ইসলামের হক حق المسلم


ইসলামের হক    حق المسلم
عن أبي هريرة- رَضِيَ اللهُ عَنْهُ – قَالَ : قَالَ رَسُوْلُ اللهِ- صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَ سَلَّمَ- حَقُّ الْمُسْلِمِ عَلَى الْمُسْلِمِ سِتٌّ، قِيْلَ: مَا هُنَّ يَا رَسُوْلَ اللهِ ؟ قَالَ إذَا لَقِيْتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ، وَ إذَا دَعَاكَ فَأجِبْهُ، وَ إذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ، وَ إذَا عَطَسَ فَحَمِدَ اللهَ فَشَمِّتْهُ، وَ إذَا مَرِضَ فَعُدْهُ، وَ إذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ(৪০২৩)
আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেন যে রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন, একজন মুসলমানের উপর অপর মুসলমানের ছয়টি হক রয়েছে। প্রশ্ন করা হল, হে আল¬াহর রাসূল ! সেগুলো কি কি ? বললেন, (এক) সাক্ষাতে সালাম বিনিময় করা, (দুই) আমন্ত্রণ করলে গ্রহণ করা, (তিন) উপদেশ চাইলে উপদেশ দেওয়া, (চার) হাঁচি দিয়ে আলহামদুলিল¬াহ বললে উত্তরে ইয়ারহামুকাল¬াহ বলা, (পাঁচ) অসুস্থ হলে সাক্ষাত করে খোঁজ খবর নেয়া (ছয়) মৃত্যুবরণ করলে জানাজায় উপস্থিত থাকা।
আভিধানিক ব্যাখ্যা
حَقُّ : হক বলতে ঐ সব কাজ বুঝানো হয়, যা পালন করা অপরিহার্য। যথা ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নতে মোয়াক্কাদা—ইত্যাদি।
سِتٌّ : এ হাদিসে মুসলমানের ছয়টি হকের কথা বলা হয়েছে। তার অর্থ এই নয় যে মুসলমানের হক ছয়টির মাঝেই সীমাবদ্ধ। বরং উদ্দেশ্য হল, মুসলমানের হকসমূহের অন্যতম ছয়টি এই…। অন্যথায় বিশুদ্ধ হাদিসে আলোচিত হক ছাড়াও অন্য হকের কথা বলা হয়েছে।
إذَا لَقِيْتَهُ فَسَلِّمْ عَلَيْهِ: যদি মুসলমানের সাথে সাক্ষাৎ হয়, অথবা তার ঘরে প্রবেশের প্রয়োজন হয়। তাহলে তাকে বল—السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
و السلام: এটা আল¬াহর গুণবাচক নাম। অর্থাৎ, হে মোমিন তুমি আল¬াহর আশ্রয়ে থাক। কোন কোন আলেম বলেছেন, السلام অর্থাৎ নিরাপত্তা। তখন পূর্ণ অর্থ হবে—হে মোমিন ! তোমার জন্য আল¬াহর নিরাপত্তা অনিবার্য হোক।
وَ إذَا دَعَاكَ অর্থাৎ শরিয়ত সম্মত কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানালে তা গ্রহণ কর। যেমন অলিমা বা বউভাত—ইত্যাদি।
وَ إذَا اسْتَنْصَحَكَ فَانْصَحْ لَهُ : অর্থাৎ যদি কেউ উপদেশ চায় তাহলে উপদেশ দাও। হাদিসের বাহ্যিক অর্থে প্রতীয়মান হয় যে, উপদেশপ্রার্থীকে উপদেশ প্রদান করা ফরজ। আর যে প্রার্থী নয়, তাকে উপদেশ প্রদান মানদুব তথা নফল। যেহেতু তা ভাল কাজের পথ প্রদর্শনের অন্তর্গত।
فَشَمِّتْهُ কোন কোন বর্ণনায় الشين এর স্থলে السين দ্বারা বলা হয়েছে। অর্থাৎ হাঁচি দেয়া ব্যক্তির জন্য আল¬াহর নিকট দোয়া করা।
فَعُدْهُ অর্থাৎ অসুস্থ মুসলমানের সাথে সাক্ষাত করে খোঁজ খবর গ্রহণ কর।
وَ إذَا مَاتَ فَاتَّبِعْهُ মুসলমানের মৃত্যুর সংবাদ পেলে তার নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণ কর। এখানে আল¬াহর রাসূল উম্মতকে নামাজে জানাজায় অংশগ্রহণের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।


হাদিসের শিক্ষণীয় বিষয়

(১) সমস্ত মুসলমান ইটের গাঁথুনির প্রাচীরের ন্যায়। যার একাংশ অন্যাংশকে শক্তিশালী করে। সমস্ত মুসলমান ভাই ভাই। মুসলমানদের সমাজ ভ্রাতৃত্ববোধ ও সহানুভূতির শৃঙ্খলে আবদ্ধ। তাই রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম এমন কিছু হক বাতলে দিয়েছেন, যেগুলোর মাঝে সকলেই অংশীদার। যাতে সর্ব শ্রেণির মুসলমান সংঘবদ্ধভাবে ঈমান ও তাকওয়ার ভিত্তিতে ঐক্যের বলে বলীয়ান হতে পারে।
(২) যে সকল হক সমস্ত মুসলমানের মাঝে বিস্তৃত তার প্রথম হল সালাম। যাতে নিহিত আছে সালাম প্রাপ্ত ব্যক্তির জন্য আল¬াহর অনুগ্রহ, রহমত, শান্তি ও নিরাপত্তার দোয়া।
সালামের কতিপয় আদব তথা নিয়মাবলি
(ক) সালাম করা সুন্নতে মোয়াক্কাদা। আর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব। মহান আল¬াহ বলেন—
وَإِذَا حُيِّيتُمْ بِتَحِيَّةٍ فَحَيُّوا بِأَحْسَنَ مِنْهَا أَوْ رُدُّوهَ
আর তোমাদেরকে যদি কেউ দোয়া করে তাহলে তোমরাও তার জন্য দোয়া কর, তার চেয়ে উত্তম দোয়া কর অথবা তারই মত বল।
(খ) সংক্ষিপ্ত সালাম হল السلام عليكم আর পরিপূর্ণ সালাম হল
السلام عليكم و رحمة الله و بركاته
(গ) সালাম যারা করেন তারা যদি একাধিক হন তখন সবার পক্ষ থেকে একজনের সালামই যথেষ্ট। এমনিভাবে যারা সালাম গ্রহণ করছেন, তারা যদি একাধিক হন, তখন সবার পক্ষ থেকে একজন গ্রহণ করলেই যথেষ্ট।
কেননা রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন—
يجزئ عن الجماعة إذا مروا أن يسلم أحدهم، و يجزئ عن الجماعة أن يرد أحدهم. أبو داود(৪৫৩৪)
অর্থাৎ অনেক লোকের পক্ষ থেকে একজনের সালাম যথেষ্ট। আর অনেক লোকের পক্ষ থেকে একজনের উত্তর যথেষ্ট।
(ঙ) সালাম দু বার সুন্নত। প্রথমত: সাক্ষাতে, দ্বিতীয়ত: প্রস্থানে। রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন—
إذا انتهى أحدكم إلى مجلس فليسلم، فإن بدا له أن يجلس فليجلس ،ثم إذا قام فليسلم، فليست الأولى بأحق من الآخرة. رواه الترمذي(২৬২০)
তোমাদের মাঝে কেউ যখন জনসভায় গমন করবে, তখন উপস্থিত লোকদের সালাম করবে। যদি সেখানে অবস্থান করার ইচ্ছা থাকে, বসে পড়বে। অত:পর যখন সেখান থেকে বিদায় নিবে, তখনও তাদেরকে সালাম করবে। কেননা বিদায়ের সালাম কোন অংশে সাক্ষাতের সালাম থেকে কম গুরুত্বের নয়।
(ছ) সালামের আদব সমূহ থেকে এটাও একটি যে ছোট বড়কে সালাম করবে, আগমনকারী অবস্থানকারীকে, কমসংখ্যক অধিক সংখ্যককে, আরোহী পথচারীকে সালাম করবে।
(ঝ) হাদিস থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, সালাম শুধু মুসলমানকেই দেবে। অমুসলিমকে আগে সালাম দেওয়া যাবে না। কেননা, রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন,
رواه الترمذي ১৫২৮ لا تبدأوا اليهود و النصاري بالسلام…. অর্থাৎ তোমরা ইহুদি ও নাসারাদেরকে প্রথমে সালাম করবে না। যদি তারা সালাম করে তাহলে উত্তরে বলবে—
و عليكم‘তোমার উপরও।’
(ঞ) সালামের পরিবর্তে অন্য কোন শব্দ ব্যবহারে সালামের সুন্নত আদায় হবে না। যেমন শুভ সকাল কিংবা শুভ সন্ধ্যা—ইত্যাদি শব্দ ব্যবহার। কেননা, মুসলমানের শান্তি ও নিরাপত্তা কোন সময়ে সাথে নির্দিষ্ট নয়। বরং তাদের শান্তি ও নিরাপত্তা ইহকাল ও পরকাল—সবসময় বিস্তৃত। মহান আল¬াহ বলেন—
وَتَحِيَّتُهُمْ فِيهَا سَلَامٌ
অর্থাৎ, জান্নাতের মাঝে মোমিনদের অভিবাদন হবে সালাম।

মুসলমানদের মাঝে সালামের প্রচলন খুবই প্রয়োজনীয় একটি বিষয়। কারণ, এর মাধ্যমে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য সৃষ্টি হয়। এতে মানুষের অন্তর নিস্কলুষ হয়। রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেন—
ألأ أدلكم على شيء إذا فعلتموه تحاببتم، أفشوا السلام بينكم. رواه البخاري(৮১)
আমি তোমাদের এমন কিছুর সন্ধান দেব না, যা তোমরা পালন করলে তোমাদের পারস্পরিক প্রীতি সৃষ্টি হবে ? তোমরা পরস্পরের মাঝে সালামের প্রচলন কর।
(৩) মুসলমানদের দ্বিতীয় হক হবে দাওয়াত কবুল করা। মানুষের জীবনে এমন কিছু সময় আছে, যেগুলোতে মানুষের আনন্দ-উচ্ছ্বাস স্পন্দিত হয়। যেমন—বিয়ে-শাদি, সন্তান লাভ ও কর্মে সফলতা—ইত্যাদি। তখন আনন্দিত ব্যক্তি অন্যান্যকেও এতে সম্পৃক্ত করতে চায়। তাই ওলিমা ইত্যাদির মাধ্যমে অন্যদের আমন্ত্রণ জানায় এবং আনন্দিত মেহমানদের শুভাগমনে সেই ব্যক্তি খুবই খুশি হয়। সুতরাং, এহেন কাজে অংশগ্রহণ করে মুসলমানকে খুশি করা তার হক। হা, যদি উক্ত অনুষ্ঠানে শরিয়ত পরিপন্থী কোন কাজ হয় এবং আমন্ত্রিত ব্যক্তি তা প্রতিহত করার ক্ষমতা না রাখে তাহলে সে অনুষ্ঠানে না আসাই ভাল।
ওলিমা ছাড়া যত দাওয়াত আছে সেগুলোতে অংশগ্রহণ মোস্তাহাব। শুধু ওলিমার দাওয়াতে অংশগ্রহণ সম্বন্ধে অনেক ওলামায়ে কেরাম ওয়াজিব বলেছেন। কেননা, রাসূল সা. বলেছেন—
إذا دعي أحدكم إلي وليمة فليأتها. رواه مسلم (২৫৭৬)
যখন তোমাদেরকে কোন ওলিমায় আমন্ত্রণ করা হয় তখন অবশ্যই আসবে।
(৩) মুসলমানদের তৃতীয় হক হচ্ছে, সৎ উপদেশ প্রদান। সৎ উপদেশ ইসলামের মৌলিক নীতিমালা সমূহের অন্যতম একটি মূলনীতি। কোরআনের বহু আয়াত ও রাসূলের অনেক হাদিস এর প্রমাণ বহন করে।

নসিহত বা উপদেশের কতিপয় আদব
(ক) আদিষ্ট ব্যক্তিকে মনে রাখতে হবে যে, আদিষ্ট ব্যক্তি পাওনাদার। সুতরাং, সঠিক উপদেশে কোন প্রকার ধোঁকা-বাজি করবে না। এবং পরিপূর্ণ উপদেশ দানে কোন প্রকার ত্র“টি করবে না।
(খ) উপদেশ প্রার্থীকে উপদেশে দান ওয়াজিব। আর যে প্রার্থী নয়, তাকে উপদেশ দান মোস্তাহাব।
(গ) নসিহতের আরো এক অর্থ হল কল্যাণ কামনা। এই কল্যাণ কামনায় খলিফাতুল মুসলিমীন, সরকার প্রধান, প্রশাসক ও উলামায়ে কেরাম তথা সর্বস্তরের মুসলমানদের জন্য হতে পারে। খলিফাতুল মুসলিমীনের প্রতি কল্যাণ কামনার অর্থ হল তার আনুগত্য স্বীকার করা, তার বিরুদ্ধাচরণ না করা। এবং ভাল কাজে তার সমর্থন করা, উৎসাহিত করা। আর সাধারণ মুসলমানদের প্রতি কল্যাণ কামনা—যেমন পথহারা মানুষকে পথের সন্ধান দান, হারিয়ে যাওয়া বস্তু মালিকের নিকট পৌঁছে দেওয়া, মূর্খ লোকদের শিক্ষা দেওয়া—ইত্যাদি।
(ঙ) আজ্ঞাপ্রাপ্ত ব্যক্তি যদি একা হয় তখন উপদেশ হবে গোপনে। বুদ্ধিমত্তার আলোকে, উত্তম পদ্ধতিতে, অত্যন্ত কোমল ও আন্তরিকতার সাথে। কেননা, প্রকাশ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে উপদেশ দানের অর্থ হল তাকে অপমান করা। এবং উপদেশের ক্ষেত্রে কঠোরতা বর্জন করতে হবে। আল¬াহ তাআলা বলেন—
وَلَوْ كُنْتَ فَظًّا غَلِيظَ الْقَلْبِ لَانْفَضُّوا مِنْ حَوْلِكَ (آل عمران: ১৫৯)
আপনি যদি রূঢ় ও কঠিন হতেন, তাহলে তারা আপনার কাছ থেকে দূরে সরে যেত।
(ছ) সর্বাবস্থায় সমাজকে উপদেশ দানে সচেষ্ট থাকা। কেননা, উপদেশ যেমনিভাবে সমাজকে রক্ষা করে ধ্বংসের হাত থেকে, তেমনিভাবে সৃষ্টি করে পরস্পর আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্য-হৃদ্যতা।
(৫) মুসলমানের চতুর্থ হক হল হাঁচির উত্তর দেওয়া। এটা ইসলামের সুন্দরতম বৈশিষ্ট্য। নিম্নে তার হুকুম বর্ণিত হল—
(ক) মুসলমান যখন হাঁচি দেবে তখন বলবে আলাহামদু লিল¬াহ। রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন—
إذا عطس أحدكم فليقل: الَحمْدُ ِللِه، وليقل له أخوه أو صاحبه: يَرْحَمُكَ اللهُ، وليقل هو: يَهْدِيْكُمُ اللهُ وَيُصْلِحُ بَالَكُمْ. رواه البخاري(৫৭৫৬)
তোমাদের কেউ যখন হাঁচি দেবে তখন বলবে আল-হামদুলিল¬াহ ; আর শ্রোতা বলবে ইয়ারহামুকাল¬াহ (আল¬াহ আপনার প্রতি দয়া করুন) অত:পর যে ব্যক্তি হাঁচি দিয়েছে, সে বলবে, ইয়াহদিকুমুল¬াহু ওয়া ইয়ুছলিহু বালাকুম (আল¬াহ আপনাকে সৎপথ প্রদর্শন করুন ও আপনার সকল বিষয় গুছিয়ে দিন)। এখানে হাঁচি দেওয়ার পর আল হামদুলিল¬াহ বলার রহস্য এই যে, হাঁচির দ্বারা মস্তিষ্কে লুক্কায়িত ক্ষতিকর বাষ্প নির্গত হয়। সুতরাং হাঁচি আল¬াহর বিশেষ একটি নেয়ামত। তাই হাঁচির পর আলহামদুলিল¬াহ বলতে হয়।
(৬) মুসলমানদের পঞ্চম হক—অপর মুসলমান অসুস্থ হলে তাকে দেখতে গিয়ে সমবেদনা জানানো। এক্ষেত্রে বিশেষ লক্ষণীয় বিষয় রয়েছে—
(ক) অসুস্থ ব্যক্তির সাক্ষাৎ মুসলমানদের হক সমূহের অন্যতম হক। কেননা, সে শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বীয় আশা-আকাক্সক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থেকে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যায়। তখন তার এমন কিছুর প্রয়োজন যা তাকে সুস্থতার আশ্বাসের মাধ্যমে শক্তি-সাহস বৃদ্ধি করার ব্যাপারে সাহায্য করবে। এবং তার জন্য আল¬াহর নিকট দোয়া করবে।
(খ) অসুস্থ ব্যক্তির সাক্ষাতে রোগী যেমন উপকৃত হয়, তেমনি উপকৃত হয় সাক্ষাৎকারী। রোগীর উপকার যেমন—তার মনে প্রশান্তি আসে, ক্লান্তি দূর হয় ইত্যাদি। সাক্ষাৎকারীর উপকার যেমন তার পুণ্য লাভ হয়। তার নিজের সুস্থতার কথা স্মরণ করে আল¬াহর শুকরিয়া আদায় করে।
(গ) অসুস্থ ব্যক্তির সাক্ষাতের আদব সমূহের একটি হল, তার জন্য হাদিসে বর্ণিত দোয়া পড়া। যেমন
الّلهُمَّ رَبَّ النَاسِ، أَذْهِبِ البَأْسَ، وَاشْفِ اَنْتَ الشَّافِيْ، لاَ شِفَاءَ اِلاَّ شِفَاؤُكَ، شِفَاءٌ لاَ يِغَادِرُ سَقَما. رواه البخاري(৫২৪৩)
হে মানুষের প্রভু ! সমস্যা দূর করে দাও। এবং (এই ব্যক্তিকে) শেফা (সুস্থতা) দান কর। নিশ্চয় তুমি একমাত্র শেফাদানকারী। আপনার শেফা ছাড়া কোন শেফা নেই । এমন শেফা দাও, যে শেফা কোন রোগকে ছেড়ে দেয় না।
(ঙ) সাক্ষাৎকারীদের লক্ষ্য রাখতে হবে যে, তাদের সাক্ষাৎ যেন রোগীর কষ্টের কারণ না হয়। তাই উপযুক্ত সময়ে সাক্ষাৎ করবে ও ডাক্তারদের সাজেশন মেনে চলবে।
(৭) মুসলমানদের ষষ্ঠ হক হল নামাজে জানাজা ও দাফন-কাফনে অংশগ্রহণ করা। মৃত্যু আল¬াহর পক্ষ থেকে অবধারিত সত্য। যা প্রত্যেক প্রাণীর দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে পরকালের জীবনের সূচনা করে। এবং এতে মানুষের আমলের পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। তাই মৃত ব্যক্তি সর্বাপেক্ষা বেশি অসহায়। সুতরাং ইসলাম নামাজে জানাজাকে মুসলমানদের হক বলে আখ্যায়িত করেছে। যেন অন্য মুসলমান মৃত ব্যক্তির জন্য রহমত মাগফিরাত ও নাজাতের জন্য নামাজে জানাজার মাধ্যমে আল¬াহর নিকট দোয়া করে। আর এ কাজে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য আল¬াহ এতে অনেক পুণ্য রেখেছেন। যেমন রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বলেছেন—
من شهد الجنازة فله قيراط، ومن شهدها حتى تدفن فله قيراطان، قيل: وما القيراطان ؟ قال: مثل الجبلين العظيمين. رواه البخاري(১২৪০)
যে ব্যক্তি জানাজায় অংশগ্রহণ করল সে এক কিরাত পরিমাণ নেকি পেল। আর যে জানাজা ও দাফন—উভয় কাজে অংশগ্রহণ করবে সে দু কিরাত পরিমাণ নেকি পাবে। প্রশ্ন করা হল,  দু কিরাত কি ? রাসূল সাল¬াল¬াহু আলাইহি ওয়াসাল¬াম বললেন, দু কিরাত হল দুই বড় পর্বত সদৃশ।

*******************************

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s