উপর না কোন পাথরের উপর আর না কবর বাঁধাই করে তার দেয়ালে। জাবের (রা:) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  নিষেধ করেছেন, কবরকে চুনকাম করতে, তার উপর বসতে এবং তার উপর ঘর উঠাতে। (মুসলিম) তিরমিযী এবং নাসাঈর অপর বিশুদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে, এবং তার উপর কোন কিছু লিখতেও নিষেধ করেছেন। (আবূ দাঊদ, নাসাঈ,) তিরমিযীর অপর বর্ণনায়: সেখানে মসজিদ তৈরি করতে এবং কোন বাতি জ্বালাতে নিষেধ করেছেন।

প্রশ্ন-৪: মহিলাদের কবর যিয়ারতে বিধান কি?

উত্তর: মহিলাদের কবর যিয়ারত করা বৈধ নয়। কেননা রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অধিক কবর যিয়ারতকারীনী নারীদের উপর  লানত (অভিশাপ) করেছেন। (আবূ দাঊদ, তিরমিযী, নাসাঈ) কেননা তারা একধরণের ফিতনা, তাদের ধৈর্য কম। তাই আল্লাহ্‌ করুণা এবং অনুগ্রহ করে কবর যিয়ারত করা তাদের জন্য নিষিদ্ধ করেছেন। যাতে করে তারা ফিতনায় না পড়ে এবং তাদের দ্বারা অন্যরা ফিতনায় না পড়ে। আল্লাহ্‌ সকলের অবস্থা সংশোধন করুন। -(শায়খ বিন বায)

প্রশ্ন-৫: মৃত ব্যক্তিকে দাফন করে কবরের কাছে কুরআন পাঠ করার বিধান কি? বা ইছালে ছওয়াবের উদ্দেশ্যে মৃতের গৃহে কুরআন পাঠ করার জন্য হাফেয-কারীদের ভাড়া করে নিয়ে আসার হুকুম কি?

উত্তর: মৃত ব্যক্তিকে দাফন করার পর তার কবরের কাছে কুরআন পাঠ করা একটি বিদআতী কাজ। কেননা এধরণের কাজ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর যুগে ছিল না। তিনি এরূপ করেন নি করার আদেশও করেন নি। বরং দাফনের পর কি করতে হয় তা বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন ব্যক্তিকে দাফন করার পর সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়াতেন এবং বলতেন, তোমাদের মৃত ভায়ের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তার দৃঢ়তার জন্য দুআ কর, কেননা এখনই সে জিজ্ঞাসিত হবে। (আবু দাঊদ)

কবরের কাছে কুরআন পাঠ করা যদি শরীয়ত সম্মত হত বা তাতে কোন কল্যাণ থাকত তবে অবশ্যই নবী সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম সে নির্দেশ দিতেন এবং দলীল পাওয়া যেত। অনুরূপভাবে কোন গৃহে হাফেয-কারীদেরকে একত্রিত করে কুরআন পাঠ করে তা মৃতের রূহে বখশে দেয়াও একটি বড় ধরনের বিদআতী কাজ। শরীয়তে যার কোন দলীল নেই। সালাফে ছালেহীন তথা ছাহাবায়ে কেরামের কেউ একাজ করেননি। একজন মুসলিম ব্যক্তি যখন কোন বিপদে পড়বে বা কোন দুর্ঘটনায় পতিত হবে তখন সে ধৈর্য ধারণ করবে এবং আল্লাহ্‌র কাছে এর প্রতিদান আশা করবে। আর ধৈর্য ধারণকারীদের মত  দুআ করবে, ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেঊন, আল্লাহুম্মা আজুরনী ফী মুসীবাতী ওয়াখলুফলী খাইরান্‌ মিনহা। (শায়খ ইবনু ঊছাইমীন)

প্রশ্ন-৬: মীলাদুন্নবী উপলক্ষে বা কোন পীর-ওলীর উরূস উপলক্ষে যদি কোন প্রাণী যবেহ করা হয়, তবে তা খাওয়া কি জায়েজ?

উত্তর: কোন নবী বা ওলী বা যে কারো জন্মদিন উপলক্ষে যদি তার সম্মানের উদ্দেশ্যে প্রাণী যবেহ করা হয়, তবে তা গাইরুল্লাহ্‌র উদ্দেশ্যে যবেহ করার অন্তর্ভুক্ত হবে- যা সুস্পষ্ট শিরক। আর সে প্রাণীর মাংস খাওয়া জায়েজ নয়। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি গাইরুল্লাহ্‌র নামে প্রাণী যবেহ করে আল্লাহ্‌ তার প্রতি  লানত (অভিশাপ) করেন। (মুসলিম)

Continue reading

নিফাকের সংজ্ঞা ও প্রকারভেদ


নিফাকের সংজ্ঞা:

আভিধানিক ভাবে নিফাক শব্দটি نافق ক্রিয়ার মাসদার বা মূলধাতু। বলা হয় نافقيُنَافِقُ نِفَاقَاًومَنَافَقَةً শব্দটি النافقاء থেকে গৃহীত যার অর্থ ইঁদুর জাতীয় প্রাণীর গর্তের অনেকগুলো মুখের একটি মুখ। তাকে কোন এক মুখ দিয়ে খোঁজা হলে অন্য মুখ দিয়ে সে বের হয়ে যায়।

এও বলা হয়ে থাকে যে, নিফাক শব্দটি نفقٌ থেকে গৃহীত যার অর্থ সেই সুড়ঙ্গ পথ যাতে লুকিয়ে থাকা যায়। [আন-নিহায়া :ইবনুল আসীল , ৫ম খন্ড পৃঃ ৯৮।]

শরীয়তের পরিভাষায় নিফাকীর অর্থ হল ভেতরে কুফুরী ও খারাবী লুকিয়ে রেখে বাহিরে ইসলাম জাহির করা। একে নিফাক নামকরণের কারণ হলো সে এক দরজা দিয়ে শরীয়তে প্রবেশ করে অন্য দরজা দিয়ে বের হয়ে যায়। এ জন্যই এ ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন:

নিশ্চয়ই মুনাফিকরাই ফাসিক পাপচারী [সূরা তওবা,৬৭]

Continue reading

বিংশ শতকের জাহেলিয়াত


সমস্ত প্রশংসা জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য এবং তাঁর সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ওপর বর্ষিত হোক শান্তি ও কল্যাণ এবং কিয়ামত পর্যন্ত যারাই সত্যের পথ অবলম্বন করবে তাদের ওপর (শান্তি ও কল্যাণ বর্ষিত হোক)।

১৪০০ বছর আগে যখন ইসলামের আবির্ভাব হয় তখনকার সময়কে বলা হত জাহেলিয়াত। মানুষ জাহেলিয়াত ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করত। ইসলামপূর্ব বা অনৈসলামিক চিন্তাচেতনা ও ভুলত্রুটিকে জাহেলিয়াতের অংশ মনে করা হত। জাহেলিয়াতের শাব্দিক অর্থ ‘অজ্ঞতা’ যা আরবী জাহ্ল শব্দ থেকে এসেছে।

তবে এক্ষেত্রে অজ্ঞতা বলতে নিরক্ষরতা বোঝানো হতো না। সেসময় আরবে মুখে মুখেই বেশীর ভাগ কাজ সম্পন্ন হত। সমাজ-সভ্যতা গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞানের অভাবও জাহেলিয়াত নয়। আমরা জানি আরব উপদ্বীপে এ ধরনের জ্ঞান ছিল যা সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছে এবং সেসবের চিহ্ন আমরা উত্তর ও দক্ষিণ আরবে দেখতে পাই। জাহেলিয়াতের প্রকৃত অর্থ মানুষের জীবনে আসমানী বিধানের অনুপস্থিতি। সেই আরবরা বংশপরম্পরায় নিজেদের তৈরি নিয়মকানুন বা প্রথার অনুসারী ছিল। ইসলাম সে মুহূর্তে জীবনযাপন, সমাজ ও জাতি গঠনের স্বর্গীয় দিকনির্দেশনা নিয়ে এসেছিল।

Continue reading

শাহাদাহর সাতটি শর্ত


নামাযের মত তাওহীদেরও অনেকগুলো শর্ত আছে। নামায সহীহ হওয়ার শর্তাবলীর মধ্যে যদি যে কোনো একটি শর্ত যেমন অজু করা বা কেবলামুখী হওয়া ইত্যাদি না পাওয়া যায় তাহলে নামায বাতিল বলে গণ্য হবে। তেমনি শাহাদাহ্ সাতটি শর্ত সম্বলিত, যা পরিপূর্ণভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগের পর আমাদের মাঝে ইসলামের প্রথম স্তম্ভ (ঈমান) স্থাপিত হওয়ার দাবী করতে পারব। এ সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করা এবং এর শর্তগুলো পূরণ করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ওয়াযিব।

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছিলেনঃ- ইহা কি সত্য যে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাক্ষ্যদানই বেহেস্তে প্রবেশের চাবিকাঠি? তিনি বললেন হ্যাঁ ঠিক। তবে প্রত্যেক চাবিতেই কিছু দাঁত থাকে এবং দাঁত ব্যতীত কাংখিত দরজাটি খোলা সম্ভব নয়। অনুরূপভাবে কালেমারও সাতটি দাঁত রয়েছে এবং আমাদের জীবনে এর যে কোন একটির অভাব ঈমানের দাবীকে পরিপূর্ণ করে না এবং এর ফলে শাহাদাহ অকার্যকর (বাতিল) হয়ে পড়ে।

Continue reading

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ


নবী-রাসূলদের আহবান ছিল লা ইলাহা ইল্লাল্লাহঃ

মানবজাতিকে (অর্থাৎ সর্বপ্রথম মানব আদম ও তাঁর স্ত্রীকে) এ দুনিয়ায় পাঠানোর সময় আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালা বলেছিলেনঃ
আমি হুকুম করলাম, তোমরা সবাই নীচে নেমে যাও। অতঃপর যদি তোমাদের নিকট আমার পক্ষ থেকে কোন হেদায়েত পৌঁছে, তবে যে ব্যক্তি আমার সে হেদায়েত অনুসারে চলবে, তার উপর না কোন ভয় আসবে, না (কোন কারণে) তারা চিন্তাগ্রস্ত ও সন্তপ্ত হবে।(সূরা,বাকারা ২: ৩৮)

যুগে যুগে নবী-রাসূলরা সে হেদায়েতের আহবান নিয়ে মানবজাতির কাছে এসেছিলেন। আমাদের ঐ সত্য পথের অনুসরণ করার জন্য জানা প্রয়োজন নবী-রাসূলদের আহবান সম্পর্কে, যাতে আমরা মুক্তি ও সফলতা লাভ করতে পারি।

আল্-কুরআনের অনেক স্থানে আল্লাহ (সুবঃ),মানব জাতির প্রতি নবী-রাসূলদের আহবানের বর্ণনা দিয়েছেন। এখানে আমরা আল-কুরআন থেকে কয়েকজন নবী এবং রাসূলের আহবান তুলে ধরছি-

নূহ (আঃ) এর আহবানের ব্যাপারে আল্লাহ (সুবঃ) বলেনঃ
আর অবশ্যই আমি নূহ (আঃ) কে তাঁর জাতির প্রতি প্রেরণ করেছি, (তিনি বললেন) নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য প্রকাশ্য সতর্ককারী। তোমরা আল্লাহ ব্যতীত কারো এবাদত করবে না। নিশ্চয় আমি তোমাদের ব্যাপারে এক যন্ত্রণাদায়ক দিনের আযাবের ভয় করছি। (সূরা, হুদ ১১:২৫-২৬)
ইব্রাহীম (আঃ) তাঁর কওমকে এই বলে আহবান জানিয়েছিলেনঃ

Continue reading