কুরআন নাযিলের উদ্দেশ্য


বিসমিল্লাহর রাহমানির রাহীম। সকল প্রশংসা আল্লাহরই জন্য। আমরা তাঁর প্রশংসা করছি এবং তাঁর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করছি। তাঁরই নিকট ক্ষমা চাচ্ছি। তাঁরই কাছে তওবা করছি। তাঁরই কাছে আমাদের নফসের অমঙ্গল এবং মন্দ আমল হতে আশ্রয় চাচ্ছি।

আল্লাহ তাআলা যাকে হিদায়েত দান করেন কেউ তাকে পথ ভ্রষ্ট করতে পারে না আর যাকে গোমরাহ করেন তাকে কেউ হিদায়াত দিতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি একক। তাঁর কোন শরীক নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর বান্দা ও রাসূল।

কুরআন যেজন্য পড়ব:

আলিফ লাম রা; এটি একটি গ্রন্থ, যা আমি আপনার প্রতিনাযিল করেছি- যাতে আপনি মানুষকে তাদের রবেরঅনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আনেন পরক্রান্ত, প্রশংসার যোগ্য সত্তার পথের দিকে”(সূরা ইবরাহীম, ১৪:১)

কুরআনের এই আয়াত পড়ে ইসলামের কোন সমালোচক প্রশ্ন করতে পারেন কুরআনের এই কথাগুলো কি সত্য? কিন্তু মুসলিমদের বাস্তব অবস্থার সাথে এই কথার কোন মিল খুঁজে পাওয়া যায়না। মুসলিমরা (প্রায়) অন্ধকারেই বসবাস করছে। অবশ্যই আল্লাহর বাণী সত্য, এতে কোন সন্দেহ নেই। কেউ যদি কুরআনের ইতিহাস অধ্যয়ন করে এবং পূর্ববর্তীদের উপর কুরআনের প্রভাব প্রত্যক্ষ করে তবে দেখবে কুরআনের এই বাণী সত্যে পরিণত হয়েছিল। এটা সত্যিই দুঃখজনক যে আজকের মুসলিমরা এই অসাধারণ গ্রন্থের অধিকারী হয়েও এ থেকে হেদায়েতের নূর পাচ্ছেনা। এর কারণ খুঁজতে গেলে দেখা যায় কুরআনকে অবমূল্যায়ন ও বুঝতে না পারার মধ্যেই সমস্যা নিহিত।

কুরআন এই পৃথিবী ও আখেরাতে মুমিনের জন্য সম্মান বয়ে আনে। আল্লাহ কুরআনে বলছেন,

আমি তোমাদের প্রতি একটি কিতাব অবতীর্ণ করেছি; এতেতোমাদের জন্য উপদেশ রয়েছে তোমরা কি বোঝ না?” (সূরা আমবিয়া, ২১:১০)

এই আয়াতটি আরবের কুরাইশদের উপর নাজিল হয়েছিল। কুরআন নাজিলের আগে কেউ তাদের সম্মান দিতনা। কিন্তু কুরআনের কারণেই তাদের সম্মান বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই মূলনীতি এখনও অপরিবর্তিত। যেমনটি রাসূল (সা) বলেছেন:

আল্লাহ তাঁর এই কিতাব দ্বারা কিছু লোককে উপরে উঠান আর কিছুলোককে নামিয়ে দেন নিচে” (মুসলিম)

কোন মুমিন যদি সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে চায় এবং অন্যের চোখে নিচু হতে না চায় তবে আল্লাহ জানিয়ে দিয়েছেন তাদের কি করতে হবে: কুরআনের কাছে ফিরতে হবে এবং এর শিক্ষাকে জীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। এতো গেল দুনিয়ার সম্মান। আখেরাতেও কুরআন মুমিনদের জন্য সম্মান বয়ে আনবে। আবি উমামা (রা) বর্ণনা করেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সা) কে বলতে শুনেছি:

তোমরা কুরআন পাঠ কর কিয়ামতের দিন কুরআন তার সাথীদেরজন্যে সুপারিশকারী হিসেবে উপস্থিত হবে” (মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন,

সকল কথার উপর আল্লাহর বাণীর শ্রেষ্ঠত্ব ঠিক সেরকম, যেমন সকলসৃষ্টির উপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব” (তিরমিযি)

কোন ব্যক্তি যখন এই কুরআনের প্রকৃত মর্যাদা বুঝতে পারবে তখন সে অবশ্যই নিজের কিছু সময় এর অধ্যয়নে ব্যয় করবে। কুরআনের প্রতিটা বাক্য, প্রতিটা শব্দ, প্রতিটি অক্ষর আল্লাহর পক্ষ থেকে যিনি জানেন যা কিছু গোপন ও প্রকাশ্য, যিনি সবচেয়ে জ্ঞানী, যিনি প্রবল পরাক্রমশালী ও সবকিছুর মালিক। কুরআন তাই জ্ঞানের উৎস হিসেবে অনন্য, এতে কোন ভুল নেই এবং মানুষের হেদায়েতের জন্য প্রয়োজনীয় সবই এতে বিদ্যমান। একজন মুমিনের কি কুরআন না পড়ে হাত পা গুটিয়ে রাখা মানায়?

একজন মুসলিম আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে। এই ভালবাসার দাবী কুরআনকে ভালোবাসা। আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা) বলেন,

কেউ যদি জানতে চায় সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ভালোবাসে কিনাতবে তার দেখা উচিত সে কুরআনকে ভালোবাসে কিনা যদি সেকুরআনকে ভালোবাসে তবে সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকেওভালোবাসে

আল্লাহ কুরআনে বলেছেন,

তোমরাই হলে সর্বোত্তম উম্মত, মানবজাতির কল্যাণের জন্যতোমাদের উদ্ভব ঘটানো হয়েছে তোমরা সৎকাজের নির্দেশ দানকরবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে এবং আল্লাহর প্রতি ঈমানআনবে”(সূরা আলে ইমরান, ৩:১১০)

সবচেয়ে ভালো যে কাজের আদেশ মুসলিমরা দিতে পারে তা হল তাওহিদের প্রকৃত বিশ্বাস এবং কুরআনকে ধারণ ও প্রয়োগ করা। সবচেয়ে মন্দ যে কাজের নিষেধ করতে পারে তা হল অবিশ্বাস ও কুরআন থেকে মুখ ফেরানো। যেহেতু মুসলিমরা আজ তাদের কার্যকলাপ ও চিন্তা ধারার সাথে কুরআনের যোগসূত্র ব্যাপকভাবে হারিয়ে ফেলেছে তাই তারা আল্লাহর প্রদত্ত মহান দায়িত্ব পালনে সক্ষম নয়। এজন্য মানবতার আজ এই অবস্থা। বর্তমান কালের সাথে কুরআন নাজিলের সময়কার পরিস্থিতির খুব একটা পার্থক্য দেখা যায়না। ধর্মনিরপেক্ষতা, বস্তুবাদ প্রভৃতি নাস্তিক দর্শনে পৃথিবী ছেয়ে গেছে। এসব মানব সৃষ্ট মতবাদ কখনোই মানুষকে সত্যিকার সুখ দিতে পারেনা, এসব মতবাদ মানবজাতিকে সঠিক পথ দেখাতে অক্ষম।

যে মুসলিম জাতি সমগ্র মানবজাতিকে পথ দেখাবে তারা আজ নিজেরাই অগণিত সমস্যায় জর্জরিত। তাদের এসব সমস্যার সমাধান কি কুরআনে দেয়া হয়নি? মুসলিমরা কুরআনে উত্তর খুঁজেনা বলেই তারা সমস্যার সমাধান পায়না। মুসলিমরা বন্ধু আর শত্রুর পার্থক্য করতেও অক্ষম হয়ে পড়েছে। মুসলিমরা সংখ্যায় এক বিলিয়নেরও অধিক (পৃথিবীর জনসংখ্যার চার ভাগের একভাগ), কিন্তু এই বিপুল পরিমাণ মুসলিম শক্তিতে দুর্বল। বিভিন্ন দেশে মুসলিম নিধন চলছে। আল্লাহর সাহায্য কখন আসবে? এসব প্রশ্নের উত্তর কুরআনের পাতায় পাতায় সুস্পষ্ট ভাষায় লেখা আছে। রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন:

এই কুরআন আল্লাহর মজবুত রজ্জু এর এক প্রান্ত আল্লাহর হাতে,আরেক প্রান্ত তোমাদের হাতে তোমরা যদি একে শক্ত করে ধর, তবেকখনও বিভ্রান্ত কিংবা ধ্বংস হবেনা” (আত তারগীব ওয়াত তারহীব)

তাও কি আমরা কুরআন পড়বনা? আমরা কি অবিশ্বাসীদের পদতলে নিজেদের লুটিয়ে দেব? আমরা কি আল্লাহর বাণীর প্রকৃত মর্যাদা দেবনা?

 

কুরআন যেজন্য নাযিল হয়েছে:

কোন মুসলিমের কাছে যদি প্রশ্ন করা হয় কুরআন কেন নাযিল হয়েছিল? অধিকাংশই বলবে সওয়াব লাভের জন্য। সওয়াব লাভ একটা দিক বটে কিন্তু মূলত এই উদ্দেশ্যে কুরআন পাঠানো হয়নি। এর মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন:

এটি একটি বরকতময় কিতাব, যা আমি আপনার প্রতি বরকতহিসেবে অবতীর্ণ করেছি, যাতে মানুষ এর আয়াতসমূহ নিয়েচিন্তা-ভাবনা করে এবং বুদ্ধিমানগণ যেন তা অনুধাবন করে”(সূরা ছোয়াদ, ৩৮:২৯)

অর্থাৎ কুরআন নাযিলের একটা কারণ এর অর্থ বুঝা। আমরা শুরুতেই যে কুরআনের আয়াতটি উল্লেখ করেছি তা থেকে আরো জানা যায় কুরআন নাযিলের আরেকটি কারণ অজ্ঞতার অন্ধকার থেকে মানুষকে জ্ঞানের আলোতে নিয়ে আসা। কুরআন নাযিলের আরো কয়েকটি কারণ কুরআনেই পাওয়া যায়। আল্লাহ বলছেন:

·         সত্য-মিথ্যার মানদন্ড ও সতর্কীকরণ: “পরম কল্যানময় সেই সত্তা যিনি নিজ বান্দার (মুহাম্মদ) প্রতি নাযিল করেছেন (সত্য মিথ্যার ফয়সালাকারী) মানদন্ড (কুরআন), যাতে করে তা বিশ্ববাসীর জন্য সতর্ককারীর ভূমিকা পালন করে।” (সূরা আল ফুরকান, ২৫:১)

·         মতভেদের ক্ষেত্রে মীমাংসা, বিশ্বাসীদের জন্য পথনির্দেশ ও করুণা:“আমি আপনার প্রতি এ গ্রন্থ এজন্যই নাযিল করেছি, যেন আপনি সরল পথ প্রদর্শনের জন্য তাদেরকে পরিষ্কার বর্ণনা করে দেন, যে বিষয়ে তারা মতভেদ করছে, এবং ঈমানদারদের ক্ষমা করার জন্য।” (সূরা আন নাহল, ১৬:৬৪)

·         বিচারকার্য: “এটা নির্ঘাত সত্য যে আমি আপনার প্রতি এ কিতাব নাযিল করেছি, যাতে করে আল্লাহর দেখানো সঠিক বিধান অনুসারে আপনি মানুষের মাঝে বিচার-ফয়সালা করতে পারেন। আর আপনি বিশ্বাসঘাতক লোকদের পক্ষে বিতর্ককারী হবেন না।” (সূরা আন নিসা ৪:১০৫)

কুরআন নাযিলের যে কারণগুলো আল্লাহ আমাদের জানিয়েছেন তা উপরের আয়াতগুলো থেকে জানা যায়। কারণগুলো হচ্ছে

·         মানুষকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসা

·         সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য করে দেয়া

·         মানুষকে সতর্ক করা

·         সত্যনিষ্ঠ চিন্তাশীলদের চিন্তার খোরাক জোগানো

·         সরল পথ দেখানোর জন্য

·         আল্লাহর ইচ্ছা অনুযায়ী বিচার-ফয়সালা করার জন্য

 

কুরআনের সাথে আমাদের আচরণ:

আমরা আরবী ভাষায় কুরআন পড়ি কিন্তু অধিকাংশই এর অর্থ বুঝিনা। পৃথিবীর আর কোন বই আমরা না বুঝে পড়তে রাজি নই কিন্তু কুরআন না বুঝে পড়েও আমরা আত্মতৃপ্তি পাই, কেননা তেলাওয়াতের সওয়াবটাই আমাদের কাছে মুখ্য, আল্লাহ আমাদের কি করতে বললেন আর কি ছাড়তে বললেন তা মুখ্য না। এর ফলে আমরা শিক্ষিত হয়েও আজ ইসলামের দৃষ্টিতে চরম মূর্খ। অপরদিকে চিন্তা করে দেখি সাহাবাদের (রা) কথা, তারা অধিকাংশই ছিলেন অতি সাধারণ মানুষ, অধিকাংশই লেখাপড়া জানতেন না কিন্তু তাদের সাথে পরবর্তীদের তুলনাই চলেনা। তাদের সাথে আমাদের মূলত একটাই পার্থক্য, তারা কুরআনকে নিজেদের চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছিলেন। কুরআন ছাড়া তাদের জ্ঞান আহরণের আর কোন উৎস ছিলনা। আরবে তখন কোন মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেনি যা মানুষের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হবে। শুধু কুরআন জানা অল্পসংখ্যক সাহাবারাই তো অর্ধপৃথিবীকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে এসেছিলেন, যে কাজ আজ আমরা ভূরি ভূরি মুসলিমও করতে সক্ষম নই। কুরআন আমরা সযত্নে তুলে রাখি, শুধুমাত্র সে কুরআন খোলা হয় কারও মৃত্যুর সময় বা রমযান মাসে খতম করার অভিপ্রায়ে, বাকিটা সময় এর উপর ধুলো জমতে থাকে। আমরা যদি এই দুনিয়ায় ও আখেরাতে সফলকাম হতে চাই তবে কুরআন ও সুন্নাহকে (যা কিনা কুরআনেরই ব্যাখ্যা) আঁকড়ে ধরা ছাড়া আর কোন পথ নেই।

কেউ কেউ বলে থাকেন নিজে নিজে কুরআন পড়া যাবেনা, কুরআন পড়তে হবে শিক্ষকের কাছে। তারা আরো বলেন সাধারণ মানুষের জন্য কুরআন পড়ার চেয়ে দরূদ পড়া উত্তম। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন দরূদ পড়লে সওয়াব আছে কিন্তু গুনাহ হবার সম্ভাবনা নেই কিন্তু একজন গুনাহগার যখন কুরআন পড়ে তখন তার গুনাহ আরো বেড়ে যায় কেননা সে কুরআনের বিরুদ্ধাচরণ করছে। এই যুক্তিতে কুরআন পাঠ ছেড়ে দেয়া একেবারেই মানায় না কারণ কুরআন পড়ার কারণে গুনাহ হয়নি, কুরআন না পড়লেও তার (অবাধ্যতার) গুনাহ একই থাকছে। এ প্রসঙ্গে খুররম মুরাদের বক্তব্য হচ্ছে,

একটু চিন্তা করে দেখুন, তাঁরা কি একজন আরবকে কুরআনেরশাব্দিক অর্থ বুঝতে নিষেধ করতে পারেন? তাহলে কেন একজনঅনারবের অনুবাদ পড়া উচিত নয়? তা ছাড়াও তাঁরা কি কাউকে অন্যকোন বিষয় পড়ে তা থেকে অর্থ অনুধাবন বা সন্ধান করা থেকে বিরতরাখতে পারেন? তাহলে কেন কুরআন অধ্যয়ন করে অর্থ বুঝার প্রয়াসচালাতে নিষেধ করা হবে? তাছাড়া মুসলিম ও কাফির নির্বিশেষেকুরআনের যে প্রথম অবতীর্ণ আয়াত সে সম্পর্কেই বা কি বলা যায়?তারা ছিল নিরক্ষর এবং বেদুইন, যাদের না ছিল জ্ঞানার্জনের কোনউপায়-উপকরণ তথাপি অনেক কাফির কারও সাহায্য ছাড়াই শুধুমাত্রশুনে এবং এমনকি প্রথমবার শুনেই ইসলাম গ্রহণ করেছেন

শুধুমাত্র কুরআন শুনে মুশরিক উমর (রা) ঈমানদারে পরিণত হয়েছেন, খ্রীস্টান সম্রাট নাজ্জাশী অশ্রুপাত করেছেন এবং একদল জ্বীন মুহাম্মদ (সা) কে নবী বলে মেনে নিয়েছে। তাই কুরআন আমরা আলেমগণের তত্ত্বাবধানে থেকে শিখব, সে সুযোগ না হলে তাদের ব্যাখ্যা পড়ব কিন্তু কোন অবস্থায় কুরআন ছেড়ে দেবনা।

*****************************

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s