আহলান সাহলান হে মাহে রামাযান


সন্মানিত পাঠক! আসছে রামাযান মাস। আসছে খুশির দিন খুশির মুহুর্ত। দৃহ প্রতিজ্ঞার পর ১১টি মাস পেরিয়ে সর্ব উত্তম মাস রামাযান মাসের আগমণ। আমরা প্রস্তুতি গ্রহণ করি, পরিপূর্ণ প্রস্তুতি। আর এ লক্ষ্যে ক’টি কথা। আল্লাহ আমাদের সকলকে রামাযান মাসের রোযা পালন করত দুনিয়া-আখিরাতে সৌভাগ্যশীল করুন। আমীন।
সিয়াম শব্দের অর্থঃ
সিয়াম শব্দটি আরবী, অর্থ হলোঃ বিরত থাকা।
শরীয়তের পরিভাষায় সিয়ামের অর্থ হলোঃ সুবহি সাদিক বা ফজর উদিত হওয়া থেকে সূর্চাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও স্ত্রী সম্ভোগ থেকে বিরত থাকা।
ব্যাপক অর্থে সিয়াম বলা হয়ঃ সুবহে সাদিক থেকে সূর্চাস্ত পর্যন্ত পানাহার স্ত্রী সম্ভোগ এবং অঙ্গ প্রত্যঙ্গ যেমন- হাত, পা, চক্ষু, কর্ণ, মস্তিস্ক ইত্যাদিসহ দেহ ও মনকে অন্যায় অপরাধ ও সকল নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত রাখা।
শুধু মাত্র পানাহার পরিহার করাকে শরীয়তের পরিভাষায় সিয়াম বলা হয়না এ ক্ষেত্রে বলা যেতে পারে সমাজে অনেক প্রকার মানুষ পরিলক্ষিত হয় এবং তাদের মাঝে এমনও আছে যারা শরীয়তের পরিভাষায় সিয়াম বা রোযা পালন করেন না এ জন্য তারা আল্লাহর নিকট তাদের সিয়ামের প্রতিদান কামনা করতেও পারেন না। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
مَنْ لَمْ يَدَعْ قَوْلَ الزُّورِ وَالْعَمَلَ بِهِ وَالْجَهْلَ فَلَيْسَ لِلَّهِ حَاجَةٌ أَنْ يَدَعَ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ
যে মিথ্যা বলা ও অজ্ঞতামূলক কর্ম পরিত্যাগ করল না অথচ খানা-পিনা পরিহার করে রোযা রাখল এধরণের রোযা আল্লাহর নিটক মূল্যহীন। (বুখারী শরীফ)

সিয়ামের হুকুম বা বিধানঃ
সিয়াম পালন করা একটি ফরয ইবাদত। আল্লাহ তা‘আলা বলেনঃ
{يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ}
ঈমানদারগণ!, তোমাদের উপর সিয়াম ফরয করা হয়েছে, যেমন ফরয করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মাতের উপর। যাতে তোমরা মুত্তাকী হতে পার। (সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৮৩)
}شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِيْ أُنْزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدىً لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِنَ الْهُدَى وَالْفُرْقَانِ – فَمَنْ شَهِدَ مِنْكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ{
রামাযান হলো সেই মাস যে মাসে কুরআন নাযিল হয়েছিল। মানবজাতির জন্য হিদায়াত ও সুস্পষ্ট পথ নির্দেশক এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য নির্ণয়কারী। কাজেই তোমাদের মধ্যে যারাই এ মাস পাবে তারা যেন অবশ্যই সিয়াম পালন করে। (সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৮৫)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
بُنِىَ الإِسْلاَمُ عَلَى خَمْسٍ شَهَادَةِ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَنَّ مُحَمَّدًا رَسُولُ اللَّهِ ، وَإِقَامِ الصَّلاَةِ ، وَإِيتَاءِ الزَّكَاةِ، وَالْحَجِّ ، وَصَوْمِ رَمَضَانَ
ইসলামের ভিত্তি বা মৌলিক বিষয় পাঁচটিঃ সাক্ষ্য দেয়া আল্লাহ ছাড়া আর সত্যিকার কোন মাবুদ নেই এবং মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহর রাসূল, নামায কায়েম করা, যাকাত দেয়া, হজ্জ আদায় করা এবং রমজান মাসের সিয়াম পালন করা। (বুখারী ও মুসলিম)

যে পদ্ধতিতে স্বাগত জানাবঃ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে রামাযান আগমণের সুসংবাদ দিতেন। যাতে তারা এ মাসে তওবা ও সৎ আমলের জন্য উত্তমভাবে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে পারে।
(১) রমাযান মাস আগমণের পূর্ব থেকে দুআ করা কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সালাফে সালেহীনগণ রমাযানের ভালোবাসায় দুই মাস পূর্বে থেকে তাকে পাওয়ার জন্য আল্লাহর নিকট দুআ করতেন।
« اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِى شَهْرَيْ رَجَبٍ وَشَعْبَانَ وَبَارِكْ لَنَا فِى رَمَضَانَ »
উচ্চারণঃ আল্লাহুম্মা বারিকলানা ফী শাহরাই রাযাবা অশাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাযান”।
((এই দুআ সম্বলিত হাদীসটিকে শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইময়াহ সহীহ বরে ইঙ্গিক করেছেন কিন্তু হাফেয ইবনু হাজার দূর্বল বলে আখ্যা দিয়েছেন। দেখুনঃ ইক্বতিযা উছছিরাতিল মুস্তাক্বীম গবেষণাকৃত দ্বিতীয় খন্ড ৬২৮।
(২) রামাযান মাস আসার পূর্বেই নিয়্যত দৃহ করা ও নিষ্ঠার সাথে সিয়াম পালন করা কেননা আল্লাহর জন্য কোন কর্ম নিষ্ঠার সাথে না হলে সে কর্মও আল্লাহর দরবারে গ্রহণযোগ্যও নয়। আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
}وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ{
তাদেরকে এছাড়া কোন নির্দেশ করা হয়নি যে, তারা খাঁটি মনে একনিষ্ঠভাবে আল্লাহ্‌র এবাদত করবে। (বাইয়্যেনাহ, আয়াতঃ ৫)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ ، وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি সিয়াম পালন করবে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের উদ্দেশে তার জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে এবং যে ব্যক্তি কদরের রাত্রি জাগবে ঈমানের সাথে এবং সওয়াবের উদ্দেশে তার জীবনের সকল গুনাহ মাফ করে দেয়া হবে। (বুখারী ও মুসলিম)
(৩) রমাযান মাসে অধিকহারে দূআ করা কেননা দূআ হলো একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। যে ব্যক্তি একনিষ্ঠভাবে দূআ করে আল্লাহ তার দুআ গ্রহণ করে থাকেনঃ আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
}وَإِذَا سَأَلَكَ عِبَادِي عَنِّي فَإِنِّي قَرِيبٌ أُجِيبُ دَعْوَةَ الدَّاعِ إِذَا دَعَانِ فَلْيَسْتَجِيبُوا لِي وَلْيُؤْمِنُوا بِي لَعَلَّهُمْ يَرْشُدُونَ{
আর আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে আমার ব্যাপারে- বস্তুত আমি রয়েছি সন্নিকটে। যারা প্রার্থনা করে, তাদের প্রার্থনা কবুল করে নেই, যখন আমার কাছে প্রার্থনা করে। কাজেই আমার হুকুম মান্য করা এবং আমার প্রতি নিঃসংশয়ে বিশ্বাস করা তাদের একান- কর্তব্য। যাতে তারা সৎপথে আসতে পারে। (সূরা বাকারাহ, আয়াতঃ ১৮৬)
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
« إِنَّ لِلصَّائِمِ عِنْدَ فِطْرِهِ لَدَعْوَةً مَا تُرَدُّ ».
নিশ্চয় সিয়াম পালনকারীর ইফতারের সময়ের দুআ প্রত্যাখ্যান করা হয় না। (ইবনে মাজাহ শরীফ)

(৪) তওবা করা এবং সকল প্রকার পাপ কাজ পরিত্যাগ করার দৃহ অঙ্গিকার করা।
একনিষ্ঠভাবে তওবার মাধ্যমে আল্লাহ তা’য়ালা সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেন। এ মাসেও যদি তওবা না করি তাহলে আর কখন? আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ
}وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعاً أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ{
তোমরা সবাই আল্লাহ্‌র কাছে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা নূর, আয়াতঃ ৩১)

(৫) ফরয ইবাদাতসমূহের প্রতি গুরুত্ব দেয়া। কেননা সমাজে পরিলক্ষিত অনেকে সিয়াম পালন করেন কিন্তু ফরয নামাযসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালনের ক্ষেত্রে শিথিলতা করেন যা ঈমানের পরিপন্থী। ঈমানের দাবী হলো ঈমানদার ঈমানের মৌলিককাজগুলো কখনো পরিহার করবে না, যা পরিহারের ফলে কখনো ঈমানের ত্রুটি ঘটতে পারে। বিশেষ করে কালেমার সাথে সাথে নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত হলো ঈমানের মৌলিক বিষয় এবং এগুলোর মাঝে অধিক গুরুত্বপূর্ণ হলো নামায যে আমল ইচ্ছাকৃত ভাবে পরিহারে আল্লাহর সাথে কুফুরী করা হয়, আমল বা কর্ম বিষয়ে সর্বপ্রথম নামায সম্পর্কেই জিজ্ঞাসা করা হবে।
(৬) আত্মসমালোচনা করা এবং নিজের আমলকে সংশোধণ করে নেয়া।
(৭) রামাযান মাসের আগমণ ঘটলে অধিকহারে আল্লাহর প্রশংসা করা কেননা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহের মাঝে এটিও একটি বড় অনুগ্রহ রামাযানকে আপনার মাঝে পৌছিয়ে দিয়েছেন যার মাধ্যমে আমাদের জীবনের পাপ রাশিগুলো মুছিয়ে নেয়ার সুযোগ গ্রহণ করতে পারেন। কেননা অনেক মানুষ আছে যাদের ভাগ্যে এ রামাযান মাস আর ফিরে আসেনি রামাযান আগমণের পূর্বেই বিদায় গ্রহণ করেছে।
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমজানের সিয়াম পালন করে তার পূর্বকৃত সমস্ত পাপ মোচন করা হয় (বুখারী শরীফ)

সিয়ামের ফজীলত
(১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ
إِذَا دَخَلَ رَمَضَانُ فُتِّحَتْ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ ، وَغُلِّقَتْ أَبْوَابُ جَهَنَّمَ ، وَسُلْسِلَتِ الشَّيَاطِينُ
যখন রামাযান মাস শুরু হয় তখন আসমানের দরজা সমূহ খোলা হয়। জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শিকল পরানো হয়। (বুখারী শরীফ)
(২) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেনঃ
مَنْ صَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَمَنْ قَامَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ
যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় রমযানের সিয়াম পালন করে তার পূর্বকৃত সমস্ত পাপ মোচন করা হয় এবং যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াবের আশায় লায়লাতুল কদরের রাতে কিয়াম করে তারও পূর্বকৃত সকর গুনাহ মোচন করা হয়। (বুখারী ও মুসলিম শরীফ)
(৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেনঃ
«الصِّيَامُ جُنَّةٌ ، فَلاَ يَرْفُثْ وَلاَ يَجْهَلْ ، وَإِنِ امْرُؤٌ قَاتَلَهُ أَوْ شَاتَمَهُ فَلْيَقُلْ إِنِّى صَائِمٌ . مَرَّتَيْنِ ، وَالَّذِى نَفْسِى بِيَدِهِ لَخُلُوفُ فَمِ الصَّائِمِ أَطْيَبُ عِنْدَ اللَّهِ تَعَالَى مِنْ رِيحِ الْمِسْكِ ، يَتْرُكُ طَعَامَهُ وَشَرَابَهُ وَشَهْوَتَهُ مِنْ أَجْلِى ، الصِّيَامُ لِى ، وَأَنَا أَجْزِى بِهِ ، وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا»
রোজা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং রোজাদার অশ্লীল কথা বলবেনা এবং মূর্খের ন্যায় আচরণ করবেনা। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া করে অথবা গালি দেয় সে যেন বলে আমি রোজাদার। এ কথাটি দু’বা বলবে। ঐ সত্বার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে রোজাদারের মুখের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তরীর সুগন্ধি থেকেও উত্তম। আমার ভয়ে সে তার পানা-হার এবং কামস্পৃহা পরিত্যাগ করে থাকে। রোজা আমার উদ্দেশ্যেই। সুতরাং আমি বিশেষভাবে রোজার পুরস্কার প্রদান করব। আর নেক কাজের পুরস্কার দশগুণ পর্যন্ত দেয়া হয়ে থাকে। (বুখারী শরীফ)

(৪) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেনঃ
إِنَّ فِي الْجَنَّةِ بَابًا يُقَالُ لَهُ الرَّيَّانُ يَدْخُلُ مِنْهُ الصَّائِمُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ لَا يَدْخُلُ مَعَهُمْ أَحَدٌ غَيْرُهُمْ يُقَالُ أَيْنَ الصَّائِمُونَ فَيَدْخُلُونَ مِنْهُ فَإِذَا دَخَلَ آخِرُهُمْ أُغْلِقَ فَلَمْ يَدْخُلْ مِنْهُ أَحَد
জান্নাতে একটি দরজা রয়েছে যার নাম হলো রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন ঐ দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশ করবে কেবলমাত্র সিয়াম পালনকারী ব্যক্তিরা। ঐ দরজা দিয়ে সিয়াম পালনকারী ব্যতীত আর কেউই প্রবেশ করতে পারবে না। বলা হবে সিয়াম পালনকারীগণ কোথায়? তখন তারা সেই দরজা দিয়ে প্রবেশ করবেন, তারা ব্যতীত ঐদরজা দিয়ে আর কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। যখন তারা প্রবেশ করা সমাপ্ত হবে তখন সেই দরজা বন্ধ করে দেয়া হবে। ফরে আর কেউ সে দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। (বুখারী ও মুসলিম)
(৫) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অন্যত্র বলেনঃ
الصِّيَامُ وَالْقُرْآنُ يَشْفَعَانِ لِلْعَبْدِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ يَقُولُ الصِّيَامُ أَيْ رَبِّ مَنَعْتُهُ الطَّعَامَ وَالشَّهَوَاتِ بِالنَّهَارِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ وَيَقُولُ الْقُرْآنُ مَنَعْتُهُ النَّوْمَ بِاللَّيْلِ فَشَفِّعْنِي فِيهِ قَالَ فَيُشَفَّعَانِ
“কিয়ামত দিবসে সিয়াম ও কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। সিয়াম বলবে, হে রব! আমি তাকে দিনের বেলায় খানা-পিনা ও প্রবৃত্তির কাজ থেকে বিরত রেখেছিলাম। তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবূল কর। কুরআন বলবেঃ আমি তাকে রাতের বেলায় নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছিলাম (অর্থাৎ- সে রাত জেগে আমাকে পাঠ করেছে) তাই তার ব্যাপারে আমার সুপারিশ কবূল কর। তখন তাদের সুপারিশ গ্রহণ করা হবে।” (মুসনাদে আহমদ ও মুসতাদরাক হাকিম)
(৬) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন আল্লাহ তা’য়ালা বলেনঃ (হাদীস কুদসী)
كُلُّ عَمَلِ ابْنِ آدَمَ لَهُ إِلَّا الصِّيَامَ فَإِنَّهُ لِي وَأَنَا أَجْزِي بِهِ
আদম সন্তাদের প্রতিটি আমল তার জন্য সিয়াম ব্যতীত আর সিয়াম হলো একমাত্র আমার জন্য অতএব আমিই তার প্রতিদান দান করবো। (বুখারী ও মুসলিম)
আল্লাহ তা’য়ালা আমাদেরকে সঠিক ভাবে সিয়াম পালন করার তৌফিক দিন। জীবনের সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিন। আমাদের জীবনকে সঠিক পথে পরিচালনা করার সুব্যবস্থা দান করুন।

********************

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s