আল্লাহর জিকির, কুরআন এবং রাসূল সম্পর্কিত কোন বিষয় নিয়ে খেল- তামাশা করা


আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, “আপনি যদি তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন, তবে তারা অবশ্যই বলবে, আমরা খেল- তামাশা করছিলাম৷”(ফুসসিলাত . ৫০)

ইবনে ওমর, মুহাম্মদ বিন কা’ব, যায়েদ বিন আসলাম এবং কাতাদাহ রা. থেকে বর্ণিত আছে, [তাদের একের কথা অপরের কথার মধ্যে সামঞ্জস্য আছে] তাবুক যুদ্ধে একজন লোক বলল, এ কারীদের [কুরআন পাঠকারীর] মত এত অধিক পেটুক, কথায় এত অধিক মিথ্যুক এবং যুদ্ধের ময়দানে শত্রুর সাক্ষাতে এত অধিক ভীরু আর কোন লোক দেখিনি৷ অর্থাৎ লোকটি তার কথা দ্বারা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম; এবং তাঁর সাহায্যকারী সাহাবায়ে কেরামের দিকে ইঙ্গিত করেছিলো৷ আওফ বিন মালেক লোকটিকে বললেন, ‘তুমি মিথ্যা কথা বলেছ৷ কারণ, তুমি মুনাফেক৷’ আমি অবশ্যই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এ খবর জানাবো৷ আওফ তখন এ খবর জানানোর জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে গেলেন৷ গিয়ে দেখলেন কুরআন তাঁর চেয়েও অগ্রগামী [অর্থাত্‍ আওফ পৌঁছার পূর্বেই ওহির মাধ্যমে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যাপারটি জেনে ফেলেছেন] এ ফাঁকে মুনাফেক লোকটি তার উটে চড়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর কাছে চলে আসল৷ তারপর সে বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল, চলার পথে আমরা অন্যান্য পথচারীদের মত পরস্পরের হাসি, রং- তামাশা করছিলাম’ যাতে করে আমাদের পথ চলার কষ্ট লাঘব হয়৷ ইবনে ওমর রা. বলেন, এর উটের গদির রশির সাথে লেগে আমি যেন তার দিকে তাকিয়ে দেখছিলাম৷ পাথর তার পায়ের উপর পড়ছিল, আর সে বলছিল, ‘আমরা হাসি ঠাট্টা করছিলাম৷’ তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে উদ্দেশ্য করে বললেন, “তোমরা কি আল্লাহ; , তাঁর আয়াত [কুরআন] এবং তাঁর রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করছিলে?

ব্যাখ্যা
আল্লাহর জিকির, কুরআন ও রাসূল সম্পর্কিত বিষয়ে যে ব্যক্তি হাসি-তামাশা করে
তার পরিণাম হচ্ছে এই যে, তার এ কাজটি সম্পূর্ণরূপে ঈমানের পরিপন্থী৷ এ কাজ
মানুষকে ইসলামের গণ্ডি থেকে বের করে দেয়৷ কারণ, দ্বীনের মূল বিষয় হচ্ছে, আল্লাহ
তাআলার তাঁর যাবতীয় ঐশী গ্রন্থাবলি এবং রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনয়ন করা্ [তাই
এ মূল বিষয় নিয়ে তামাশা করার নামই কুফরি]
এসব বিষয়গুলোর প্রতি সম্মান প্রদর্শন ঈমানের অন্তর্ভুক্ত৷ আর এগুলো নিয়ে ঠাট্টা
বিদ্রূপ করা এবং হাসি তামাশা করা কুফরি করার চেয়েও জঘন্য৷ এ কথাগুলো জানা
থাকা আমাদের জন্য অতীব প্রয়োজন৷ এ রকম করা নিঃসন্দেহে কুফরি কাজ৷ তদুপরি
এতে রয়েছে মানুষকে হেয় প্রতিপন্নকরা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন করার মানসিকতা৷

কাফের দু ধরনের .
এক .  (মু’ রিদূন) যারা আল্লাহ; ও রাসূলকে অস্বীকার করে৷
দুই . [মুআ’রিদুন] যারা আল্লাহএবং তাঁর রাসূলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে৷

আল্লাহ, তাঁর দীন এবং তাঁর রাসূলের দোষ ও দুর্নাম গায়৷ এরা জঘন্য রকমের কুফরি করে, চরম অশান্তির সৃষ্টি করে৷ যারা আল্লাহ, রাসূল এবং কুরআন নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রূপ এবং রং তামাশা করে তারাও এর শ্রেণিভুক্ত৷ তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম  তার দিকে [মুনাফেকের দিকে] দৃষ্টিও দেননি৷ এর অতিরিক্ত কোন কথাও বলেননি৷

এ অধ্যায় থেকে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো জানা যায় :
১৷ এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে একথা অনুধাবন করা যে, আল্লাহ, কুরআন ও রাসূলের সাথে যারা ঠাট্টা বিদ্রূপ করে তারা কাফের৷

২৷ এ ঘটনা সংশ্লিষ্ট; আয়াতের তাফসীর ঐ ব্যক্তির জন্য যে, এ ধরনের কাজ করে অর্থাত্‍ আল্লাহ; , কুরআন ও রাসূলের সাথে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে৷

৩৷ চোগলখুরী এবং আল্লাহ; ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে নসিহতের মধ্যে পার্থক্য৷

৪৷ এমন ওজরও রয়েছে যা গ্রহণ করা উচিত নয়৷

_________________________________

৪৮ তম অধ্যায়
তাওহীদের মর্মকথা

************************

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s