পুঁজিবাদ বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল বিশ্ব


পুঁজিবাদের লোভ-লালসা, ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও সরকারের ব্যয় সংকোচন নীতির বিরুদ্ধে গোটা বিশ্ব বিক্ষোভে ফেটে পড়ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক বৈষম্য, বেকারত্ব ও বঞ্চনার প্রতিবাদে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ বা ‘ওয়াল স্ট্রিট দখল কর’ নামে নিউইয়র্কে যে আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল, তার উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে আমেরিকা-ইউরোপ হয়ে আফ্রিকা, এশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ অক্টোবর ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা, লাতিন আমেরিকা, এশিয়া ও আফ্রিকার ৮২টি দেশের ৯৫১টি শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। মূলত অর্থনৈতিক অসমতা, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই বিশ্বের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভে নামে মানুষ। ঐদিন সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে ইতালির রাজধানী রোমে। সেখানে দুই লাখেরও বেশি মানুষ বিক্ষোভে যোগ দেয়। এদিকে আমেরিকার নিউইয়র্কে প্রতিদিনই পুঁজিবাদের প্রতীক ‘ওয়াল স্ট্রিটে’ বিক্ষোভ হচ্ছে। দেশটির মোট সম্পদের শতকরা নিরানববই ভাগ মাত্র এক ভাগ নাগরিকের হাতে কুক্ষিগত রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সরকার সাধারণ নাগরিকদের ওপর নতুন নতুন করের বোঝা চাপিয়ে দিচ্ছে এবং দেশটির সাধারণ জনগণের জন্য সাহায্যের কোন প্যাকেজ ঘোষণা না করে কেবল ধনকুবেরদের নিয়ন্ত্রিত কথিত ‘দেউলিয়া হয়ে পড়া’ ব্যাংক ও কোম্পানীগুলোকে অর্থ সাহায্য দিয়ে যাচ্ছে। অথচ মালিক ও পুঁজিপতিদের দুর্নীতির কারণেই এসব প্রতিষ্ঠান দেউলিয়া হয়ে পড়েছে এবং বেড়েছে বেকারত্ব। সরকারী সাহায্যের সুবিধাভোগী ব্যাংক ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্ষোভের কারণেই চলমান গণঅসন্তোষ শুরু হয়েছে ওয়াল স্ট্রিটসহ গোটা আমেরিকায়। উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ৫ কোটি মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করছে।
দিল্লীতে দিনে ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন
ভোর  ৬-টা থেকে বেলা ১২-টার মধ্যেই ভারতের রাজধানী দিল্লীতে ৭টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। বেলা ১২-টা থেকে সন্ধ্যা ৬-টার মধ্যে ১৭টি এবং সন্ধ্যা ৬-টা থেকে রাত ১২-টা পর্যন্ত ১৪ জন ধর্ষণের শিকার হন। সেখানে একদিনে মোট ৩৮ জন ধর্ষণের শিকার হন। ‘সেন্টার ফর সোশ্যাল রিসার্চে’র একটি সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে। ২০০৯ সালের জানুয়ারী থেকে ২০১১’র জুলাই পর্যন্ত পুলিশের কাছে দায়ের হওয়া ৫৮টি এফআইআর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র মিলেছে।
ব্রিটেনের মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ সুখী; সামাজিক অবক্ষয়ে ৫৯ শতাংশের উদ্বেগ প্রকাশ
অপরাধপ্রবণতা ও সহিংসতার হার বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়ের কারণে ব্রিটিশরা দিন দিন হয়ে উঠছে অসুখী। শুধু তাই নয়, ব্রিটেনের চেয়ে কম আয়তনের দেশ বিশেষ করে পোল্যান্ড, ফ্রান্স, ইতালী, স্পেনের মানুষ যেখানে সুখী ও সচ্ছলভাবে জীবন যাপন করছে, সেখানে মাত্র পাঁচ শতাংশ ব্রিটিশ বলছে তারা সুখী। ইউরোপের ১০টি দেশের মধ্যে ঐ গবেষণা চালায় ‘ইউসুইচ ডটকম’ নামের একটি ওয়েবসাইট কর্তৃপক্ষ। গবেষণায় দেখা যায়, লন্ডনের ৫৯ শতাংশ মানুষই দেশটির সামাজিক অবক্ষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সাম্প্রতিক দাঙ্গার পর তাদের এই উদ্বেগ আরো বেড়েছে। ৪৯ শতাংশ মানুষ বলেছে, সবকিছুর দাম বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা তাদের কাছে বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ৪৭ শতাংশ অপরাধ ও সহিংসতার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় রীতিমত আতংকিত।

ইরাক ও আফগান যুদ্ধকে অপচয় মনে করেন মার্কিন সৈনিকেরা
ইরাক ও আফগান যুদ্ধফেরত প্রতি তিনজনের একজন মার্কিন সেনাসদস্য মনে করেন, এই যুদ্ধ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। তারা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত আন্তর্জাতিক বিষয়ের দিকে নজর কম দিয়ে অভ্যন্তরীণ বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া। ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ পরিচালিত ঐ জনমত জরিপ গত ৫ অক্টোবর প্রকাশ করা হয়। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে এবং সেপ্টেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ে জরিপটি করা হয়। প্রথমবার এক হাযার ৮৫৩ এবং দ্বিতীয় দফায় দুই হাযার তিনজনের ওপর ঐ জরিপ করা হয়। উল্লেখ্য, টাইম অনলাইনের প্রতিবেদন মতে, ইরাকে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাযার এবং  আফগানিস্তানে এক হাযার ৭শ’ মার্কিন সেনাসদস্যের প্রাণহানি হয়েছে।
মাদকদ্রব্য নিষিদ্ধ করছে ডাচ সরকার
সব ধরনের মাদক নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নেদারল্যান্ড সরকার। গত ৭ অক্টোবর ডাচ সরকার এ ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, প্রথমেই কোকেন বা এক্সটেসি জাতীয় উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নেশার দ্রব্য চিহ্নিত করা হবে। এরপর ধাপে ধাপে সব ধরনের মাদকদ্রব্য পৃথক করে নিষিদ্ধ করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে চীনের বাণিজ্যযুদ্ধের হুমকি
আন্তর্জাতিক বাজারে চীনা মুদ্রা ‘ইওয়ানে’র বিনিময় হার বাড়ানো সংক্রান্ত বিল কংগ্রেসে পাস করলে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করবে বলে হুমকি দিয়েছে চীন। গত ৪ অক্টোবর এক বিবৃতিতে চীন বেশ ক্ষোভের সঙ্গে জানিয়েছে, চীনা মুদ্রার মূল্য বৃদ্ধির জন্য বেইজিংকে চাপ দেয়ার উদ্দেশ্যে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাবিত বিল পাস হ’লে তা বিশ্বের এ দুই শীর্ষ ধনী দেশের অর্থনীতিকে বাণিজ্যযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেবে। গত ৩ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট বিলটি নিয়ে এক সপ্তাহ বিতর্কের জন্য অনুমোদন দিয়েছে। তার আগে গত বছর মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি কক্ষ এরকম একটি মুদ্রা বিল পাস করেছিল। ঐ সময়ও চীন এ ব্যাপারে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছিল। এ বিল পাস হ’লে মার্কিন সরকার যেসব দেশ মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে রফতানী উৎসাহিত করতে চায়, সেসব দেশের পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবে।
২০১১ সালের নোবেল বিজয়ীরা
চিকিৎসা : ২০১১ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রুস বিউটলার, লুক্সেমবার্গের জুলেস হফম্যান ও কানাডার র‌্যালফ স্টেইনম্যানকে নোবেল পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় অসামান্য অবদানের জন্য তাদের এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়। এদের মধ্যে স্টেইনম্যান ৩০ সেপ্টেম্বর মারা গেছেন।
পদার্থ : এবার পদার্থবিদ্যায় নোবেল পেয়েছেন তিন মার্কিন বিজ্ঞানী সল পার্লমুটার, ব্রায়ান শ্মিট ও অ্যাডাম রিস। মহাবিশ্ব সম্প্রসারণশীল বিষয়ে গবেষণার জন্য তাদেরকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
রসায়ন : রসায়নে চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ইসরাঈলী গবেষক দানিয়েল শেকতমান (৭০)। পরমাণু নিয়ে গবেষণার জন্য তাকে এ পুরস্কার দেয়া হয়।
সাহিত্য : এবার সাহিত্যে নোবেল পেয়েছেন সুইডিস কবি টমাস ট্রান্সমার। অল্প কথায় চিন্তা-চেতনার প্রতিফলন ঘটিয়ে নতুন এক বাস্তবতার সঙ্গে পরিচয়ে করিয়ে দেয়ার জন্য তাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
শান্তি : শান্তিতে এ বছর যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন তিন নারী। তারা হ’লেন, লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট এলেন জনসন-শারলিফ এবং তার স্বদেশী লোমা বোয়ি ও ইয়েমেনের তাওয়াক্কুল কারমান। নারীর নিরাপত্তা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে নারীর পূর্ণ অংশগ্রহণের অধিকার আদায়ে অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য তারা এ পুরস্কার পান।
অর্থনীতি : সূদের হার বৃদ্ধি বা কর কমানোর মতো পদক্ষেপগুলো জিডিপি ও মূল্যস্ফীতির মতো সামষ্টিক অর্থনীতির বিষয়গুলোকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা নিয়ে গবেষণার জন্য চলতি বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ থমাস সার্জেন্ট ও ক্রিস্টোফার সিমস।
আফগান যুদ্ধের প্রভাবে কানাডার প্রতিরক্ষা বিভাগে কাটছাঁট
কানাডা সরকার প্রতিরক্ষা খাতে নানাভাবে কাটছাঁট করছে। আফগান যুদ্ধে খরচের প্রভাবেই এই কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় ধরনের ছাটাইয়ের অংশ হিসাবে এরই মধ্যে ২৫০টি সিভিলিয়ান পজিশন কমানো হচ্ছে মিলিটারী থেকে। আগামী ৩ বছরে ২ হাযার ১শ’ সিভিলিয়ান পজিশন কমানোর ঘোষণাও দিয়েছে প্রতিরক্ষা বিভাগ।
অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণে ব্রিটেনের ধনীরা দেশ ছাড়ার চিন্তা করছেন
ব্রিটেনের ধনীরা দেশ ছেড়ে অন্য কোথাও বসতি গড়ার চিন্তা করছেন। বিশেষ করে গত আগষ্টে লন্ডনসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি শহরে দাঙ্গার পর এই প্রবণতা বেড়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত ‘লয়েড টিএসবি ইন্টারন্যাশনাল ওয়েলথ’ জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ শতাংশ ব্রিটেন ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনায় রেখেছেন। দেশে অপরাধ ও সমাজবিরোধী কর্মকান্ড বেড়ে যাওয়াই এর প্রধান কারণ বলে তারা উল্লেখ করেছেন।
যুক্তরাজ্যে বেকারত্বের হার ১৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ
যুক্তরাজ্যে ১৭ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেকারত্ব দেখা দিয়েছে। দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরো সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুন থেকে আগষ্ট পর্যন্ত তিন মাসে বেকারের সংখ্যা বেড়ে ২৫ লাখ ৭০ হাযারে দাঁড়িয়েছে। এই তিন মাসে নতুন করে এক লাখ ১৪ হাযার লোক বেকার হয়েছে। ১৯৯৪ সালের পর দেশটিতে এত বেশি বেকারত্ব দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দার প্রভাবেই যুক্তরাজ্যের বর্তমান সংকট দেখা দিয়েছে।
ভারতের ৭৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নীচে বাস করে
ভারতের সরকারী হিসাব মতে, দেশটির ১২১ কোটি মানুষের মধ্যে শতকরা ৩৭ ভাগ দারিদ্র্যসীমার নীচে বসবাস করে। কিন্তু বেসরকারী হিসাব মতে সেখানে দারিদ্র্যসীমার নীচে ৭৭ শতাংশ মানুষের বসবাস।
মানুষ কতটা পাষাণ হ’তে পারে!
গত ১৩ অক্টোবর চীনের গুয়াংদং প্রদেশের শিল্পনগর ফশানের একটি পাইকারী বাজারে পারিবারিক দোকানের অদূরে এক রাস্তায় দুই বছরের মেয়ে শিশু ইউ ইউকে প্রথমে একটি সাদা ছোট যান এসে ধাক্কা দেয়। এরপর একটি ট্রাক এসে আঘাত করে। তখন সে মরণ- যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিল। এমতাবস্থায় তার পাশ দিয়ে কমপক্ষে ১৮ জন পথচারী যাতায়াত করে। কিন্তু কেউ তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেনি। ঐ ছোট্ট শিশুটির গগণবিদারী আর্তনাদ কোন পাষাণের হৃদয়জগতে সামান্যতম দয়ার উদ্রেক করেনি। অবশেষে চেন জিয়ানমেই (৫৮) নামের এক ছিন্নমূল, ময়লা-আবর্জনা ঘাঁটাই যার কাজ, তিনি শিশুটিকে দেখামাত্র হাতের ব্যাগ ফেলে ছুটে যান তার কাছে। তিনি তাকে উদ্ধার করে তার মাকে খুঁজে বের করেন। মা তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। শিশুটি শহরের একটি সামরিক হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন আছে।

************************

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s